
মাদারীপুরের শিবচরের ভান্ডারীকান্দি এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও পূর্বশত্রুতার জেরে চোকদার বংশের দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় জোনায়েদ চোকদারের ওপর হামলার মামলায় জামিন পাওয়ার পর রেজ্জেক চোকদারকে পুনরায় আটক করে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। পরে পুলিশের পিকআপ দুর্ঘটনার কবলে পড়লে ওই গাড়িতে থাকা রেজ্জেক চোকদার গুরুতর আহত হন। বর্তমানে তিনি ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে জানিয়েছে তার পরিবার।
আহত রেজ্জেক চোকদারের পরিবারের অভিযোগ, সংঘর্ষের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় আদালত থেকে জামিন পাওয়ার পরও বাদীপক্ষের লোকজন ও পুলিশের সদস্যরা তাকে পুনরায় আটক করে নিয়ে যান। পরে পুলিশের পিকআপে করে নেওয়ার সময় গাড়িটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। এতে রেজ্জেক গুরুতর আহত হন। তার শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক বলেও দাবি করেছে পরিবার।
এ ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে শনিবার সকালে মাদারীপুর শহরের ইটেরপুল এলাকায় সংবাদ সম্মেলন করেন রেজ্জেক চোকদারের পরিবারের সদস্যরা।
সংবাদ সম্মেলনে পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়, গত বৃহস্পতিবার দুপুরে পখিরা এলাকায় একটি শিশুকে বাঁচাতে গিয়ে পুলিশের পিকআপটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে উল্টে যায়। এ সময় পিকআপে থাকা এক পুলিশ সদস্য নিহত এবং আরও অন্তত ১০ জন আহত হন। দুর্ঘটনার সময় রেজ্জেক চোকদারও ওই পিকআপে ছিলেন বলে পরিবারের দাবি।
পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনার পর রেজ্জেক চোকদার গুরুতর আহত হলে প্রথমে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। বর্তমানে সেখানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
রেজ্জেকের পরিবারের অভিযোগ, আদালত থেকে জামিন পাওয়ার পর তাকে পুনরায় আটক করে পুলিশের গাড়িতে তোলার বিষয়টি তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন। একই সঙ্গে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ, ওই সময় রেজ্জেককে কীভাবে ও কোন পরিস্থিতিতে পুলিশের গাড়িতে নেওয়া হচ্ছিল এবং দুর্ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছে পরিবার।
সংবাদ সম্মেলনে পরিবারের পক্ষ থেকে রেজ্জেক চোকদারের ওপর ঘটে যাওয়া ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা এবং তার সুচিকিৎসা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।

মাসুম হাওলাদার,মাদারীপুর প্রতিনিধি : 












