Dhaka ০৩:৪৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
দেশ খণ্ডিত করার ষড়যন্ত্র হলে রুখে দাঁড়াবে জনগণ : মোস্তফা আমীর ফয়সল প্লাস্টিক দূষণ হ্রাস ও সমন্বিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কৌশল ও সুযোগ’ বিষয়ে আয়োজিত পরামর্শ সভা জরুরি সংবাদ সম্মেলনে বিজয়নগরে জুশনে জুলুশের র‍্যালি স্থগিত ঘোষণা চট্টগ্রামে সেনবাগ পেশাজীবী পরিষদের নবনির্বাচিত কমিটির পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত শিবচরে মাকে হত্যার পর নদীতে ফেলে দেওয়া শিশু আবিরের লাশ ৫ দিন পর উদ্ধার কালীগঞ্জে চাঁদা না দেওয়ায় প্রবাসীর বাড়িতে হামলার অভিযোগ, আহত ৫ শিবচর উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান দেলোয়ার বেপারী গ্রেপ্তার শ্রীমঙ্গল রেলস্টেশন থেকে ৩ কোটি টাকার ভারতীয় অবৈধ মালামাল আটক সিঙ্গারবিল ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মোঃ মানিক মিয়ার সমর্থনে মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা সেনবাগে সরকারি নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা: রাত ৮টার পরও খোলা থাকছে দোকানপাট

মানুষ মারা যাওয়ার পর রাস্তা মেরামত করে কী লাভ?”সরকারের কাছে জনগণের প্রশ্ন,ক্ষোভে ফুঁসছেন ভুক্তভোগীরা

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার চান্দুরা-আখাউড়া সড়কের বেহাল অবস্থা এখন এলাকাবাসীর নিত্যদিনের দুর্ভোগে পরিণত হয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে রাস্তার বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত, খানাখন্দ ও কাদামাটির কারণে প্রতিনিয়ত ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। ভুক্তভোগীদের প্রশ্ন, “মানুষ মারা যাওয়ার পর রাস্তা মেরামত করে কী লাভ?”

স্থানীয়দের অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কের দুরবস্থা চললেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেই। তাদের ভাষায়, প্রতিদিন মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই সড়কে চলাচল করছে, অথচ দায়িত্বশীল মহলের নীরবতা তাদের হতাশ ও ক্ষুব্ধ করে তুলেছে।

ভুক্তভোগীরা জানান, চম্পকনগর, নোয়াগাঁও বাজার, শ্রীপুর, খিরাতলা,এবং খিরাতলা মার্কেট, হাটখোলা ও সিংগারবিল এলাকার বিভিন্ন অংশে রাস্তার অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। খানাখন্দ ও গর্তের কারণে যানবাহন চলাচল যেমন ব্যাহত হচ্ছে, তেমনি প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা। অনেকেই আতঙ্ক নিয়ে চলাচল করছেন। তাদের আশঙ্কা, যে কোনো সময় বড় ধরনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারে।

আরও পড়ুনঃ  দেশ খণ্ডিত করার ষড়যন্ত্র হলে রুখে দাঁড়াবে জনগণ : মোস্তফা আমীর ফয়সল

স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের কাছে তারা উন্নয়নের প্রত্যাশা করেছিলেন। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কের দুর্দশা দূর না হওয়ায় তারা নিজেদের অবহেলিত মনে করছেন। তাদের দাবি, জনগণের কষ্টের কথা বিবেচনা করে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হোক।

সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। প্রতিদিন স্কুল ও মাদ্রাসাগামী শিক্ষার্থীদের কাদা, পানি ও ভাঙাচোরা রাস্তা পেরিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে। অনেক সময় পিছলে পড়ে বই-খাতা, পোশাক নষ্ট হয়ে যায়। এমনও ঘটনা ঘটেছে, পোশাক নষ্ট হওয়ায় অনেক শিক্ষার্থী বিদ্যালয় বা মাদ্রাসায় না গিয়ে বাড়িতে ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছে। এতে তাদের লেখাপড়া ব্যাহত হচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ  চট্টগ্রামে সেনবাগ পেশাজীবী পরিষদের নবনির্বাচিত কমিটির পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত

অন্যদিকে অসুস্থ রোগী, বয়স্ক ব্যক্তি এবং গর্ভবতী নারীদের দুর্ভোগ আরও বেশি। জরুরি প্রয়োজনে হাসপাতালে নেওয়ার সময় ভাঙা রাস্তার কারণে রোগীদের চরম কষ্ট সহ্য করতে হয়। এলাকাবাসীর ভাষায়, একজন অসুস্থ মানুষের যন্ত্রণা কেবল সেই পরিবারই বুঝতে পারে, যারা প্রতিদিন এই রাস্তা ব্যবহার করতে বাধ্য হয়।

স্থানীয়দের মতে, চান্দুরা-আখাউড়া সড়কটি শুধু এলাকার মানুষের জন্য নয়, এটি আখাউড়া চেকপোস্ট স্থলবন্দর এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর যাতায়াতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। প্রতিদিন শিক্ষক, ব্যবসায়ী, চাকরিজীবী, কৃষকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার হাজারো মানুষ এই পথ ব্যবহার করেন।

আরও পড়ুনঃ  শিবচর উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান দেলোয়ার বেপারী গ্রেপ্তার

এত গুরুত্বপূর্ণ একটি সড়কের এমন বেহাল চিত্র কোনোভাবেই কাম্য নয় বলে মনে করছেন তারা।

ভুক্তভোগীরা বিজয়নগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ (সদর-বিজয়নগর) আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল-এর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের দাবি, দ্রুত সড়কটির পূর্ণ সংস্কার করে জনদুর্ভোগের অবসান ঘটানো হোক।

