Dhaka ০৯:০৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬, ১০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
সালথায় ইউনিয়ন ছাত্রদলের কমিটি গঠনের লক্ষ্যে মনোনয়ন ফরম বিতরণ বিয়ের মেহেদীর রঙ শুকানোর আগেই সড়ক কেড়ে নিলো আল আমিনের প্রাণ এডিপি প্রকল্পের আওতায় ডিমলায় শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক নিরাপত্তা খাতে উপকরণ বিতরণ শিবচরে বৃষ্টিতেই পানিবন্দী হয়ে পড়ছেন বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা সেবার পরিধি বাড়াতে সেনবাগের কাবিলপুর ইউনিয়নকে দুইটি ইউনিয়নে বিভক্তির প্রস্তাব সেনবাগে ১৮ পিস ইয়াবাসহ কুখ্যাত মাদক কারবারি গ্রেপ্তার, পরোয়ানাভুক্ত আরও দুই জন আটক সেনবাগে ৩,৯৫০ পিস ইয়াবাসহ দুই শীর্ষ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার ডিমলায় দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা বুড়ি তিস্তার জলকপাট খুলে দেওয়া হলো শেষ বিদায়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুর রউফ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন পুটিজুরীতে সড়ক দুর্ঘটনায় কিশোরের মর্মান্তিক মৃত্যু

বরগুনায় তরমুজ চাষীরা জ্বালানি সংকটের কারনে বাজারজাত করন ও আশানুরূপ মূল্য না পাওয়ায় বিপাকে

ডিজেল সংকট, পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি, হিমাগারের অভাব এবং পাইকারি ক্রেতার অনুপস্থিতিতে চরম বিপাকে পড়েছেন বরগুনার তরমুজ চাষিরা । মাঠভর্তি পাকা তরমুজ বিক্রি না হওয়ায় অনেক ক্ষেতেই তা পচে যাচ্ছে, আর যা বিক্রি হচ্ছে, তা হচ্ছে নামমাত্র মূল্য । ফলে লাভ তো দূরের কথা, উৎপাদন খরচ ওঠানোই এখন দুঃসাধ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।

জেলার বুড়িরচর, এম বালিয়াতলী, নলটোনা, বদরখালী, আঠারোগাছিয়া, চাওড়া, হলদিয়া, শারিকখালী, সোনাকাটা, নিশানবাড়িয়া, বড়বগি, কালমেঘা, কাকচিড়া, চরদুয়ানী, কাজিরাবাদ ইউনিয়নে এ বছর তরমুজের ব্যাপক আবাদ হয়েছে। কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় প্রায় ১২ হাজার ৩২৪ হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষ হয়েছে, যার মধ্যে শুধু সদর উপজেলাতেই রয়েছে প্রায় ৬ হাজার হেক্টর।

আরও পড়ুনঃ  ডিমলায় দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা বুড়ি তিস্তার জলকপাট খুলে দেওয়া হলো

কৃষকেরা বলছেন, মৌসুমের শুরুতেই আকস্মিক ভারী বর্ষণে তরমুজের অনেক ক্ষেত পানির নিচে তলিয়ে যায়। এতে পরিপক্ক তরমুজ নষ্ট হয়ে যায়। এর ওপর যোগ হয়েছে পরিবহন সংকট। ডিজেলের অজুহাতে ট্রাক ভাড়া ৩৫ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ৫০ হাজার টাকায় দাঁড়িয়েছে। ফলে দূর-দূরান্ত থেকে পাইকারি ব্যবসায়ীরা আগের মতো আর আসছেন না।
স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, হিমাগার বা আধুনিক সংরক্ষণ ব্যবস্থার অভাবে তারা তরমুজ ধরে রাখতে পারছেন না। ফলে বাধ্য হয়ে কম দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রেই উৎপাদন খরচের অর্ধেক দামে বিক্রি করতে হচ্ছে, আবার অনেক তরমুজ অবিক্রীত অবস্থায় মাঠেই পড়ে নষ্ট হচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ  বোর্ডবাজারে পল্লী মঙ্গল কর্মসূচীর উদ্যোগে বিনামূল্যে চিকিৎসা, ওষুধ ও চশমা বিতরণ

বরগুনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক বলেন, ‘এ বছর ফলন ভালো হয়েছে, তবে আকস্মিক বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার কারণে কিছু ক্ষতি হয়েছে। পাশাপাশি পরিবহন সংকট ও বাজার ব্যবস্থাপনার সীমাবদ্ধতায় কৃষকেরা প্রত্যাশিত মূল্য পাচ্ছেন না।’
কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে জেলায় লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে প্রায় ১৫ হাজার ৮৩৮ হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষ হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় ৪ হাজার ৩২৬ হেক্টর বেশি। মোট উৎপাদন হয়েছে প্রায় ৬ লাখ ৯২ হাজার ৩২৫ টন তরমুজ।

আরও পড়ুনঃ  সেনবাগে ৩,৯৫০ পিস ইয়াবাসহ দুই শীর্ষ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

