Dhaka ০৫:৫৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬, ৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
পরিবেশ রক্ষায় কালীগঞ্জে শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেওয়া হলো ১,৭০০ চারা  বরগুনা জেলার তালতলী থানা থেকে একটি চায়না পিস্তল, ম্যাগাজিন ও চার রাউন্ড গুলি সহ পাঁচ জন গ্রেপ্তার মৌলভীবাজারে সাবেক প্রধান শিক্ষককে কক্ষে তালাবদ্ধ করে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ মাইজভাণ্ডারে সৈয়দ মইনুদ্দীন আহমদ (ক.)-এর ১৫তম ওরশের সমাপনী ডিমলার সমস্যা-সম্ভাবনা নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে এমপি আব্দুস সাত্তারের মতবিনিময় শিবচরে অজ্ঞাত নারীর মরাদেহ উদ্ধার, পরিচয় শনাক্তে কাজ করছে পুলিশ বিজয়নগরে আউশ ধানের বাম্পার ফলন, কৃষকের মুখে হাসি শিবচরে পুকুর থেকে এক বৃদ্ধের মরদেহ উদ্ধার চরভদ্রাসনে শেখ ইউসুফ আলী হত্যার বিচার ও ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন শিবচরে আমন ধান রোপনের ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকেরা

মাইজভাণ্ডারে সৈয়দ মইনুদ্দীন আহমদ (ক.)-এর ১৫তম ওরশের সমাপনী

  • রবিউল আলম :
  • আপডেটের সময়: ০৮:০৫:৫০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬
  • ৩৫ সময় দেখুন

মানবপ্রেম, আত্মশুদ্ধি, নৈতিকতা, সম্প্রীতি ও মানবকল্যাণের আদর্শে হযরত গাউছুল ওয়ারা, শায়খুল ইসলাম শাহসুফী সৈয়দ মইনুদ্দীন আহমদ আল-হাসানী ওয়াল-হোসাইনী আল-মাইজভাণ্ডারী (ক.)-এর জীবন ও কর্ম ছিল নিবেদিত। তাঁর জীবনদর্শনের মূল শিক্ষা ছিল আল্লাহ ও রাসুলপ্রেম, আত্মশুদ্ধি এবং সৃষ্টির প্রতি ভালোবাসা—এ কথা বলেছেন মাইজভাণ্ডার দরবার শরীফের সাজ্জাদানশীন হযরত শাহসুফী ড. সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ আল-হাসানী ওয়াল-হোসাইনী আল-মাইজভাণ্ডারী।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির মাইজভাণ্ডার দরবার শরীফে হযরত সৈয়দ মইনুদ্দীন আহমদ (ক.)-এর ১৫তম বার্ষিক পবিত্র ওরশ শরীফের ২ ভাদ্রের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

শাহসুফী ড. সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ বলেন, হযরত সৈয়দ মইনুদ্দীন আহমদ (ক.) মানুষের আত্মিক উন্নতি ও চরিত্র গঠনের পাশাপাশি মানবিক মূল্যবোধ, ভ্রাতৃত্ব, ভালোবাসা ও পারস্পরিক সম্প্রীতির শিক্ষা ছড়িয়ে দিতে জীবনব্যাপী কাজ করেছেন। মানুষের মধ্যে বিভেদ নয়, ভালোবাসা সৃষ্টি এবং বিদ্বেষের পরিবর্তে সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠাই ছিল তাঁর অন্যতম প্রধান শিক্ষা।

আরও পড়ুনঃ  পরিবেশ রক্ষায় কালীগঞ্জে শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেওয়া হলো ১,৭০০ চারা 

দেশের ধর্মীয় ও রাষ্ট্রীয় বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রেও সরকারকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি। ধর্মীয় উগ্রবাদী বা বিভাজনকামী কোনো গোষ্ঠীর প্ররোচনা কিংবা ফাঁদে না পড়ে সব পক্ষের ওলামা-মাশায়েখ, ধর্মীয় চিন্তাবিদ ও সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা করে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

তিনি বলেন, বিভিন্ন মত ও ধারার ওলামা-মাশায়েখদের সঙ্গে সমন্বিত আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে ভুল বোঝাবুঝি ও বিভাজনের সুযোগ কমবে। পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সংলাপ ও পরামর্শের সংস্কৃতিই জাতীয় ঐক্য ও সামাজিক স্থিতিশীলতা আরও সুদৃঢ় করতে পারে।

