
নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা বুড়ি তিস্তা নদীর জলকপাট অবশেষে খুলে দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন জলকপাট বন্ধ থাকায় নদীর স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি বিস্তীর্ণ এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয় এবং কৃষিজমিতে পানি নিষ্কাশন বাধাগ্রস্ত হয়। এতে কৃষকসহ স্থানীয় বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরে দুর্ভোগের শিকার হয়ে আসছিলেন।
স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের দাবি ও অভিযোগের পর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করেন নীলফামারী-১ (ডোমার-ডিমলা) আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুস সাত্তার। তাঁর হস্তক্ষেপে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ে অবশেষে জলকপাটটি খুলে দেওয়া হয়।
জলকপাট খুলে দেওয়ার পর বুড়ি তিস্তা নদীতে স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ শুরু হয়েছে। এতে জমে থাকা পানি দ্রুত নিষ্কাশনের সুযোগ তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের আশা, এর ফলে জলাবদ্ধতা কমবে, কৃষিকাজে গতি ফিরবে এবং বর্ষা মৌসুমে বন্যা ও অতিরিক্ত পানির কারণে সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকিও অনেকাংশে হ্রাস পাবে।
এলাকাবাসী জানান, দীর্ঘদিন ধরে জলকপাট বন্ধ থাকায় কৃষিজমিতে পানি জমে থাকত। এতে ফসল উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের চলাচল ও দৈনন্দিন জীবনেও দুর্ভোগ সৃষ্টি হতো। জলকপাট খুলে দেওয়ায় তারা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন।
তবে স্থানীয়দের দাবি, শুধু জলকপাট খুলে দিলেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। ভবিষ্যতে যাতে একই পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয়, সেজন্য নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ, বুড়ি তিস্তা নদী খনন এবং প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যক্রম দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয়দের মতে, নদীর দীর্ঘমেয়াদি সংস্কার ও কার্যকর পানি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে জলাবদ্ধতা নিরসনের পাশাপাশি কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে এবং এই অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের স্থায়ী সমাধান হবে।
আমীর হামজা, ডিমলা উপজেলা প্রতিনিধি : 


















