Dhaka ০৫:২৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬, ৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
শিবচরে অজ্ঞাত নারীর মরাদেহ উদ্ধার, পরিচয় শনাক্তে কাজ করছে পুলিশ বিজয়নগরে আউশ ধানের বাম্পার ফলন, কৃষকের মুখে হাসি শিবচরে পুকুর থেকে এক বৃদ্ধের মরদেহ উদ্ধার চরভদ্রাসনে শেখ ইউসুফ আলী হত্যার বিচার ও ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন শিবচরে আমন ধান রোপনের ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকেরা তিস্তা সেচ ক্যানেলে ডুবে প্রাণ গেল খালা-ভাগ্নির মাদারীপুরের শিবচরে দুই দিনব্যাপী বিনামূল্যে চক্ষু সেবা ও ছানি অপারেশন ক্যাম্প উদ্বোধন নানা বাড়িতে নদীতে গোসল করতে নেমে আর বাড়ি ফেরা হলো না জুঁইয়ের ২০২৬-২০২৭ সেশনের শ্রীমঙ্গল উপজেলা তালামীযের কাউন্সিল সম্পন্ন হয় বাহুবলে নাশকতার চেষ্টার অভিযোগে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ৩ নেতাকর্মী গ্রেফতার

বিজয়নগরে আউশ ধানের বাম্পার ফলন, কৃষকের মুখে হাসি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার সিংগারবিল ইউনিয়নসহ বিভিন্ন এলাকায় চলতি মৌসুমে আউশ ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। কম খরচে ভালো ফলন পাওয়ায় আউশ ধান চাষে আগ্রহ বাড়ছে স্থানীয় কৃষকদের। কৃষি বিভাগের পরামর্শ ও প্রণোদনার মাধ্যমে নতুন জাতের এ ধান চাষ করে লাভবান হওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন কৃষকরা।

সম্প্রতি সিংগারবিল ইউনিয়নে আউশ ধানের নমুনা শস্য কর্তন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা জনাব রুহুল আমিন খান। এ সময় এলাকার ১৫-২০ জন কৃষক-কৃষাণীসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

নমুনা শস্য কর্তনের সময় কৃষকরা আউশ ধানের ফলন দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন। স্থানীয় কৃষকদের মতে, এ ধান চাষে সেচের প্রয়োজন তুলনামূলকভাবে কম হওয়ায় উৎপাদন খরচও কম পড়ে। ফলে কম বিনিয়োগে ভালো ফলন পাওয়ার পাশাপাশি কৃষকের আর্থিক লাভের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  সালথায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩২০ শিক্ষার্থীর মাঝে বিনামূল্যে স্কুলড্রেস, পাটের ব্যাগ ও জুতা বিতরণ

স্থানীয় কৃষক হাসেন সরকার বলেন, “কৃষি অফিস থেকে বীজ ও সার নিয়ে প্রথমবারের মতো এ ফসল চাষ করেছি। আমাদের এলাকায় আগে তেমন কেউ আউশ ধান চাষ করতেন না। কিন্তু ফলন দেখে আমরা আশাবাদী। এটি একটি লাভজনক ফসল। পানির প্রয়োজন খুব কম, সারও তুলনামূলকভাবে কম লাগে। অথচ ভালো ফলন পাওয়া যাচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, কৃষি বিভাগের সহযোগিতা ও পরামর্শের কারণে নতুন ফসল চাষের বিষয়ে কৃষকদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। ভবিষ্যতে এলাকার আরও কৃষক আউশ ধান চাষে এগিয়ে আসবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

আরও পড়ুনঃ  শ্রীমঙ্গলে জালে আটকা সাপকে জীবিত উদ্ধার

উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা রুহুল আমিন খান জানান, আউশ প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় চলতি বছর সিংগারবিল ইউনিয়নে প্রায় ১০ হেক্টর জমিতে আউশ ধানের চাষ করা হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় ৫ হেক্টর বেশি। কৃষকদের উৎসাহিত করা এবং আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্যে কৃষি বিভাগ নিয়মিত পরামর্শ ও সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, “একই জমিতে আউশ-আমন-বোরো—এই তিনটি ফসল সফলভাবে চাষ করতে পারলে কৃষকরা একই জমি থেকে বছরে একাধিকবার উৎপাদন করে উল্লেখযোগ্যভাবে লাভবান হতে পারবেন। কৃষকের উৎপাদন বাড়ানো, খরচ কমানো এবং জমির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করাই কৃষি বিভাগের অন্যতম লক্ষ্য। এ লক্ষ্যে কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ ও উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে।”

কৃষি সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, আউশ ধানের চাষ সম্প্রসারণ হলে একদিকে যেমন অনাবাদি বা কম ব্যবহৃত জমির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত হবে, অন্যদিকে কৃষকের আয় বৃদ্ধি ও খাদ্য উৎপাদন বাড়াতে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে কম সেচের প্রয়োজন হওয়ায় আউশ ধান পানি সাশ্রয়ী ও তুলনামূলকভাবে পরিবেশবান্ধব চাষাবাদের একটি সম্ভাবনাময় ফসল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ  শিবচরে নানা আয়োজনে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ- ২০২৬ উদযাপিত

