Dhaka ০২:৩৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬, ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
সেনবাগে পুলিশের বিশেষ অভিযান, বীজবাগ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি গ্রেপ্তার কালীগঞ্জে আর্থিক সহায়তা ও বিনামূল্যে জিআর খাদ্যশস্য বিতরণ শ্রীমঙ্গলে চলন্ত ট্রেনের ছাদ থেকে পড়ে গুরুতর আহত ২ বাহুবলে মুমূর্ষু অবস্থায় মায়া হরিণ উদ্ধার রাজারহাটে মাছবাহী পিকআপের সঙ্গে মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে নিহত বাবা-ছেলে শ্রীমঙ্গলে বাস-পিকআপভ্যান সংঘর্ষে চালক নিহত বাহুবলে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে বাবা-ছেলের মর্মান্তিক মৃত্যু কিশোরগঞ্জ কুলিয়ারচরে এক বছর পর চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন, গ্রেপ্তার ২ দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে আবারও যাত্রীবাহী বাস পড়ল পদ্মা নদীতে রাজনৈতিক গিরগিটি’ বিতর্ক: সেনবাগের আমির হোসেনকে নিয়ে আলোচনা তুঙ্গে

শ্রীপুরে ভুল চিকিৎসায় প্রসূতির মৃত্যু: হাসপাতাল সিলগালা করার নির্দেশ পলাতক কর্তৃপক্ষ

গাজীপুরের শ্রীপুরে মাওনা চৌরাস্তার ‘লাইফ কেয়ার হাসপাতাল’-এ ভুল চিকিৎসায় রুমা (২৫) নামে এক প্রসূতি নারীর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মৃতদেহ রেখে গা ঢাকা দিয়েছে বলে দাবি করেছেন নিহতের স্বজনরা। মৃত রুমা উপজেলার উজিলাব গ্রামের মোঃ মানিক মিয়ার স্ত্রী এবং হেরা পটকা গ্রামের আঃ রশিদ ও সালেহা বেগমের কন্যা।


‎নিহতের স্বজন ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৮ তারিখ সকালে প্রসব বেদনা নিয়ে রুমা মাওনা চৌরাস্তার লাইফ কেয়ার হাসপাতালে ভর্তি হন। ওইদিন দুপুর ১২টার দিকে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে তিনি একটি ছেলে সন্তানের জন্ম দেন। অস্ত্রোপচারের পর রুমা জীবিত ছিলেন বলে স্বজনরা নিশ্চিত করেন।

‎তবে ঘটনার পরদিন ভোর ৫টার দিকে স্বজনরা রুমাকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান। স্বজনদের অভিযোগ, রুমার মৃত্যুর বিষয়টি গোপন রেখে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ উন্নত চিকিৎসার কথা বলে কৌশলে ঢাকা পাঠানোর তোড়জোড় শুরু করে। ঢাকা নেওয়ার পথেই স্বজনরা বুঝতে পারেন রুমা আগেই মারা গেছেন। এরপরই লাইফ কেয়ার হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসকসহ সংশ্লিষ্টরা হাসপাতাল ছেড়ে পালিয়ে যান।

‎কর্তৃপক্ষের এমন রহস্যজনক আচরণের প্রতিবাদে ক্ষুব্ধ স্বজনরা হাসপাতালের ভুল চিকিৎসা ও দায়িত্বহীনতার অভিযোগে হাসপাতাল ভবনে ভাঙচুর চালান। খবর পেয়ে শ্রীপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
‎ঘটনার পরপরই শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোঃ শফিকুল ইসলাম এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাইদুল ইসলাম হাসপাতালটি পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনে গিয়ে ডা. মোঃ শফিকুল ইসলাম বলেন, “প্রাথমিক তদন্তে আমরা জানতে পেরেছি, সিজারিয়ান অপারেশনের পর প্রসূতিকে যখন নিবিড় পর্যবেক্ষণে (অবজারভেশন) রাখা হয়েছিল, তখন হাসপাতালে কোনো অভিজ্ঞ চিকিৎসক উপস্থিত ছিলেন না। মূলত যথাযথ চিকিৎসকের অনুপস্থিতি ও দায়িত্বে অবহেলার কারণেই এই মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।”

‎সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাইদুল ইসলাম জানান, “হাসপাতালটিতে ভয়াবহ অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা পাওয়া গেছে,এর আগেও একদিকবার এমন ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ রয়েছে এ হাসপাতালের। এ কারণে তাৎক্ষণিকভাবে হাসপাতালটি সিলগালা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
‎নিহতের স্বামী মোঃ মানিক মিয়া কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পরিকল্পিতভাবে আমার স্ত্রীকে মেরে ফেলে এখন গা ঢাকা দিয়েছে।

