Dhaka ০৩:০৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
দুর্নীতি ও অব্যবস্থার আঁতুড়ঘর নাগরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স শিবচরে জাতীয় যুব দিবস উদযাপন, সফল যুব সংগঠক ও আত্মকর্মীদের সম্মাননা প্রদান যৌতুকের জমির জেরে ডিমলায় সংঘর্ষ: ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে প্রতিপক্ষের পিটুনিতে মা নিহত, আটক ৪ সরাইল ব্যাটালিয়ন (২৫ বিজিবি) কর্তৃক ৯০ লাখ টাকারও বেশি মূল্যের ভারতীয় উন্নতমানের শার্টের থান কাপড়সহ কাভার্ড ভ্যান আটক রাস্তা-সাঁকোর পর এবার কালভার্ট সংস্কারে যুবদল নেতা এনায়েত সত্যের সন্ধানে অবিরাম ১১ বছরে দৈনিক আমাদের প্রতিদিন কালীগঞ্জে সাংবাদিকদের সঙ্গে প্রাইভেট ক্লিনিক মালিকদের মতবিনিময় সভা সন্তানের জন্মদিন ও দাদার মৃত্যুবার্ষিকীতে নাগরপুরে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত বাহুবলে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে পিকআপ-কাভার্ড ভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ১ কালীগঞ্জে জমি নিয়ে বিরোধে তিন ভাইকে কুপিয়ে জখম, দুইজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক

দুর্নীতি ও অব্যবস্থার আঁতুড়ঘর নাগরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

স্বেচ্ছাচারিতা অনিয়ম ও দুর্নীতির আখড়ায় পরিনত হয়েছে টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। রোগীদের খাদ্য ও বিনামূল্যে ঔষধ বিতরণে চরম অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া এমএসআর সামগ্রী, রোগীদের পথ্য, ময়লা কাপড় চোপড় ধোলাই ও কম্পিউটার সামগ্রী, কম্পিউটার ও আনুসাঙ্গিক অন্যান্য মনোহারী, আসবাবপত্র সামগ্রী সেবা ক্রয় সংক্রান্ত টেন্ডারে চরম অনিয়ম ও দূর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগ উঠেছে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আব্দুল কাদীরের বিরুদ্ধে।

সূত্রে জানা যায়, উপজেলার প্রায় ৫ লক্ষ জনগণের স্বাস্থ্য সেবার এক মাত্র অবলম্বন নাগরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। এ কমপ্লেক্সটি বর্তমানে দুর্নীতি গ্রস্থ্য প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। অসময়ে সাধারণ রোগী হাসপাতালে নিয়ে গেলে অপারগতা প্রকাশ করে সদর হাসপাতালে প্রেরন করে, রোগীদের নানা ভাবে হয়রানি করা হয় বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। এ ছাড়া হাসপাতাল কম্পাউন্ডের ভিতরে বেআইনি ভাবে স্থাপনা নির্মাণ করে একাধিক পরিবার বসবাস করছেন।

আরও পড়ুনঃ  নাগরপুরে হিফজুল কুরআন ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত

হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা বাদল শেখ নামের এক ব্যক্তি জানান, হাসাপাতালের বিভিন্ন স্থানে নোংড়া আবর্জনায় ভরা এদিকে কারো কোন নজর নেই। নামেই শুধু সরকারী হাসাপাতাল। এখানে মান সম্মত চিকিৎসার কোন বালাই নেই। স্বাস্থ্য কর্মকর্তাসহ বেশির ভাগ চিকিৎসক ক্লিনিকে প্রাইভেট প্র্যাক্টিসে ব্যস্ত থাকেন।

অভিযোগে আরোও জানা যায়, ২০২৬-২৭ অর্থ বৎসরে ৫০ শয্যা বিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ইউনিয়ন উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্র সমূহের জন্য স্থানীয় ভাবে এমএসআর সামগ্রী, রোগীদের পথ্য, ময়লা কাপড় চোপড় ধোলাই ও কম্পিউটার সামগ্রী, কম্পিউটার ও আনুসাঙ্গিক অন্যান্য মনোহারী, আসবাবপত্র সামগ্রীক সেবা ক্রয় বা সংগ্রহ কার্যক্রম বাস্তবায়নের লক্ষে বার্ষিক ক্রয় পরিকল্পনা (এপিপি) তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করেন, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আব্দুল কাদীর। সেই কমিটিতে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ আব্দুল কাদির সভাপতি, জুনিয়র কনসালটেন্ট সহকারী অধ্যাপক (ইনসিটু) ডাঃ আব্দুল্লাহ আল মূতীকে সদস্য ও আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ মো. ফরহাদ আলীকে সদস্য সচিব করে ২৩ই সেপ্টম্বর ২০২৬ তারিখে টেন্ডার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়।

