Dhaka ০৪:৪৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ

খিরাতলা কাঞ্চনপুর মার্কেটে যেন এক অদৃশ্য আতঙ্ক ছায়া ফেলেছে, দিন দিন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এখানকার ব্যবসায়ীরা

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার সিঙ্গারবিল ইউনিয়নের অন্তর্গত খিরাতলা কাঞ্চনপুর মার্কেটটি এখন উদ্বেগ, শঙ্কা আর হতাশার প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠেছে। এই অস্থিরতার মাঝেই সবচেয়ে বেশি বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন এক অসহায় —প্রতিবন্ধী মানুষ সেলুন ব্যবসায়ী মোঃ মুসা মিয়া।

শারীরিক সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও জীবনের সাথে লড়াই করে তিনি গড়ে তুলেছিলেন ছোট্ট একটি সেলুন। সেই সেলুনই ছিল তার স্বপ্ন, তার বেঁচে থাকার একমাত্র অবলম্বন। কিন্তু নির্মম বাস্তবতা তার সেই স্বপ্নকে দুমড়ে-মুচড়ে দিয়েছে।

একবার নয়, পরপর দুইবার তার দোকানে চুরি হয়েছে। সর্বশেষ চুরির ঘটনায় তার দোকান থেকে চারটি চুল কাটার মেশিন (প্রতিটির মূল্য প্রায় আড়াই হাজার টাকা), নগদ অর্থ এবং প্রয়োজনীয় সব সরঞ্জাম লুট করে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। মুহূর্তেই নিঃস্ব হয়ে পড়েন তিনি।

আরও পড়ুনঃ  নগরকান্দায় সারের ডিলার নিয়োগের জেরে যুবদল নেতাকে হাতুড়িপেটা, আহত ৫

আবেগঘন কণ্ঠে মুসা মিয়া বলেন,

“আমি একজন প্রতিবন্ধী মানুষ। কষ্ট করে এই কাজ শিখে সংসার চালাচ্ছিলাম। কিন্তু যারা আমার মতো একজন অসহায় মানুষের দোকানেও চুরি করতে পারে, তাদের বিবেক কোথায়? আমি এর বিচার আল্লাহর কাছে দিলাম।”

তার এই হৃদয়বিদারক আহাজারি স্থানীয় সাংবাদিক শামীম উসমান গণীর দৃষ্টিগোচর হলে তিনি দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান। পরিস্থিতি সরেজমিনে দেখে বিষয়টি তিনি বিজয়নগর উপজেলা প্রবাসী সমাজ কল্যাণ সংস্থা (ইউএই)-এর সংগঠনের সদস্যদের সঙ্গে শেয়ার করেন।

মানবিক দায়বদ্ধতা থেকে সংগঠনটির দুবাই শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক ও উদ্যোক্তা মোঃ বাবুল মিয়া বিষয়টি জানতে পেরে গভীরভাবে মর্মাহত হন। তিনি দ্রুত সংগঠনের সদস্যদের নিয়ে খিরাতলা কাঞ্চনপুর মার্কেটে উপস্থিত হন এবং মুসা মিয়ার সঙ্গে কথা বলে তাকে তাৎক্ষণিক নগদ আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন।

আরও পড়ুনঃ  বরগুনায় ডিবির অভিযানে মাদকসহ গ্রেপ্তার ৫, হানিট্র্যাপ চক্রের ২ সদস্য আটক

রবিবার (১৯ এপ্রিল) বিকেল আনুমানিক ৫টায় স্থানীয়দের উপস্থিতিতে এই সহায়তা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রদান করা হয়। এই সহায়তা শুধু আর্থিক নয়—এটি ছিল একজন অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মানবিক অঙ্গীকার, তার ভেঙে পড়া মনোবলকে নতুন করে জাগিয়ে তোলার এক আন্তরিক প্রয়াস।

উল্লেখ্য, ২০১৯ সালে প্রতিষ্ঠিত বিজয়নগর উপজেলা প্রবাসী সমাজ কল্যাণ সংস্থা শুরু থেকেই বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে। প্রবাসে থাকা সদস্যদের নিরলস প্রচেষ্টায় অসহায় মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে সংগঠনটি কাজ করে যাচ্ছে। সম্প্রতি তারা পাহাড়পুর ইউনিয়নের এক অসহায় পরিবারের মেয়ের বিয়েতেও আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছে।

আরও পড়ুনঃ  গাজীপুরে চাঁদা না পেয়ে পাইকারি মার্কেটে আগুন দেওয়ার হুমকি, গ্রেপ্তার ১

সহায়তা প্রদান অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের দুবাই শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক মোঃ বাবুল মিয়া, বাংলাদেশ শাখার সাধারণ সম্পাদক মোঃ হানিফ কাজী, সদস্য মোঃ ফয়সাল উদ্দিন রিয়ন, মোঃ অভির হোসেন জুমান এবং হাফেজ মাওলানা সাংবাদিক মোঃ শামীম উসমান গণীসহ আরও অনেকে।

উপস্থিত সবাই সংগঠনটির এই মানবিক উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন। বিশেষ করে প্রবাসী সদস্যদের অবদান কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করে তারা বলেন, নিজেদের কঠোর পরিশ্রমে উপার্জিত অর্থ দেশের অসহায় মানুষের কল্যাণে ব্যয় করা নিঃসন্দেহে এক মহৎ উদ্যোগ।

সবশেষে সংশ্লিষ্টরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন—মানবতার কল্যাণে এ ধরনের কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি তারা দেশবাসীর কাছে সংগঠনের সকল সদস্যদের সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করেন।

