Dhaka ১১:৪৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ

আড়াই মাসেও সন্ধান নেই ইমরানের

ভ্যানটা পাওয়া গেছে, ছেলের জুতা পাওয়া গেছে- কিন্তু আমার ছেলেডারে তো পাই নাই। প্রতিদিন মনে হয়, এই বুঝি দরজায় এসে দাঁড়াবে ইমরান। আবার ভয় হয়, কোনো অঘটন ঘটেনি তো! ১৩ বছরের ছেলে ইমরান খানকে হারিয়ে এমনই অনিশ্চয়তা আর উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন কাটছে ফরিদপুরের সালথা উপজেলার ভাওয়াল ইউনিয়নের ইউসুফদিয়া ভদ্রপাড়া গ্রামের চুন্নু খান ও হাজেরা বেগম দম্পতির। নিখোঁজ হওয়ার আড়াই মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো সন্ধান মেলেনি ইমরানের।

জীবিত থাকলে সন্তানকে ফিরে পাওয়ার আশায় দিন গুনছেন বাবা-মা। আর যদি তার জীবনে কোনো অঘটন ঘটে থাকে, তাহলে অন্তত ছেলের শেষ পরিণতি জানতে চান অসহায় এই পরিবার।

পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ জুন ধান ভাঙানোর কথা বলে প্রতিবেশী শামীম মোল্যা (২১) চুন্নু খানের ব্যাটারিচালিত ভ্যান নিয়ে বের হন। এরপর থেকেই নিখোঁজ হয়ে যায় ইমরান। পরিবারের সদস্যরা ওই দিন সকাল থেকেই বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। কিন্তু কোথাও তার সন্ধান পাওয়া যায়নি।

আরও পড়ুনঃ  মাদক ছেড়ে স্কাউটিং করি: ডিমলায় ১৩তম উপজেলা স্কাউট সমাবেশ সম্পন্ন

স্বজনদের অভিযোগ, শামীম মোল্যার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে ইমরানের অবস্থান সম্পর্কে তিনি বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন কথা বলেন। এতে পরিবারের সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়। ঘটনার তিন দিন পর ১৭ জুন বিকেলে পাশের মাঝারদিয়া ইউনিয়নের কুমারপট্টি গ্রামের এলিনা বেগমের বাড়ি থেকে ইমরানের ব্যবহৃত ব্যাটারিচালিত ভ্যানটি উদ্ধার করে পুলিশ। পরে একটি পাটখেত থেকে তার ব্যবহৃত জুতা ও একটি কোদাল উদ্ধার করা হয়। তবে এসব আলামত উদ্ধারের পরও ইমরানের সন্ধান মেলেনি।

ইমরানের বাবা চুন্নু খান ওই দিনই সালথা থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করেন। মামলার তদন্তে এ পর্যন্ত সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁদের মধ্যে কয়েকজন জামিনে রয়েছেন এবং দুজন বর্তমানে কারাগারে আছেন। তবে মামলার প্রধান অভিযুক্ত শামীম মোল্যা এখনো পলাতক।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) ইমরানের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, জরাজীর্ণ একটি ঝুপড়ি ঘরে বসবাস করছে পরিবারটি। দীর্ঘদিন ধরে সন্তান নিখোঁজ থাকায় পরিবারের প্রতিটি সদস্যের চোখেমুখে উদ্বেগ ও হতাশার ছাপ। ছেলের ছবি হাতে নিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন ইমরানের বাবা-মা।

আরও পড়ুনঃ  বরগুনায় ডিবির অভিযানে মাদকসহ গ্রেপ্তার ৫, হানিট্র্যাপ চক্রের ২ সদস্য আটক

ইমরানের বাবা চুন্নু খান বলেন, আড়াই মাস ধইরা আমার ছেলের কোনো খোঁজ নাই। সে বাঁচে আছে নাকি মারা গেছে, কিছুই জানি না। আমরা গরিব মানুষ। ছেলেডারে খুঁজতে কত জায়গায় ঘুরছি। আমার ছেলেডা যদি বাঁচে থাকে, তারে ফিরাইয়া দেন। আর যদি কোনো অঘটন হইয়া থাকে, হাড্ডি-গুড্ডি হইলেও খুঁইজ্যা দ্যান।

ইমরানের মা হাজেরা বেগম বলেন, ভ্যানটা পুলিশ উদ্ধার করছে, কিন্তু আমার ছেলেডারে পাই নাই। ছেলেকে খুঁজতে ফরিদপুর হাসপাতাল, মুকসুদপুর হাসপাতালসহ বিভিন্ন জায়গায় গেছি। কোথাও তার সন্ধান পাইনি। প্রতিদিন মনে হয়, আজ বুঝি আমার ছেলে ফিরে আসবে।