আরও পড়ুনঃ  আমতলীতে দোকানে অগ্নিকাণ্ড ২৫ লাখ টাকা ক্ষতির আশংকা

তার ইচ্ছে মতো কমিটি গঠন করে ২০২৬-২৭ অর্থ বছরের জন্য দরপত্র আহবান করেন। পরবর্তিতে বিজ্ঞপ্তি মোতাবেক ২৪ই সেপ্টম্বর সকাল ১০টা হইতে ৪ অক্টোম্বর বিকেল ৪টা পর্যন্ত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এর ওয়েব সাইডে অনলাইনে দরপত্র ক্রয় ও জমা দেওয়ার সময় দেওয়া হয়। পর দিন ৫ অক্টোম্বর বিকেল ১টায় দরপত্র ওপেন করার সময় দিয়ে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। পরবর্তীতে ৬টি গ্রুপের মধ্যে মেসার্স সাইফুল টেডার্স ৩টি, মেসার্স সরকার এন্টার প্রাইজ ২টি ও মেসার্স লাকি টেডার্স ১টি গ্রুপকে চুড়ান্ত অনুমোদনের জন্য সুপারিশ পাঠান নির্বাচন ও স্পেসিফিকেশন কমিটি।

সুপারিশের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ৬টি গ্রুপের মালামাল ক্রয়ে ওই ৩টি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে অনুমোদন দেন বলে জানান উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা। দরপত্রে অংশ গ্রহনে ব্যর্থ ঠিকারদারী প্রতিষ্ঠান মোস্তফা এন্টার প্রাইজের স্বতাধিকারী গোলাম মওলা মোস্তফা অভিযোগ করে বলেন, অন্য কোন ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান দরপত্রে যেন অংশ গ্রহন করতে না পারে এজন্য তার ইচ্ছে মতো শর্ত জুড়ে দেন উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা। শর্ত দিয়েও ক্ষ্যান্ত হননি ওই কর্মকর্তা তিনি তার পছন্দের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে কাজ পাইয়ে দিতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এর ওয়েব সাইডের সার্ভার ডাউন করে রাখেন। ফলে অন্য কোন ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান দরপত্রে অংশ গ্রহন থেকে বঞ্চিত হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  শিবচরে যুব দিবস উদ্‌যাপন, প্রশিক্ষণার্থীদের মাঝে সনদ ও ঋণ বিতরণ

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ আব্দুল কাদির এ প্রসঙ্গে বলেন, বিধিমালা মোতাবেক সম্পূর্ণ নিয়ম তান্ত্রিক ভাবে টেন্ডার প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করা হয়েছে। এখানে কোন প্রকার অনিয়ম ও স্বজন প্রীতির সুযোগ নেই। হাসাপাতালে স্থাপনা বিষয়ে তিনি বলেন, মসজিদের ইমাম বসবাস করেন। কিছু দিনের মধ্যে সরিয়ে দেওয়া হবে।

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

দুর্নীতি ও অব্যবস্থার আঁতুড়ঘর নাগরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

দুর্নীতি ও অব্যবস্থার আঁতুড়ঘর নাগরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

আপডেটের সময়: ১২:২২:৩৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬

স্বেচ্ছাচারিতা অনিয়ম ও দুর্নীতির আখড়ায় পরিনত হয়েছে টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। রোগীদের খাদ্য ও বিনামূল্যে ঔষধ বিতরণে চরম অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া এমএসআর সামগ্রী, রোগীদের পথ্য, ময়লা কাপড় চোপড় ধোলাই ও কম্পিউটার সামগ্রী, কম্পিউটার ও আনুসাঙ্গিক অন্যান্য মনোহারী, আসবাবপত্র সামগ্রী সেবা ক্রয় সংক্রান্ত টেন্ডারে চরম অনিয়ম ও দূর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগ উঠেছে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আব্দুল কাদীরের বিরুদ্ধে।

সূত্রে জানা যায়, উপজেলার প্রায় ৫ লক্ষ জনগণের স্বাস্থ্য সেবার এক মাত্র অবলম্বন নাগরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। এ কমপ্লেক্সটি বর্তমানে দুর্নীতি গ্রস্থ্য প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। অসময়ে সাধারণ রোগী হাসপাতালে নিয়ে গেলে অপারগতা প্রকাশ করে সদর হাসপাতালে প্রেরন করে, রোগীদের নানা ভাবে হয়রানি করা হয় বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। এ ছাড়া হাসপাতাল কম্পাউন্ডের ভিতরে বেআইনি ভাবে স্থাপনা নির্মাণ করে একাধিক পরিবার বসবাস করছেন।