এলাকাবাসীর শেষ আবেদন একটাই—আর কোনো প্রাণহানি বা দুর্ঘটনার অপেক্ষা নয়। মানুষের জীবন, নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক চলাচলের স্বার্থে চান্দুরা-আখাউড়া সড়কের দ্রুত সংস্কার এখন সময়ের দাবি। উন্নয়নের প্রকৃত চিত্র ফুটে ওঠে মানুষের নিরাপদ চলাচলে; তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপই পারে এই দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান ঘটাতে।

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

দেশ খণ্ডিত করার ষড়যন্ত্র হলে রুখে দাঁড়াবে জনগণ : মোস্তফা আমীর ফয়সল

মানুষ মারা যাওয়ার পর রাস্তা মেরামত করে কী লাভ?”সরকারের কাছে জনগণের প্রশ্ন,ক্ষোভে ফুঁসছেন ভুক্তভোগীরা

আপডেটের সময়: ০৭:২১:৪৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার চান্দুরা-আখাউড়া সড়কের বেহাল অবস্থা এখন এলাকাবাসীর নিত্যদিনের দুর্ভোগে পরিণত হয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে রাস্তার বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত, খানাখন্দ ও কাদামাটির কারণে প্রতিনিয়ত ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। ভুক্তভোগীদের প্রশ্ন, “মানুষ মারা যাওয়ার পর রাস্তা মেরামত করে কী লাভ?”

স্থানীয়দের অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কের দুরবস্থা চললেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেই। তাদের ভাষায়, প্রতিদিন মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই সড়কে চলাচল করছে, অথচ দায়িত্বশীল মহলের নীরবতা তাদের হতাশ ও ক্ষুব্ধ করে তুলেছে।

ভুক্তভোগীরা জানান, চম্পকনগর, নোয়াগাঁও বাজার, শ্রীপুর, খিরাতলা,এবং খিরাতলা মার্কেট, হাটখোলা ও সিংগারবিল এলাকার বিভিন্ন অংশে রাস্তার অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। খানাখন্দ ও গর্তের কারণে যানবাহন চলাচল যেমন ব্যাহত হচ্ছে, তেমনি প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা। অনেকেই আতঙ্ক নিয়ে চলাচল করছেন। তাদের আশঙ্কা, যে কোনো সময় বড় ধরনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারে।

আরও পড়ুনঃ  শিবচরে মাকে হত্যার পর নদীতে ফেলে দেওয়া শিশু আবিরের লাশ ৫ দিন পর উদ্ধার

স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের কাছে তারা উন্নয়নের প্রত্যাশা করেছিলেন। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কের দুর্দশা দূর না হওয়ায় তারা নিজেদের অবহেলিত মনে করছেন। তাদের দাবি, জনগণের কষ্টের কথা বিবেচনা করে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হোক।

সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। প্রতিদিন স্কুল ও মাদ্রাসাগামী শিক্ষার্থীদের কাদা, পানি ও ভাঙাচোরা রাস্তা পেরিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে। অনেক সময় পিছলে পড়ে বই-খাতা, পোশাক নষ্ট হয়ে যায়। এমনও ঘটনা ঘটেছে, পোশাক নষ্ট হওয়ায় অনেক শিক্ষার্থী বিদ্যালয় বা মাদ্রাসায় না গিয়ে বাড়িতে ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছে। এতে তাদের লেখাপড়া ব্যাহত হচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ  কালীগঞ্জে চাঁদা না দেওয়ায় প্রবাসীর বাড়িতে হামলার অভিযোগ, আহত ৫

অন্যদিকে অসুস্থ রোগী, বয়স্ক ব্যক্তি এবং গর্ভবতী নারীদের দুর্ভোগ আরও বেশি। জরুরি প্রয়োজনে হাসপাতালে নেওয়ার সময় ভাঙা রাস্তার কারণে রোগীদের চরম কষ্ট সহ্য করতে হয়। এলাকাবাসীর ভাষায়, একজন অসুস্থ মানুষের যন্ত্রণা কেবল সেই পরিবারই বুঝতে পারে, যারা প্রতিদিন এই রাস্তা ব্যবহার করতে বাধ্য হয়।

স্থানীয়দের মতে, চান্দুরা-আখাউড়া সড়কটি শুধু এলাকার মানুষের জন্য নয়, এটি আখাউড়া চেকপোস্ট স্থলবন্দর এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর যাতায়াতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। প্রতিদিন শিক্ষক, ব্যবসায়ী, চাকরিজীবী, কৃষকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার হাজারো মানুষ এই পথ ব্যবহার করেন।

আরও পড়ুনঃ  প্লাস্টিক দূষণ হ্রাস ও সমন্বিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কৌশল ও সুযোগ’ বিষয়ে আয়োজিত পরামর্শ সভা

এত গুরুত্বপূর্ণ একটি সড়কের এমন বেহাল চিত্র কোনোভাবেই কাম্য নয় বলে মনে করছেন তারা।

ভুক্তভোগীরা বিজয়নগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ (সদর-বিজয়নগর) আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল-এর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের দাবি, দ্রুত সড়কটির পূর্ণ সংস্কার করে জনদুর্ভোগের অবসান ঘটানো হোক।

এলাকাবাসীর শেষ আবেদন একটাই—আর কোনো প্রাণহানি বা দুর্ঘটনার অপেক্ষা নয়। মানুষের জীবন, নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক চলাচলের স্বার্থে চান্দুরা-আখাউড়া সড়কের দ্রুত সংস্কার এখন সময়ের দাবি। উন্নয়নের প্রকৃত চিত্র ফুটে ওঠে মানুষের নিরাপদ চলাচলে; তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপই পারে এই দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান ঘটাতে।