আমি আমার স্ত্রীর মৃত্যুর সুষ্ঠু বিচার চাই।”
‎ঘটনার পর থেকে অভিযুক্তদের খুঁজে পেতেন কাজ করছে প্রশাসন। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

আরও পড়ুনঃ  সেনবাগে পুলিশের বিশেষ অভিযান, বীজবাগ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি গ্রেপ্তার
জনপ্রিয় পোস্ট

সেনবাগে পুলিশের বিশেষ অভিযান, বীজবাগ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি গ্রেপ্তার

শ্রীপুরে ভুল চিকিৎসায় প্রসূতির মৃত্যু: হাসপাতাল সিলগালা করার নির্দেশ পলাতক কর্তৃপক্ষ

আপডেটের সময়: ১১:৩৮:১৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ মার্চ ২০২৬

গাজীপুরের শ্রীপুরে মাওনা চৌরাস্তার ‘লাইফ কেয়ার হাসপাতাল’-এ ভুল চিকিৎসায় রুমা (২৫) নামে এক প্রসূতি নারীর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মৃতদেহ রেখে গা ঢাকা দিয়েছে বলে দাবি করেছেন নিহতের স্বজনরা। মৃত রুমা উপজেলার উজিলাব গ্রামের মোঃ মানিক মিয়ার স্ত্রী এবং হেরা পটকা গ্রামের আঃ রশিদ ও সালেহা বেগমের কন্যা।


‎নিহতের স্বজন ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৮ তারিখ সকালে প্রসব বেদনা নিয়ে রুমা মাওনা চৌরাস্তার লাইফ কেয়ার হাসপাতালে ভর্তি হন। ওইদিন দুপুর ১২টার দিকে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে তিনি একটি ছেলে সন্তানের জন্ম দেন। অস্ত্রোপচারের পর রুমা জীবিত ছিলেন বলে স্বজনরা নিশ্চিত করেন।

‎তবে ঘটনার পরদিন ভোর ৫টার দিকে স্বজনরা রুমাকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান। স্বজনদের অভিযোগ, রুমার মৃত্যুর বিষয়টি গোপন রেখে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ উন্নত চিকিৎসার কথা বলে কৌশলে ঢাকা পাঠানোর তোড়জোড় শুরু করে। ঢাকা নেওয়ার পথেই স্বজনরা বুঝতে পারেন রুমা আগেই মারা গেছেন। এরপরই লাইফ কেয়ার হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসকসহ সংশ্লিষ্টরা হাসপাতাল ছেড়ে পালিয়ে যান।

‎কর্তৃপক্ষের এমন রহস্যজনক আচরণের প্রতিবাদে ক্ষুব্ধ স্বজনরা হাসপাতালের ভুল চিকিৎসা ও দায়িত্বহীনতার অভিযোগে হাসপাতাল ভবনে ভাঙচুর চালান। খবর পেয়ে শ্রীপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
‎ঘটনার পরপরই শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোঃ শফিকুল ইসলাম এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাইদুল ইসলাম হাসপাতালটি পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনে গিয়ে ডা. মোঃ শফিকুল ইসলাম বলেন, “প্রাথমিক তদন্তে আমরা জানতে পেরেছি, সিজারিয়ান অপারেশনের পর প্রসূতিকে যখন নিবিড় পর্যবেক্ষণে (অবজারভেশন) রাখা হয়েছিল, তখন হাসপাতালে কোনো অভিজ্ঞ চিকিৎসক উপস্থিত ছিলেন না। মূলত যথাযথ চিকিৎসকের অনুপস্থিতি ও দায়িত্বে অবহেলার কারণেই এই মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।”

‎সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাইদুল ইসলাম জানান, “হাসপাতালটিতে ভয়াবহ অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা পাওয়া গেছে,এর আগেও একদিকবার এমন ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ রয়েছে এ হাসপাতালের। এ কারণে তাৎক্ষণিকভাবে হাসপাতালটি সিলগালা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
‎নিহতের স্বামী মোঃ মানিক মিয়া কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পরিকল্পিতভাবে আমার স্ত্রীকে মেরে ফেলে এখন গা ঢাকা দিয়েছে।

আমি আমার স্ত্রীর মৃত্যুর সুষ্ঠু বিচার চাই।”
‎ঘটনার পর থেকে অভিযুক্তদের খুঁজে পেতেন কাজ করছে প্রশাসন। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

আরও পড়ুনঃ  সেনবাগে পুলিশের বিশেষ অভিযান, বীজবাগ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি গ্রেপ্তার