Dhaka ০৫:৩০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬, ৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
চরভদ্রাসনে শেখ ইউসুফ আলী হত্যার বিচার ও ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন শিবচরে আমন ধান রোপনের ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকেরা তিস্তা সেচ ক্যানেলে ডুবে প্রাণ গেল খালা-ভাগ্নির মাদারীপুরের শিবচরে দুই দিনব্যাপী বিনামূল্যে চক্ষু সেবা ও ছানি অপারেশন ক্যাম্প উদ্বোধন নানা বাড়িতে নদীতে গোসল করতে নেমে আর বাড়ি ফেরা হলো না জুঁইয়ের ২০২৬-২০২৭ সেশনের শ্রীমঙ্গল উপজেলা তালামীযের কাউন্সিল সম্পন্ন হয় বাহুবলে নাশকতার চেষ্টার অভিযোগে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ৩ নেতাকর্মী গ্রেফতার সালথায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩২০ শিক্ষার্থীর মাঝে বিনামূল্যে স্কুলড্রেস, পাটের ব্যাগ ও জুতা বিতরণ সালথায় জাতীয় মৎস্য সপ্তাহে  আলোচনা সভা, র‍্যালি ও অনুষ্ঠিত  সালথায় মাদকবিরোধী অভিযানে দুই আসামির কারাদণ্ড

মানুষ মারা যাওয়ার পর রাস্তা মেরামত করে কী লাভ?”সরকারের কাছে জনগণের প্রশ্ন,ক্ষোভে ফুঁসছেন ভুক্তভোগীরা

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার চান্দুরা-আখাউড়া সড়কের বেহাল অবস্থা এখন এলাকাবাসীর নিত্যদিনের দুর্ভোগে পরিণত হয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে রাস্তার বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত, খানাখন্দ ও কাদামাটির কারণে প্রতিনিয়ত ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। ভুক্তভোগীদের প্রশ্ন, “মানুষ মারা যাওয়ার পর রাস্তা মেরামত করে কী লাভ?”

স্থানীয়দের অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কের দুরবস্থা চললেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেই। তাদের ভাষায়, প্রতিদিন মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই সড়কে চলাচল করছে, অথচ দায়িত্বশীল মহলের নীরবতা তাদের হতাশ ও ক্ষুব্ধ করে তুলেছে।

ভুক্তভোগীরা জানান, চম্পকনগর, নোয়াগাঁও বাজার, শ্রীপুর, খিরাতলা,এবং খিরাতলা মার্কেট, হাটখোলা ও সিংগারবিল এলাকার বিভিন্ন অংশে রাস্তার অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। খানাখন্দ ও গর্তের কারণে যানবাহন চলাচল যেমন ব্যাহত হচ্ছে, তেমনি প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা। অনেকেই আতঙ্ক নিয়ে চলাচল করছেন। তাদের আশঙ্কা, যে কোনো সময় বড় ধরনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারে।

আরও পড়ুনঃ  ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) ও জাকের পার্টির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে টাংগাইলে ছাত্রফ্রন্টের দাওয়াতি মিশন অনুষ্ঠিত

স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের কাছে তারা উন্নয়নের প্রত্যাশা করেছিলেন। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কের দুর্দশা দূর না হওয়ায় তারা নিজেদের অবহেলিত মনে করছেন। তাদের দাবি, জনগণের কষ্টের কথা বিবেচনা করে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হোক।

সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। প্রতিদিন স্কুল ও মাদ্রাসাগামী শিক্ষার্থীদের কাদা, পানি ও ভাঙাচোরা রাস্তা পেরিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে। অনেক সময় পিছলে পড়ে বই-খাতা, পোশাক নষ্ট হয়ে যায়। এমনও ঘটনা ঘটেছে, পোশাক নষ্ট হওয়ায় অনেক শিক্ষার্থী বিদ্যালয় বা মাদ্রাসায় না গিয়ে বাড়িতে ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছে। এতে তাদের লেখাপড়া ব্যাহত হচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ  সালথায় জাতীয় মৎস্য সপ্তাহে  আলোচনা সভা, র‍্যালি ও অনুষ্ঠিত 

অন্যদিকে অসুস্থ রোগী, বয়স্ক ব্যক্তি এবং গর্ভবতী নারীদের দুর্ভোগ আরও বেশি। জরুরি প্রয়োজনে হাসপাতালে নেওয়ার সময় ভাঙা রাস্তার কারণে রোগীদের চরম কষ্ট সহ্য করতে হয়। এলাকাবাসীর ভাষায়, একজন অসুস্থ মানুষের যন্ত্রণা কেবল সেই পরিবারই বুঝতে পারে, যারা প্রতিদিন এই রাস্তা ব্যবহার করতে বাধ্য হয়।

স্থানীয়দের মতে, চান্দুরা-আখাউড়া সড়কটি শুধু এলাকার মানুষের জন্য নয়, এটি আখাউড়া চেকপোস্ট স্থলবন্দর এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর যাতায়াতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। প্রতিদিন শিক্ষক, ব্যবসায়ী, চাকরিজীবী, কৃষকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার হাজারো মানুষ এই পথ ব্যবহার করেন।

আরও পড়ুনঃ  মাদারীপুরে মহিলা মাদ্রাসার ভেতর হাতবোমা বিস্ফোরণ, আহত ৪

এত গুরুত্বপূর্ণ একটি সড়কের এমন বেহাল চিত্র কোনোভাবেই কাম্য নয় বলে মনে করছেন তারা।

ভুক্তভোগীরা বিজয়নগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ (সদর-বিজয়নগর) আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল-এর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের দাবি, দ্রুত সড়কটির পূর্ণ সংস্কার করে জনদুর্ভোগের অবসান ঘটানো হোক।