আরও পড়ুনঃ  চরভদ্রাসনে শেখ ইউসুফ আলী হত্যার বিচার ও ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন

দুই দিনব্যাপী এ ওরশ শরীফের কর্মসূচি ১৭ ও ১৮ আগস্ট অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিশেষ নসিহত, জিকির-আযকার, আলোচনা ও দোয়া মাহফিলসহ বিভিন্ন কর্মসূচি ছিল। সমাপনী দিনে আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে ওরশের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি হয়।

সমাপনী দিনের প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পাকিস্তান থেকে আগত আন্তর্জাতিক ইসলামিক স্কলার আল্লামা ড. মুহাম্মদ কাওকাব নূরানী ওকাড়ভী (মু.জি.না.)। এ ছাড়া বিষয়ভিত্তিক আলোচনা করেন অধ্যক্ষ মাওলানা মুহাম্মদ হাসান রেজা আল-কাদেরী, মাওলানা মুফতি বাকিবিল্লাহ আজহারী, মাওলানা ফখরুদ্দীন চাঁদপুরী, মাওলানা সৈয়দ আহমদুল হক মাইজভাণ্ডারীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত ওলামায়ে কেরাম।

আরও পড়ুনঃ  সালথায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩২০ শিক্ষার্থীর মাঝে বিনামূল্যে স্কুলড্রেস, পাটের ব্যাগ ও জুতা বিতরণ

বক্তারা হযরত সৈয়দ মইনুদ্দীন আহমদ (ক.)-এর জীবন, সাধনা, আধ্যাত্মিক দর্শন, মানবপ্রেম, নৈতিকতা ও সমাজকল্যাণমূলক আদর্শের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তাঁরা বলেন, আত্মশুদ্ধির সঙ্গে মানবসেবা, মানবপ্রেম, নৈতিকতা, সহনশীলতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার সমন্বয় ছিল তাঁর জীবনদর্শনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।

ওরশ শরীফে দরবারের খলিফাবৃন্দ, বরেণ্য ওলামা-মাশায়েখ, ভক্ত-আশেকান, মুরিদান এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানের শেষপর্বে প্রধান অতিথি হযরত শাহসুফী ড. সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ আল-মাইজভাণ্ডারী আখেরি মোনাজাত পরিচালনা করেন। মোনাজাতে হযরত সৈয়দ মইনুদ্দীন আহমদ (ক.)-এর ফয়েজ ও বরকত, মুসলিম উম্মাহর শান্তি ও ঐক্য, দেশ ও জাতির কল্যাণ এবং বিশ্বমানবতার শান্তি, সম্প্রীতি ও সমৃদ্ধি কামনা করা হয়।

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

পরিবেশ রক্ষায় কালীগঞ্জে শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেওয়া হলো ১,৭০০ চারা 

মাইজভাণ্ডারে সৈয়দ মইনুদ্দীন আহমদ (ক.)-এর ১৫তম ওরশের সমাপনী

আপডেটের সময়: ০৮:০৫:৫০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬

মানবপ্রেম, আত্মশুদ্ধি, নৈতিকতা, সম্প্রীতি ও মানবকল্যাণের আদর্শে হযরত গাউছুল ওয়ারা, শায়খুল ইসলাম শাহসুফী সৈয়দ মইনুদ্দীন আহমদ আল-হাসানী ওয়াল-হোসাইনী আল-মাইজভাণ্ডারী (ক.)-এর জীবন ও কর্ম ছিল নিবেদিত। তাঁর জীবনদর্শনের মূল শিক্ষা ছিল আল্লাহ ও রাসুলপ্রেম, আত্মশুদ্ধি এবং সৃষ্টির প্রতি ভালোবাসা—এ কথা বলেছেন মাইজভাণ্ডার দরবার শরীফের সাজ্জাদানশীন হযরত শাহসুফী ড. সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ আল-হাসানী ওয়াল-হোসাইনী আল-মাইজভাণ্ডারী।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির মাইজভাণ্ডার দরবার শরীফে হযরত সৈয়দ মইনুদ্দীন আহমদ (ক.)-এর ১৫তম বার্ষিক পবিত্র ওরশ শরীফের ২ ভাদ্রের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