স্থানীয় কৃষকদের সফলতা ও বাম্পার ফলন দেখে সিংগারবিল ইউনিয়নের অন্যান্য কৃষকরাও আউশ ধান চাষে আগ্রহী হচ্ছেন। কৃষি বিভাগের ধারাবাহিক পরামর্শ, প্রণোদনা ও মাঠপর্যায়ের সহযোগিতা অব্যাহত থাকলে আগামীতে বিজয়নগরের আরও বিস্তীর্ণ এলাকায় আউশ ধানের চাষ সম্প্রসারিত হবে এবং কৃষকের অর্থনৈতিক উন্নয়নে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

শিবচরে অজ্ঞাত নারীর মরাদেহ উদ্ধার, পরিচয় শনাক্তে কাজ করছে পুলিশ

বিজয়নগরে আউশ ধানের বাম্পার ফলন, কৃষকের মুখে হাসি

আপডেটের সময়: ১২:৩৫:১৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার সিংগারবিল ইউনিয়নসহ বিভিন্ন এলাকায় চলতি মৌসুমে আউশ ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। কম খরচে ভালো ফলন পাওয়ায় আউশ ধান চাষে আগ্রহ বাড়ছে স্থানীয় কৃষকদের। কৃষি বিভাগের পরামর্শ ও প্রণোদনার মাধ্যমে নতুন জাতের এ ধান চাষ করে লাভবান হওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন কৃষকরা।

সম্প্রতি সিংগারবিল ইউনিয়নে আউশ ধানের নমুনা শস্য কর্তন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা জনাব রুহুল আমিন খান। এ সময় এলাকার ১৫-২০ জন কৃষক-কৃষাণীসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

নমুনা শস্য কর্তনের সময় কৃষকরা আউশ ধানের ফলন দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন। স্থানীয় কৃষকদের মতে, এ ধান চাষে সেচের প্রয়োজন তুলনামূলকভাবে কম হওয়ায় উৎপাদন খরচও কম পড়ে। ফলে কম বিনিয়োগে ভালো ফলন পাওয়ার পাশাপাশি কৃষকের আর্থিক লাভের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  সালথায় মাদকবিরোধী অভিযানে দুই আসামির কারাদণ্ড

স্থানীয় কৃষক হাসেন সরকার বলেন, “কৃষি অফিস থেকে বীজ ও সার নিয়ে প্রথমবারের মতো এ ফসল চাষ করেছি। আমাদের এলাকায় আগে তেমন কেউ আউশ ধান চাষ করতেন না। কিন্তু ফলন দেখে আমরা আশাবাদী। এটি একটি লাভজনক ফসল। পানির প্রয়োজন খুব কম, সারও তুলনামূলকভাবে কম লাগে। অথচ ভালো ফলন পাওয়া যাচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, কৃষি বিভাগের সহযোগিতা ও পরামর্শের কারণে নতুন ফসল চাষের বিষয়ে কৃষকদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। ভবিষ্যতে এলাকার আরও কৃষক আউশ ধান চাষে এগিয়ে আসবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

আরও পড়ুনঃ  বরগুনায় আদালতের রায়ের অপব্যবহার, ভাড়াটে লোক দিয়ে ভুমি দখলের চেষ্টা

উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা রুহুল আমিন খান জানান, আউশ প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় চলতি বছর সিংগারবিল ইউনিয়নে প্রায় ১০ হেক্টর জমিতে আউশ ধানের চাষ করা হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় ৫ হেক্টর বেশি। কৃষকদের উৎসাহিত করা এবং আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্যে কৃষি বিভাগ নিয়মিত পরামর্শ ও সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, “একই জমিতে আউশ-আমন-বোরো—এই তিনটি ফসল সফলভাবে চাষ করতে পারলে কৃষকরা একই জমি থেকে বছরে একাধিকবার উৎপাদন করে উল্লেখযোগ্যভাবে লাভবান হতে পারবেন। কৃষকের উৎপাদন বাড়ানো, খরচ কমানো এবং জমির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করাই কৃষি বিভাগের অন্যতম লক্ষ্য। এ লক্ষ্যে কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ ও উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে।”

কৃষি সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, আউশ ধানের চাষ সম্প্রসারণ হলে একদিকে যেমন অনাবাদি বা কম ব্যবহৃত জমির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত হবে, অন্যদিকে কৃষকের আয় বৃদ্ধি ও খাদ্য উৎপাদন বাড়াতে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে কম সেচের প্রয়োজন হওয়ায় আউশ ধান পানি সাশ্রয়ী ও তুলনামূলকভাবে পরিবেশবান্ধব চাষাবাদের একটি সম্ভাবনাময় ফসল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ  শ্রীমঙ্গলে জালে আটকা সাপকে জীবিত উদ্ধার

স্থানীয় কৃষকদের সফলতা ও বাম্পার ফলন দেখে সিংগারবিল ইউনিয়নের অন্যান্য কৃষকরাও আউশ ধান চাষে আগ্রহী হচ্ছেন। কৃষি বিভাগের ধারাবাহিক পরামর্শ, প্রণোদনা ও মাঠপর্যায়ের সহযোগিতা অব্যাহত থাকলে আগামীতে বিজয়নগরের আরও বিস্তীর্ণ এলাকায় আউশ ধানের চাষ সম্প্রসারিত হবে এবং কৃষকের অর্থনৈতিক উন্নয়নে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।