
“জলের সাথে তেল মিশাইলে, জলে তেলে মিশে না”—এমন এক শাশ্বত সত্য আর জীবনমুখী দর্শনের গান নিয়ে দুই বাংলায় হইচই ফেলে দিয়েছেন এই সময়ের সুপরিচিত কণ্ঠশিল্পী দিনা মন্ডল। তার জনপ্রিয় মৌলিক গান ‘সমানে সমানে’ এখন আর কেবল তার একার কণ্ঠে সীমাবদ্ধ নেই; দেশের গণ্ডি পেরিয়ে ওপার বাংলার জনপ্রিয় শিল্পীদের হৃদয়েও জায়গা করে নিয়েছে এটি।
গানটির কথা ও সুর করেছেন গুণী গীতিকার ও সুরকার জাহাঙ্গীর রানা। মারুফ চৌধুরীর সংগীতায়োজন এবং ইয়াসিন বিন আরিয়ানের নান্দনিক ভিডিও নির্মাণের মাধ্যমে গানটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে মুক্তি পাওয়ার পর থেকেই আলোচনায় রয়েছে।
এক গানে দুই বাংলার মহামিলন সাধারণত ভাইরাল গানগুলোর স্থায়িত্ব কম হলেও, ‘সমানে সমানে’ গানের শক্তিশালী লিরিক্সের কারণে দুই বাংলার খ্যাতিমান শিল্পীরা এটি কাভার করতে আগ্রহী হয়েছেন। ভারতের জনপ্রিয় রিয়েলিটি শো জি বাংলা সারেগামাপার প্রতিযোগী সুস্মিতা সরকার এবং ভারতীয় শিল্পী মির্জা মোর্শেদ ও শান্তনু মুসাফির গানটি গেয়ে ওপার বাংলায় এর জনপ্রিয়তা ছড়িয়ে দিয়েছেন।
বাংলাদেশ থেকে জনপ্রিয় বাউল শিল্পী মুক্তা সরকার, ‘আইলারে নয়া দামান’ খ্যাত জনপ্রিয় শিল্পী তৌসিবা বেগম, এবং চ্যানেল আই সেরা কণ্ঠ-২০২৩ এর ফাইনালিস্ট এইচ এম আলাউদ্দিন গানটি কাভার করেছেন। এছাড়াও গানটিতে কণ্ঠ দিয়েছেন: বেতার ও বিটিভির শিল্পী: এস এম আলাউদ্দিন, শ্রাবণী রায়, রুমা হাওলাদার। জনপ্রিয় কণ্ঠ: দীপ্র দূর্জয় ব্রাদার্স, কৃপাস, লাভলী দেব, আশরাফুনেসা মুন্নী, অনুরাধা আইশে, দিপ্তী দিপু, সুমন শিকদার, আলিম জুনিয়র, মহুয়া মুনা এবং শামীম হোসেন।প্রবাসী ও প্রতিশ্রুতিশীল শিল্পী: গীতিকার ও প্রবাসী শিল্পী আরিফুল ইসলাম, বীথী রানী নাথ, আরেফীন, হাবীবা আক্তার ঝুমু, তানিয়া সরকার, সৃষ্টি গোপ এবং বাউল সুমন সরকার।লোকজ ও আধুনিক ধারার কণ্ঠ: ফাতেমা জেনি, বন্যা তালুকদার, জোবায়দুল ইসলাম, লালন কন্যা সুমি, রত্না পারভীন, সজীব সরকার, শারমিন আক্তার, খালেদা আক্তার রুমা, সাথী আলো, অনুরাধা আঁখি, মারুফ চৌধুরী, সাইদুন নেছা এবং সাদিয়া লিজা।সহ আরও অনেকে গানটিতে নিজেদের কণ্ঠ দিয়েছেন। মোট অর্ধশত শিল্পী গানটির প্রতি তাদের ভালোবাসা প্রকাশ করেছেন।
গানের ভাব ও দর্শনে মুগ্ধ শ্রোতারা গানটির মূল উপজীব্য হলো—সম্পর্কের ভারসাম্য। শিল্পী দিনা মন্ডল বলেন, “জাহাঙ্গীর রানা ভাই যখন গানটি লিখলেন—‘সমানে সমানে না হইলে পিরিত, সে পিরিতি থাকে না’—তখনই বুঝেছিলাম এটি মানুষের অন্তরে দাগ কাটবে। দুই বাংলার এত গুণী শিল্পীর কণ্ঠে গানটি শোনা আমার জন্য পরম পাওয়া।”
গানে রূপের মোহে না পড়ে মন দিয়ে মন পরিমাপ করার যে আহ্বান জানানো হয়েছে, তা বর্তমান প্রজন্মের কাছেও বেশ সমাদৃত হচ্ছে। ‘দুইদিনের পিরিতি মিছা টাল বাহানা’—এমন খাঁটি কথাগুলোই গানটিকে দীর্ঘস্থায়ী জনপ্রিয়তার পথে নিয়ে যাচ্ছে।
সংগীত সমালোচকদের মতে, একটি মৌলিক গান যখন অর্ধশত শিল্পীর কণ্ঠে নতুনভাবে প্রাণ পায়, তখন তা বাংলা সংগীতের ভাণ্ডারকে আরও সমৃদ্ধ করে। দিনা মন্ডলের এই যাত্রা সেই সমৃদ্ধিরই একটি উজ্জ্বল উদাহরণ।
নিজস্ব প্রতিবেদক : 














