Dhaka 12:15 pm, Monday, 8 December 2025

দলের নেতাকে লাথি, এনসিপির রাজশাহীর যুগ্ম সমন্বয়কারীকে অব্যাহতি, সমন্বয়কের পদত্যাগ

জাতীয় নাগরিক কমিটির (এনসিপি) রাজশাহী জেলা সমন্বয় কমিটির যুগ্ম সমন্বয়কারী নাহিদুল ইসলাম সাজুকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। কেন তাকে সংগঠন থেকে স্থায়ী বহিষ্কার করা হবে না, তা তিন দিনের মধ্যে জানাতে বলা হয়েছে।

এর আগে গত বুধবার রাত ১১টার দিকে নগরীর রানীবাজার এলাকার একটি রেস্তোরাঁয় নাহিদুল ইসলাম রাজশাহী জেলা সমন্বয় কমিটির আরেক যুগ্ম সমন্বয়কারী ফিরোজ আলমের বুকে লাথি মারেন। যে রেস্তোরাঁয় ঘটনাটি ঘটে, সেটির মালিক এনসিপির রাজশাহী জেলা সমন্বয়ক কমিটির প্রধান সমন্বয়কারী রাশেদুল ইসলাম। তার সামনেই ঘটনাটি ঘটে।

ফিরোজ আলমকে লাথি দেওয়ার পর নাহিদুল ইসলাম সাজু সেখান থেকে চলে গিয়েছিলেন। ফিরোজ আলমও বাড়ি ফিরছিলেন। পরে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন।

এদিকে কেন্দ্রের কাছে নিজের পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন জেলা কমিটির প্রধান সমন্বয়কারী রাশেদুল ইসলাম।

রাজশাহী জেলা এনসিপির একটি সূত্র জানিয়েছে, বুধবার রাতে জেলা সমন্বয় কমিটির নেতারা প্রধান সমন্বয়কারী রাশেদুল ইসলামের রেস্তোরাঁয় বসেছিলেন। এ সময় নাহিদুল ইসলাম ও ফিরোজ আলম একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন যে, তারা আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসন করছেন। এ সময় একে অপরকে ‘তুই আওয়ামী লীগ’ বলেও কটাক্ষ করেন। এরই একপর্যায়ে নাহিদুল ইসলাম উঠে গিয়ে ফিরোজ আলমের বুকে লাথি মারেন।

বৃহস্পতিবার রাতে নাহিদুল ইসলাম বলেছিলেন, ‘এটা সমাধান হয়ে গেছে। আমি ফিরোজের কাছে যাচ্ছি। নিজেদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল। এখন সমস্যা নেই। জেলার প্রধান সমন্বয়কারী এবং কেন্দ্রের ভাইয়েরা দুজনের সঙ্গে কথা বলে সমাধান করেছেন।’

তবে শুক্রবার এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব (দপ্তর) সালেহ উদ্দিন সিফাতের সই করা এক চিঠিতে জেলা সমন্বয় কমিটির ১ নম্বর যুগ্ম সমন্বয়কারী নাহিদুল ইসলামকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হয়। একইসঙ্গে তাকে কেন স্থায়ী বহিষ্কার করা হবে না, তার লিখিত জবাব তিন দিনের মধ্যে দলের শৃঙ্খলা কমিটির প্রধান অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল-আমিনের কাছে দিতে বলা হয়েছে।

নাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনে বাধা দেওয়ার কারণে আমাকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। আমার কাছে লিখিত জবাব চাওয়া হয়েছে। আমি জবাব দেব।’

এ নিয়ে ও তার নিজের পদত্যাগপত্র পাঠানো প্রসঙ্গে কথা বলতে এনসিপির জেলার প্রধান সমন্বয়কারী রাশেদুল ইসলাম জানান, তিনি স্বপরিবারে অসুস্থ। এনিয়ে এখন কথা বলার মতো অবস্থায় নেই।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