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

বরগুনায় ডিবির অভিযানে মাদকসহ গ্রেপ্তার ৫, হানিট্র্যাপ চক্রের ২ সদস্য আটক

খিরাতলা কাঞ্চনপুর মার্কেটে যেন এক অদৃশ্য আতঙ্ক ছায়া ফেলেছে, দিন দিন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এখানকার ব্যবসায়ীরা

আপডেটের সময়: ১০:০৭:০২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার সিঙ্গারবিল ইউনিয়নের অন্তর্গত খিরাতলা কাঞ্চনপুর মার্কেটটি এখন উদ্বেগ, শঙ্কা আর হতাশার প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠেছে। এই অস্থিরতার মাঝেই সবচেয়ে বেশি বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন এক অসহায় —প্রতিবন্ধী মানুষ সেলুন ব্যবসায়ী মোঃ মুসা মিয়া।

শারীরিক সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও জীবনের সাথে লড়াই করে তিনি গড়ে তুলেছিলেন ছোট্ট একটি সেলুন। সেই সেলুনই ছিল তার স্বপ্ন, তার বেঁচে থাকার একমাত্র অবলম্বন। কিন্তু নির্মম বাস্তবতা তার সেই স্বপ্নকে দুমড়ে-মুচড়ে দিয়েছে।

একবার নয়, পরপর দুইবার তার দোকানে চুরি হয়েছে। সর্বশেষ চুরির ঘটনায় তার দোকান থেকে চারটি চুল কাটার মেশিন (প্রতিটির মূল্য প্রায় আড়াই হাজার টাকা), নগদ অর্থ এবং প্রয়োজনীয় সব সরঞ্জাম লুট করে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। মুহূর্তেই নিঃস্ব হয়ে পড়েন তিনি।

আরও পড়ুনঃ  গাজীপুরে চাঁদা না পেয়ে পাইকারি মার্কেটে আগুন দেওয়ার হুমকি, গ্রেপ্তার ১

আবেগঘন কণ্ঠে মুসা মিয়া বলেন,

“আমি একজন প্রতিবন্ধী মানুষ। কষ্ট করে এই কাজ শিখে সংসার চালাচ্ছিলাম। কিন্তু যারা আমার মতো একজন অসহায় মানুষের দোকানেও চুরি করতে পারে, তাদের বিবেক কোথায়? আমি এর বিচার আল্লাহর কাছে দিলাম।”

তার এই হৃদয়বিদারক আহাজারি স্থানীয় সাংবাদিক শামীম উসমান গণীর দৃষ্টিগোচর হলে তিনি দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান। পরিস্থিতি সরেজমিনে দেখে বিষয়টি তিনি বিজয়নগর উপজেলা প্রবাসী সমাজ কল্যাণ সংস্থা (ইউএই)-এর সংগঠনের সদস্যদের সঙ্গে শেয়ার করেন।

মানবিক দায়বদ্ধতা থেকে সংগঠনটির দুবাই শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক ও উদ্যোক্তা মোঃ বাবুল মিয়া বিষয়টি জানতে পেরে গভীরভাবে মর্মাহত হন। তিনি দ্রুত সংগঠনের সদস্যদের নিয়ে খিরাতলা কাঞ্চনপুর মার্কেটে উপস্থিত হন এবং মুসা মিয়ার সঙ্গে কথা বলে তাকে তাৎক্ষণিক নগদ আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন।

আরও পড়ুনঃ  বরগুনায় ডিবির অভিযানে মাদকসহ গ্রেপ্তার ৫, হানিট্র্যাপ চক্রের ২ সদস্য আটক

রবিবার (১৯ এপ্রিল) বিকেল আনুমানিক ৫টায় স্থানীয়দের উপস্থিতিতে এই সহায়তা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রদান করা হয়। এই সহায়তা শুধু আর্থিক নয়—এটি ছিল একজন অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মানবিক অঙ্গীকার, তার ভেঙে পড়া মনোবলকে নতুন করে জাগিয়ে তোলার এক আন্তরিক প্রয়াস।

উল্লেখ্য, ২০১৯ সালে প্রতিষ্ঠিত বিজয়নগর উপজেলা প্রবাসী সমাজ কল্যাণ সংস্থা শুরু থেকেই বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে। প্রবাসে থাকা সদস্যদের নিরলস প্রচেষ্টায় অসহায় মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে সংগঠনটি কাজ করে যাচ্ছে। সম্প্রতি তারা পাহাড়পুর ইউনিয়নের এক অসহায় পরিবারের মেয়ের বিয়েতেও আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছে।

আরও পড়ুনঃ  নগরকান্দায় সারের ডিলার নিয়োগের জেরে যুবদল নেতাকে হাতুড়িপেটা, আহত ৫

সহায়তা প্রদান অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের দুবাই শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক মোঃ বাবুল মিয়া, বাংলাদেশ শাখার সাধারণ সম্পাদক মোঃ হানিফ কাজী, সদস্য মোঃ ফয়সাল উদ্দিন রিয়ন, মোঃ অভির হোসেন জুমান এবং হাফেজ মাওলানা সাংবাদিক মোঃ শামীম উসমান গণীসহ আরও অনেকে।

উপস্থিত সবাই সংগঠনটির এই মানবিক উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন। বিশেষ করে প্রবাসী সদস্যদের অবদান কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করে তারা বলেন, নিজেদের কঠোর পরিশ্রমে উপার্জিত অর্থ দেশের অসহায় মানুষের কল্যাণে ব্যয় করা নিঃসন্দেহে এক মহৎ উদ্যোগ।

সবশেষে সংশ্লিষ্টরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন—মানবতার কল্যাণে এ ধরনের কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি তারা দেশবাসীর কাছে সংগঠনের সকল সদস্যদের সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করেন।