শাহসুফী ড. সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ বলেন, হযরত সৈয়দ মইনুদ্দীন আহমদ (ক.) মানুষের আত্মিক উন্নতি ও চরিত্র গঠনের পাশাপাশি মানবিক মূল্যবোধ, ভ্রাতৃত্ব, ভালোবাসা ও পারস্পরিক সম্প্রীতির শিক্ষা ছড়িয়ে দিতে জীবনব্যাপী কাজ করেছেন। মানুষের মধ্যে বিভেদ নয়, ভালোবাসা সৃষ্টি এবং বিদ্বেষের পরিবর্তে সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠাই ছিল তাঁর অন্যতম প্রধান শিক্ষা।

আরও পড়ুনঃ  শিবচরে পানিতে ডুবে দুই কিশোরীর মৃত্যু, আহত ১

দেশের ধর্মীয় ও রাষ্ট্রীয় বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রেও সরকারকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি। ধর্মীয় উগ্রবাদী বা বিভাজনকামী কোনো গোষ্ঠীর প্ররোচনা কিংবা ফাঁদে না পড়ে সব পক্ষের ওলামা-মাশায়েখ, ধর্মীয় চিন্তাবিদ ও সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা করে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

তিনি বলেন, বিভিন্ন মত ও ধারার ওলামা-মাশায়েখদের সঙ্গে সমন্বিত আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে ভুল বোঝাবুঝি ও বিভাজনের সুযোগ কমবে। পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সংলাপ ও পরামর্শের সংস্কৃতিই জাতীয় ঐক্য ও সামাজিক স্থিতিশীলতা আরও সুদৃঢ় করতে পারে।

আরও পড়ুনঃ  চরভদ্রাসনে শেখ ইউসুফ আলী হত্যার বিচার ও ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন

দুই দিনব্যাপী এ ওরশ শরীফের কর্মসূচি ১৭ ও ১৮ আগস্ট অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিশেষ নসিহত, জিকির-আযকার, আলোচনা ও দোয়া মাহফিলসহ বিভিন্ন কর্মসূচি ছিল। সমাপনী দিনে আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে ওরশের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি হয়।

সমাপনী দিনের প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পাকিস্তান থেকে আগত আন্তর্জাতিক ইসলামিক স্কলার আল্লামা ড. মুহাম্মদ কাওকাব নূরানী ওকাড়ভী (মু.জি.না.)। এ ছাড়া বিষয়ভিত্তিক আলোচনা করেন অধ্যক্ষ মাওলানা মুহাম্মদ হাসান রেজা আল-কাদেরী, মাওলানা মুফতি বাকিবিল্লাহ আজহারী, মাওলানা ফখরুদ্দীন চাঁদপুরী, মাওলানা সৈয়দ আহমদুল হক মাইজভাণ্ডারীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত ওলামায়ে কেরাম।

আরও পড়ুনঃ  সালথায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩২০ শিক্ষার্থীর মাঝে বিনামূল্যে স্কুলড্রেস, পাটের ব্যাগ ও জুতা বিতরণ

বক্তারা হযরত সৈয়দ মইনুদ্দীন আহমদ (ক.)-এর জীবন, সাধনা, আধ্যাত্মিক দর্শন, মানবপ্রেম, নৈতিকতা ও সমাজকল্যাণমূলক আদর্শের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তাঁরা বলেন, আত্মশুদ্ধির সঙ্গে মানবসেবা, মানবপ্রেম, নৈতিকতা, সহনশীলতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার সমন্বয় ছিল তাঁর জীবনদর্শনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।

ওরশ শরীফে দরবারের খলিফাবৃন্দ, বরেণ্য ওলামা-মাশায়েখ, ভক্ত-আশেকান, মুরিদান এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানের শেষপর্বে প্রধান অতিথি হযরত শাহসুফী ড. সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ আল-মাইজভাণ্ডারী আখেরি মোনাজাত পরিচালনা করেন। মোনাজাতে হযরত সৈয়দ মইনুদ্দীন আহমদ (ক.)-এর ফয়েজ ও বরকত, মুসলিম উম্মাহর শান্তি ও ঐক্য, দেশ ও জাতির কল্যাণ এবং বিশ্বমানবতার শান্তি, সম্প্রীতি ও সমৃদ্ধি কামনা করা হয়।