
বরগুনায় জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পৃথক বিশেষ অভিযানে ইয়াবা, গাঁজা ও মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত যানবাহনসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ছাড়া হানিট্র্যাপ চক্রের দুই সদস্যকে আটক করে ভুক্তভোগীর খোয়া যাওয়া মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বরগুনার পুলিশ সুপার মো. কুদরত-ই-খুদা, পিপিএম-সেবার নির্দেশনায় সোমবার (১২ অক্টোবর) জেলা গোয়েন্দা পুলিশের পৃথক দল এসব অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে নেতৃত্ব দেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মুকিত হাসান খাঁন, খন্দকার আশফাকুজ্জামান ও ইশতিয়াক আহমেদ।
পুলিশ জানায়, সোমবার সন্ধ্যা ৬টা ৫ মিনিটে বরগুনা সদর উপজেলার গৌরিচন্না ইউনিয়নের পশ্চিম ধূপতি এলাকায় অভিযান চালিয়ে ২১ পিস ইয়াবা, ৬৪০ টাকা, একটি ব্যাটারিচালিত মিশুক ও দুটি বাটন মোবাইল ফোনসহ স্বপন (২৮) ও তারেক (২৬) নামে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
একই দিন রাত সাড়ে ৮টার দিকে কেওড়াবুনিয়া ইউনিয়নের জাকিরতবক এলাকায় চেকপোস্ট বসিয়ে একটি মোটরসাইকেল থেকে ১ দশমিক ৯ কেজি গাঁজা, ৯ পিস ইয়াবা, একটি বাজাজ প্লাটিনা মোটরসাইকেল, দুটি মোবাইল ফোন ও একটি মানিব্যাগ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় রুবেল সিকদার (৩৪) নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। উদ্ধার করা গাঁজার আনুমানিক বাজারমূল্য ১ লাখ ৫২ হাজার টাকা বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এ ছাড়া বরগুনা সদর এলাকায় পৃথক অভিযানে হানিট্র্যাপ চক্রের দুই সদস্যকে আটক করা হয়। এ সময় ভুক্তভোগীর খোয়া যাওয়া একটি মোবাইল ফোন উদ্ধার এবং চক্রের কাজে ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়। এ ঘটনায় বরগুনা থানায় ১২ অক্টোবর মামলা করা হয়েছে।
অন্যদিকে, জাকিরতবক এলাকায় পৃথক চেকপোস্ট অভিযানে গাঁজাসহ আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ।
বরগুনা জেলা পুলিশ জানিয়েছে, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ও দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। মাদক সরবরাহকারী ও ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি মাদক কারবারে সহযোগিতা এবং এর মাধ্যমে অবৈধ সুবিধা গ্রহণকারীদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মাদক নির্মূলে অভিযান অব্যাহত থাকবে।
মাদক, ব্ল্যাকমেইলিং ও প্রতারণা প্রতিরোধে জনসাধারণকে সচেতন থাকার পাশাপাশি অপরাধসংক্রান্ত তথ্য নিকটস্থ থানায় অথবা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে জানানোর আহ্বান জানিয়েছে জেলা পুলিশ।

মোহাম্মদ মেজবাহ উদ্দিন মাসুম : 
