আরও পড়ুনঃ  নাগরপুরে হিফজুল কুরআন ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত

হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা বাদল শেখ নামের এক ব্যক্তি জানান, হাসাপাতালের বিভিন্ন স্থানে নোংড়া আবর্জনায় ভরা এদিকে কারো কোন নজর নেই। নামেই শুধু সরকারী হাসাপাতাল। এখানে মান সম্মত চিকিৎসার কোন বালাই নেই। স্বাস্থ্য কর্মকর্তাসহ বেশির ভাগ চিকিৎসক ক্লিনিকে প্রাইভেট প্র্যাক্টিসে ব্যস্ত থাকেন।

অভিযোগে আরোও জানা যায়, ২০২৬-২৭ অর্থ বৎসরে ৫০ শয্যা বিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ইউনিয়ন উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্র সমূহের জন্য স্থানীয় ভাবে এমএসআর সামগ্রী, রোগীদের পথ্য, ময়লা কাপড় চোপড় ধোলাই ও কম্পিউটার সামগ্রী, কম্পিউটার ও আনুসাঙ্গিক অন্যান্য মনোহারী, আসবাবপত্র সামগ্রীক সেবা ক্রয় বা সংগ্রহ কার্যক্রম বাস্তবায়নের লক্ষে বার্ষিক ক্রয় পরিকল্পনা (এপিপি) তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করেন, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আব্দুল কাদীর। সেই কমিটিতে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ আব্দুল কাদির সভাপতি, জুনিয়র কনসালটেন্ট সহকারী অধ্যাপক (ইনসিটু) ডাঃ আব্দুল্লাহ আল মূতীকে সদস্য ও আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ মো. ফরহাদ আলীকে সদস্য সচিব করে ২৩ই সেপ্টম্বর ২০২৬ তারিখে টেন্ডার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়।

আরও পড়ুনঃ  সন্তানের জন্মদিন ও দাদার মৃত্যুবার্ষিকীতে নাগরপুরে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত

তার ইচ্ছে মতো কমিটি গঠন করে ২০২৬-২৭ অর্থ বছরের জন্য দরপত্র আহবান করেন। পরবর্তিতে বিজ্ঞপ্তি মোতাবেক ২৪ই সেপ্টম্বর সকাল ১০টা হইতে ৪ অক্টোম্বর বিকেল ৪টা পর্যন্ত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এর ওয়েব সাইডে অনলাইনে দরপত্র ক্রয় ও জমা দেওয়ার সময় দেওয়া হয়। পর দিন ৫ অক্টোম্বর বিকেল ১টায় দরপত্র ওপেন করার সময় দিয়ে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। পরবর্তীতে ৬টি গ্রুপের মধ্যে মেসার্স সাইফুল টেডার্স ৩টি, মেসার্স সরকার এন্টার প্রাইজ ২টি ও মেসার্স লাকি টেডার্স ১টি গ্রুপকে চুড়ান্ত অনুমোদনের জন্য সুপারিশ পাঠান নির্বাচন ও স্পেসিফিকেশন কমিটি।

সুপারিশের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ৬টি গ্রুপের মালামাল ক্রয়ে ওই ৩টি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে অনুমোদন দেন বলে জানান উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা। দরপত্রে অংশ গ্রহনে ব্যর্থ ঠিকারদারী প্রতিষ্ঠান মোস্তফা এন্টার প্রাইজের স্বতাধিকারী গোলাম মওলা মোস্তফা অভিযোগ করে বলেন, অন্য কোন ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান দরপত্রে যেন অংশ গ্রহন করতে না পারে এজন্য তার ইচ্ছে মতো শর্ত জুড়ে দেন উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা। শর্ত দিয়েও ক্ষ্যান্ত হননি ওই কর্মকর্তা তিনি তার পছন্দের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে কাজ পাইয়ে দিতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এর ওয়েব সাইডের সার্ভার ডাউন করে রাখেন। ফলে অন্য কোন ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান দরপত্রে অংশ গ্রহন থেকে বঞ্চিত হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  সত্যের সন্ধানে অবিরাম ১১ বছরে দৈনিক আমাদের প্রতিদিন

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ আব্দুল কাদির এ প্রসঙ্গে বলেন, বিধিমালা মোতাবেক সম্পূর্ণ নিয়ম তান্ত্রিক ভাবে টেন্ডার প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করা হয়েছে। এখানে কোন প্রকার অনিয়ম ও স্বজন প্রীতির সুযোগ নেই। হাসাপাতালে স্থাপনা বিষয়ে তিনি বলেন, মসজিদের ইমাম বসবাস করেন। কিছু দিনের মধ্যে সরিয়ে দেওয়া হবে।