
ফরিদপুরের সালথায় রাস্তা ও সাঁকো নির্মাণের পর এবার দীর্ঘদিন ধরে ভাঙা অবস্থায় পড়ে থাকা একটি কালভার্ট সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছেন উপজেলা যুবদলের সদস্যসচিব মো. এনায়েত হোসেন। ব্যক্তিগত অর্থায়নে রড, সিমেন্ট ও বালু দিয়ে ঢালাইয়ের মাধ্যমে কালভার্টটি সংস্কার করছেন তিনি। এর আগে নিজ উদ্যোগে ১৫০ ফুট ইটের রাস্তা নির্মাণ ও একটি বাঁশের সাঁকো তৈরি করে প্রশংসিত হন এই যুবদল নেতা।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বিকেলে উপজেলার ভাওয়াল ইউনিয়নের ইউসুফদিয়া-মোন্তার মোড় আঞ্চলিক সড়কের ইজারাপাড়া ডাঙ্গী জামে মসজিদসংলগ্ন স্থানে গিয়ে দেখা যায়, ভাঙা কালভার্টটির সংস্কারকাজ চলছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের চলাচল নির্বিঘ্ন করতে আরসিসি ঢালাইয়ের মাধ্যমে কালভার্টটি পুনরায় ব্যবহার উপযোগী করার উদ্যোগ নিয়েছেন এনায়েত হোসেন।
স্থানীয় বাসিন্দা হুমায়ুন মোল্লা বলেন, প্রায় দুই বছর আগে কালভার্টটির নিচের মাটি ধসে যাওয়ায় এটি একপাশে হেলে পড়ে এবং ভেঙে যায়। পরে সাময়িকভাবে চলাচলের সুবিধার্থে প্রশাসনের উদ্যোগে সেখানে কাঠের তক্তা বসানো হয়। কিন্তু চলতি বছরের বৃষ্টিতে সেগুলোও ভেঙে পড়ে। কয়েক দিন আগে কালভার্টটি পুরোপুরি ভেঙে দুই ভাগ হয়ে গেলে সড়কটিতে যানবাহন চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। এতে আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েন।
আরেক বাসিন্দা মোশাররফ হোসেন বলেন, সড়কটি মানুষের যাতায়াতের পাশাপাশি কৃষিপণ্য পরিবহনেরও গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। কালভার্টটি ভেঙে যাওয়ায় পাট, পেঁয়াজ ও ধানসহ বিভিন্ন ফসল বাজারে নেওয়া এবং কৃষি উপকরণ আনা-নেওয়ায় কৃষকদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বিশেষ করে ধান কাটার মৌসুমে এ দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে এনায়েত হোসেনের উদ্যোগে স্থানীয় মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে।
এ বিষয়ে এনায়েত হোসেন বলেন, ইউসুফদিয়া-মোন্তার মোড় সড়কের কালভার্টটি দীর্ঘদিন ধরে ভাঙা থাকায় এলাকার মানুষকে প্রতিনিয়ত দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আনা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। তবে স্থানীয় বাসিন্দা ও কৃষকদের দুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে আর অপেক্ষা না করে নিজ উদ্যোগে সংস্কারকাজ শুরু করেছি। ব্যক্তিগত অর্থায়নে রড, সিমেন্ট ও বালু দিয়ে আরসিসি ঢালাইয়ের মাধ্যমে কালভার্টটি চলাচলের উপযোগী করার চেষ্টা করছি। জনসাধারণের ভোগান্তি কমানোই আমার এ উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য।
এর আগে একই ইউনিয়নের তুগোলদিয়া গ্রামে পূজামণ্ডপে যাতায়াতের জন্য ১৫০ ফুট ইটের রাস্তা নির্মাণ এবং তুগোলদিয়া-ইউসুফদিয়ার সংযোগস্থলে একটি বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করেন এনায়েত হোসেন। স্থানীয়দের প্রয়োজনকে গুরুত্ব দিয়ে তাঁর এমন উদ্যোগে এলাকাবাসীর মধ্যে প্রশংসা দেখা গেছে।

আবুল বাসার : 








