
বরগুনার আমতলীতে অগ্নিকাণ্ডে তিন টি দোকান পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এ ছাড়া একটি প্রতিষ্ঠানের আংশিক ক্ষতি হয়েছে। এতে প্রায় ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা।
সকাল ৮টার দিকে আমতলী পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডে সরকারি কলেজের সামনে জেলা পরিষদ মার্কেটে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানগুলো হলো বাহার লাইব্রেরি, বাবা-মায়ের দোয়া গার্মেন্টস এবং সুমাইয়া কসমেটিকস। এর মধ্যে প্রথম দুটি প্রতিষ্ঠান সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে এবং কসমেটিকসের দোকানটির আংশিক ক্ষতি হয়েছে।
স্থানীয় ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, সকালে মার্কেটের বাহার লাইব্রেরি থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন পাশের গার্মেন্টস ও কসমেটিকসের দোকানে ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে আমতলীর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে এবং প্রায় দেড় ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হয়।
ক্ষতিগ্রস্ত গার্মেন্টস ব্যবসায়ী মিলন হাওলাদার বলেন, প্রতিদিনের মতো রাতে দোকান বন্ধ করে বাড়িতে চলে যান তিনি। সকালে দোকানে আগুন লাগার খবর পান। আগুনে কোনো মালামালই বের করতে পারেননি। এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানটি গড়ে তুলেছিলেন তিনি। এখন কীভাবে ঋণ পরিশোধ করবেন, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। এ ব্যপারে তিনি সরকারি সহযোগিতা কামনা করেন।
বাহার লাইব্রেরির মালিক খলিলুর রহমান বলেন, আগুনে তাঁর দোকানের সবকিছু পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। কিছুই রক্ষা করতে পারেননি। প্রায় ১০ থেকে ১৫ লাখ টাকার বই পুড়ে গেছে বলে দাবি করেন তিনি।
প্রত্যক্ষদর্শী চপল চন্দ্র বলেন, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় কেউ আগুন নেভানোর সাহস করেননি। চোখের সামনে দোকানগুলো পুড়ে যেতে দেখেছেন তাঁরা। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে।
আমতলী ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ওয়্যার হাউস ইনচার্জ মো. মাহবুব হোসেন বলেন, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। প্রায় দেড় ঘণ্টার চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অগ্নিকাণ্ডে আনুমানিক ২৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে ধারনা করা হয়।
আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পৌর প্রশাসক হাসান মো. হাফিজুর রহমান জানান, তিনি সকালে অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়েছেন। তিনি বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে।
এক ধরনের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা আমতলীতে ব্যবসায়ীদের মনে আতঙ্কে সৃষ্টি করেছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলেন, অগ্নিকাণ্ডের জন্য পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা প্রয়োজন। এটি একটি নিছক দুর্ঘটনা নয় এটি একটি দুর্যোগও বটে। তাই ব্যবসায়ী ও সকলের সহযোগিতা ওর সচেতনতা অত্যন্ত জরুরী।

মোহাম্মদ মেজবাহ উদ্দিন মাসুম : 