টাঙ্গাইল-আরিচা আঞ্চলিক সড়কের কাজ দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে মানববন্ধন

দলের নেতাকে লাথি, এনসিপির রাজশাহীর যুগ্ম সমন্বয়কারীকে অব্যাহতি, সমন্বয়কের পদত্যাগ

Update Time : 10:36:50 pm, Friday, 27 June 2025

জাতীয় নাগরিক কমিটির (এনসিপি) রাজশাহী জেলা সমন্বয় কমিটির যুগ্ম সমন্বয়কারী নাহিদুল ইসলাম সাজুকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। কেন তাকে সংগঠন থেকে স্থায়ী বহিষ্কার করা হবে না, তা তিন দিনের মধ্যে জানাতে বলা হয়েছে।

এর আগে গত বুধবার রাত ১১টার দিকে নগরীর রানীবাজার এলাকার একটি রেস্তোরাঁয় নাহিদুল ইসলাম রাজশাহী জেলা সমন্বয় কমিটির আরেক যুগ্ম সমন্বয়কারী ফিরোজ আলমের বুকে লাথি মারেন। যে রেস্তোরাঁয় ঘটনাটি ঘটে, সেটির মালিক এনসিপির রাজশাহী জেলা সমন্বয়ক কমিটির প্রধান সমন্বয়কারী রাশেদুল ইসলাম। তার সামনেই ঘটনাটি ঘটে।

ফিরোজ আলমকে লাথি দেওয়ার পর নাহিদুল ইসলাম সাজু সেখান থেকে চলে গিয়েছিলেন। ফিরোজ আলমও বাড়ি ফিরছিলেন। পরে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন।

এদিকে কেন্দ্রের কাছে নিজের পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন জেলা কমিটির প্রধান সমন্বয়কারী রাশেদুল ইসলাম।

রাজশাহী জেলা এনসিপির একটি সূত্র জানিয়েছে, বুধবার রাতে জেলা সমন্বয় কমিটির নেতারা প্রধান সমন্বয়কারী রাশেদুল ইসলামের রেস্তোরাঁয় বসেছিলেন। এ সময় নাহিদুল ইসলাম ও ফিরোজ আলম একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন যে, তারা আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসন করছেন। এ সময় একে অপরকে ‘তুই আওয়ামী লীগ’ বলেও কটাক্ষ করেন। এরই একপর্যায়ে নাহিদুল ইসলাম উঠে গিয়ে ফিরোজ আলমের বুকে লাথি মারেন।

বৃহস্পতিবার রাতে নাহিদুল ইসলাম বলেছিলেন, ‘এটা সমাধান হয়ে গেছে। আমি ফিরোজের কাছে যাচ্ছি। নিজেদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল। এখন সমস্যা নেই। জেলার প্রধান সমন্বয়কারী এবং কেন্দ্রের ভাইয়েরা দুজনের সঙ্গে কথা বলে সমাধান করেছেন।’

তবে শুক্রবার এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব (দপ্তর) সালেহ উদ্দিন সিফাতের সই করা এক চিঠিতে জেলা সমন্বয় কমিটির ১ নম্বর যুগ্ম সমন্বয়কারী নাহিদুল ইসলামকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হয়। একইসঙ্গে তাকে কেন স্থায়ী বহিষ্কার করা হবে না, তার লিখিত জবাব তিন দিনের মধ্যে দলের শৃঙ্খলা কমিটির প্রধান অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল-আমিনের কাছে দিতে বলা হয়েছে।

নাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনে বাধা দেওয়ার কারণে আমাকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। আমার কাছে লিখিত জবাব চাওয়া হয়েছে। আমি জবাব দেব।’

এ নিয়ে ও তার নিজের পদত্যাগপত্র পাঠানো প্রসঙ্গে কথা বলতে এনসিপির জেলার প্রধান সমন্বয়কারী রাশেদুল ইসলাম জানান, তিনি স্বপরিবারে অসুস্থ। এনিয়ে এখন কথা বলার মতো অবস্থায় নেই।