
নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় বুড়িতিস্তা নদী খনন কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে কুটিরডাঙ্গা এলাকায় চরম উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।( ৩১ ডিসেম্বর)শনিবার বিকেল ৫টার দিকে শতশত মানুষ সেনাবাহিনী, পুলিশ ও আনসার ব্যাটালিয়নের সদস্যদের উপস্থিতির মধ্যেই একটি অস্থায়ী আনসার ক্যাম্পে ভাঙচুর ও লুটপাট চালায় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নদী খনন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও ভুল বোঝাবুঝি চলছিল। এরই জেরে হঠাৎ করে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর একাংশ উত্তেজিত হয়ে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে তারা অস্থায়ী আনসার ক্যাম্পে হামলা চালিয়ে বিভিন্ন সামগ্রী ভাঙচুর করে এবং কিছু মালামাল লুট করে নিয়ে যায়।
ঘটনার সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকলেও পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এ সময় দায়িত্ব পালনকালে দুইজন স্থানীয় সংবাদকর্মী হামলার শিকার হন। আহত সাংবাদিকদের মধ্যে একজন জানান, তাকে শারীরিকভাবে মারধর করা হয় এবং তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ভেঙে ফেলা হয়। পরে আহত সংবাদকর্মীদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
সংবাদকর্মীদের ওপর এমন হামলার ঘটনায় স্থানীয় সাংবাদিক মহলসহ সচেতন মহলে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। তারা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
ঘটনার পর পুরো কুটিরডাঙ্গা এলাকা থমথমে ও উত্তাল অবস্থায় রয়েছে। যে কোনো সময় নতুন করে সংঘর্ষের আশঙ্কা থাকায় এলাকায় অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং সাধারণ মানুষকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানায়, ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু হয়েছে। ভাঙচুর, লুটপাট ও সাংবাদিকদের ওপর হামলার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি বুড়িতিস্তা নদী খনন কার্যক্রম নিয়ে সৃষ্ট সমস্যাগুলো আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও আশ্বাস দেন তারা।
এদিকে এলাকাবাসী দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়া এবং নদী খনন সংক্রান্ত বিষয়ে স্বচ্ছ, গ্রহণযোগ্য ও জনস্বার্থসম্মত সিদ্ধান্ত গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
মোঃমফিজুল ইসলামঃ 