পরিকল্পনাহীন উৎপাদন, ব্যয় বৃদ্ধি, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, জ্বালানি ও পরিবহন সংকট এবং দুর্বল বাজার ব্যবস্থাপনার সম্মিলিত প্রভাবে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। কৃষি বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা না হলে বরগুনার তরমুজ খাত বড় ধরনের অর্থনৈতিক সংকটে পড়বে, যার প্রভাব পড়বে হাজারো কৃষক পরিবারের জীবিকা ও স্থানীয় অর্থনীতিতে।

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

সালথায় ইউনিয়ন ছাত্রদলের কমিটি গঠনের লক্ষ্যে মনোনয়ন ফরম বিতরণ

বরগুনায় তরমুজ চাষীরা জ্বালানি সংকটের কারনে বাজারজাত করন ও আশানুরূপ মূল্য না পাওয়ায় বিপাকে

আপডেটের সময়: ০৫:২৯:১৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬

ডিজেল সংকট, পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি, হিমাগারের অভাব এবং পাইকারি ক্রেতার অনুপস্থিতিতে চরম বিপাকে পড়েছেন বরগুনার তরমুজ চাষিরা । মাঠভর্তি পাকা তরমুজ বিক্রি না হওয়ায় অনেক ক্ষেতেই তা পচে যাচ্ছে, আর যা বিক্রি হচ্ছে, তা হচ্ছে নামমাত্র মূল্য । ফলে লাভ তো দূরের কথা, উৎপাদন খরচ ওঠানোই এখন দুঃসাধ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।

জেলার বুড়িরচর, এম বালিয়াতলী, নলটোনা, বদরখালী, আঠারোগাছিয়া, চাওড়া, হলদিয়া, শারিকখালী, সোনাকাটা, নিশানবাড়িয়া, বড়বগি, কালমেঘা, কাকচিড়া, চরদুয়ানী, কাজিরাবাদ ইউনিয়নে এ বছর তরমুজের ব্যাপক আবাদ হয়েছে। কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় প্রায় ১২ হাজার ৩২৪ হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষ হয়েছে, যার মধ্যে শুধু সদর উপজেলাতেই রয়েছে প্রায় ৬ হাজার হেক্টর।

আরও পড়ুনঃ  ডিমলায় দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা বুড়ি তিস্তার জলকপাট খুলে দেওয়া হলো

কৃষকেরা বলছেন, মৌসুমের শুরুতেই আকস্মিক ভারী বর্ষণে তরমুজের অনেক ক্ষেত পানির নিচে তলিয়ে যায়। এতে পরিপক্ক তরমুজ নষ্ট হয়ে যায়। এর ওপর যোগ হয়েছে পরিবহন সংকট। ডিজেলের অজুহাতে ট্রাক ভাড়া ৩৫ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ৫০ হাজার টাকায় দাঁড়িয়েছে। ফলে দূর-দূরান্ত থেকে পাইকারি ব্যবসায়ীরা আগের মতো আর আসছেন না।
স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, হিমাগার বা আধুনিক সংরক্ষণ ব্যবস্থার অভাবে তারা তরমুজ ধরে রাখতে পারছেন না। ফলে বাধ্য হয়ে কম দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রেই উৎপাদন খরচের অর্ধেক দামে বিক্রি করতে হচ্ছে, আবার অনেক তরমুজ অবিক্রীত অবস্থায় মাঠেই পড়ে নষ্ট হচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ  বোর্ডবাজারে পল্লী মঙ্গল কর্মসূচীর উদ্যোগে বিনামূল্যে চিকিৎসা, ওষুধ ও চশমা বিতরণ

বরগুনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক বলেন, ‘এ বছর ফলন ভালো হয়েছে, তবে আকস্মিক বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার কারণে কিছু ক্ষতি হয়েছে। পাশাপাশি পরিবহন সংকট ও বাজার ব্যবস্থাপনার সীমাবদ্ধতায় কৃষকেরা প্রত্যাশিত মূল্য পাচ্ছেন না।’
কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে জেলায় লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে প্রায় ১৫ হাজার ৮৩৮ হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষ হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় ৪ হাজার ৩২৬ হেক্টর বেশি। মোট উৎপাদন হয়েছে প্রায় ৬ লাখ ৯২ হাজার ৩২৫ টন তরমুজ।

আরও পড়ুনঃ  বিয়ের মেহেদীর রঙ শুকানোর আগেই সড়ক কেড়ে নিলো আল আমিনের প্রাণ

পরিকল্পনাহীন উৎপাদন, ব্যয় বৃদ্ধি, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, জ্বালানি ও পরিবহন সংকট এবং দুর্বল বাজার ব্যবস্থাপনার সম্মিলিত প্রভাবে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। কৃষি বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা না হলে বরগুনার তরমুজ খাত বড় ধরনের অর্থনৈতিক সংকটে পড়বে, যার প্রভাব পড়বে হাজারো কৃষক পরিবারের জীবিকা ও স্থানীয় অর্থনীতিতে।