এলাকাবাসীর শেষ আবেদন একটাই—আর কোনো প্রাণহানি বা দুর্ঘটনার অপেক্ষা নয়। মানুষের জীবন, নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক চলাচলের স্বার্থে চান্দুরা-আখাউড়া সড়কের দ্রুত সংস্কার এখন সময়ের দাবি। উন্নয়নের প্রকৃত চিত্র ফুটে ওঠে মানুষের নিরাপদ চলাচলে; তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপই পারে এই দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান ঘটাতে।

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

চরভদ্রাসনে শেখ ইউসুফ আলী হত্যার বিচার ও ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন

মানুষ মারা যাওয়ার পর রাস্তা মেরামত করে কী লাভ?”সরকারের কাছে জনগণের প্রশ্ন,ক্ষোভে ফুঁসছেন ভুক্তভোগীরা

আপডেটের সময়: ০৭:২১:৪৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার চান্দুরা-আখাউড়া সড়কের বেহাল অবস্থা এখন এলাকাবাসীর নিত্যদিনের দুর্ভোগে পরিণত হয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে রাস্তার বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত, খানাখন্দ ও কাদামাটির কারণে প্রতিনিয়ত ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। ভুক্তভোগীদের প্রশ্ন, “মানুষ মারা যাওয়ার পর রাস্তা মেরামত করে কী লাভ?”

স্থানীয়দের অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কের দুরবস্থা চললেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেই। তাদের ভাষায়, প্রতিদিন মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই সড়কে চলাচল করছে, অথচ দায়িত্বশীল মহলের নীরবতা তাদের হতাশ ও ক্ষুব্ধ করে তুলেছে।

ভুক্তভোগীরা জানান, চম্পকনগর, নোয়াগাঁও বাজার, শ্রীপুর, খিরাতলা,এবং খিরাতলা মার্কেট, হাটখোলা ও সিংগারবিল এলাকার বিভিন্ন অংশে রাস্তার অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। খানাখন্দ ও গর্তের কারণে যানবাহন চলাচল যেমন ব্যাহত হচ্ছে, তেমনি প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা। অনেকেই আতঙ্ক নিয়ে চলাচল করছেন। তাদের আশঙ্কা, যে কোনো সময় বড় ধরনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারে।

আরও পড়ুনঃ  সালথায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩২০ শিক্ষার্থীর মাঝে বিনামূল্যে স্কুলড্রেস, পাটের ব্যাগ ও জুতা বিতরণ

স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের কাছে তারা উন্নয়নের প্রত্যাশা করেছিলেন। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কের দুর্দশা দূর না হওয়ায় তারা নিজেদের অবহেলিত মনে করছেন। তাদের দাবি, জনগণের কষ্টের কথা বিবেচনা করে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হোক।

সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। প্রতিদিন স্কুল ও মাদ্রাসাগামী শিক্ষার্থীদের কাদা, পানি ও ভাঙাচোরা রাস্তা পেরিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে। অনেক সময় পিছলে পড়ে বই-খাতা, পোশাক নষ্ট হয়ে যায়। এমনও ঘটনা ঘটেছে, পোশাক নষ্ট হওয়ায় অনেক শিক্ষার্থী বিদ্যালয় বা মাদ্রাসায় না গিয়ে বাড়িতে ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছে। এতে তাদের লেখাপড়া ব্যাহত হচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ  ঢাকায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ‘সোহানা ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস অ্যাওয়ার্ড ২০২৬—সিজন ৩

অন্যদিকে অসুস্থ রোগী, বয়স্ক ব্যক্তি এবং গর্ভবতী নারীদের দুর্ভোগ আরও বেশি। জরুরি প্রয়োজনে হাসপাতালে নেওয়ার সময় ভাঙা রাস্তার কারণে রোগীদের চরম কষ্ট সহ্য করতে হয়। এলাকাবাসীর ভাষায়, একজন অসুস্থ মানুষের যন্ত্রণা কেবল সেই পরিবারই বুঝতে পারে, যারা প্রতিদিন এই রাস্তা ব্যবহার করতে বাধ্য হয়।

স্থানীয়দের মতে, চান্দুরা-আখাউড়া সড়কটি শুধু এলাকার মানুষের জন্য নয়, এটি আখাউড়া চেকপোস্ট স্থলবন্দর এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর যাতায়াতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। প্রতিদিন শিক্ষক, ব্যবসায়ী, চাকরিজীবী, কৃষকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার হাজারো মানুষ এই পথ ব্যবহার করেন।

আরও পড়ুনঃ  সরাইল ব্যাটালিয়ন (২৫ বিজিবি) কর্তৃক বিপুল পরিমান মাদকদ্রব্য আটক

এত গুরুত্বপূর্ণ একটি সড়কের এমন বেহাল চিত্র কোনোভাবেই কাম্য নয় বলে মনে করছেন তারা।

ভুক্তভোগীরা বিজয়নগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ (সদর-বিজয়নগর) আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল-এর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের দাবি, দ্রুত সড়কটির পূর্ণ সংস্কার করে জনদুর্ভোগের অবসান ঘটানো হোক।

এলাকাবাসীর শেষ আবেদন একটাই—আর কোনো প্রাণহানি বা দুর্ঘটনার অপেক্ষা নয়। মানুষের জীবন, নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক চলাচলের স্বার্থে চান্দুরা-আখাউড়া সড়কের দ্রুত সংস্কার এখন সময়ের দাবি। উন্নয়নের প্রকৃত চিত্র ফুটে ওঠে মানুষের নিরাপদ চলাচলে; তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপই পারে এই দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান ঘটাতে।