পুলিশ সূত্র জানায়, মামলা হওয়ার দিনই মাঝারদিয়া ইউনিয়নের কুমারপট্টি গ্রাম থেকে এনায়েত শেখের স্ত্রী এলিনা বেগমকে (৩২) আটক করা হয়। তাঁর বাড়ি থেকেই ইমরানের ব্যবহৃত ভ্যানটি উদ্ধার করা হয়। একই দিন শামীম মোল্যা আত্মগোপনে চলে যান। পরে তাঁর বাবা টুকু মোল্যা (৬৫) ও স্ত্রী সাথী বেগমকে (২১) আটক করা হয়। তদন্তের ধারাবাহিকতায় মাঝারদিয়া ইউনিয়নের মুরুটিয়া গ্রাম থেকে রাসেল মাতুব্বর (২১) নামের আরও এক যুবককে আটক করা হয়। পরে তাঁদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

আরও পড়ুনঃ  টাঙ্গাইলের নাগরপুরে ৬'বছরের শিশু ধর্ষণ মামলার আসামী গ্রেফতার করেছে এসআরবি

সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাবলুর রহমান খান বলেন, ইমরান নিখোঁজের বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছে পুলিশ। এ মামলায় এখন পর্যন্ত সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের কয়েকজন জামিনে রয়েছেন এবং দুজন কারাগারে আছেন। মামলার প্রধান অভিযুক্ত শামীম মোল্যা পলাতক। তাঁকে গ্রেপ্তারে পুলিশ সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

ওসি আরও বলেন, শামীম মোল্যাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হলে ইমরান নিখোঁজের রহস্য উদঘাটনে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হবে বলে আশা করছে পুলিশ।

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

মাদক ছেড়ে স্কাউটিং করি: ডিমলায় ১৩তম উপজেলা স্কাউট সমাবেশ সম্পন্ন

আড়াই মাসেও সন্ধান নেই ইমরানের

আপডেটের সময়: ০৭:৪৪:০১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ভ্যানটা পাওয়া গেছে, ছেলের জুতা পাওয়া গেছে- কিন্তু আমার ছেলেডারে তো পাই নাই। প্রতিদিন মনে হয়, এই বুঝি দরজায় এসে দাঁড়াবে ইমরান। আবার ভয় হয়, কোনো অঘটন ঘটেনি তো! ১৩ বছরের ছেলে ইমরান খানকে হারিয়ে এমনই অনিশ্চয়তা আর উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন কাটছে ফরিদপুরের সালথা উপজেলার ভাওয়াল ইউনিয়নের ইউসুফদিয়া ভদ্রপাড়া গ্রামের চুন্নু খান ও হাজেরা বেগম দম্পতির। নিখোঁজ হওয়ার আড়াই মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো সন্ধান মেলেনি ইমরানের।

জীবিত থাকলে সন্তানকে ফিরে পাওয়ার আশায় দিন গুনছেন বাবা-মা। আর যদি তার জীবনে কোনো অঘটন ঘটে থাকে, তাহলে অন্তত ছেলের শেষ পরিণতি জানতে চান অসহায় এই পরিবার।

পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ জুন ধান ভাঙানোর কথা বলে প্রতিবেশী শামীম মোল্যা (২১) চুন্নু খানের ব্যাটারিচালিত ভ্যান নিয়ে বের হন। এরপর থেকেই নিখোঁজ হয়ে যায় ইমরান। পরিবারের সদস্যরা ওই দিন সকাল থেকেই বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। কিন্তু কোথাও তার সন্ধান পাওয়া যায়নি।

আরও পড়ুনঃ  সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত এবং CARE Bangladesh এর প্রতিনিধির বরগুনার জাগোনারীর কার্যক্রম পরিদর্শন

স্বজনদের অভিযোগ, শামীম মোল্যার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে ইমরানের অবস্থান সম্পর্কে তিনি বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন কথা বলেন। এতে পরিবারের সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়। ঘটনার তিন দিন পর ১৭ জুন বিকেলে পাশের মাঝারদিয়া ইউনিয়নের কুমারপট্টি গ্রামের এলিনা বেগমের বাড়ি থেকে ইমরানের ব্যবহৃত ব্যাটারিচালিত ভ্যানটি উদ্ধার করে পুলিশ। পরে একটি পাটখেত থেকে তার ব্যবহৃত জুতা ও একটি কোদাল উদ্ধার করা হয়। তবে এসব আলামত উদ্ধারের পরও ইমরানের সন্ধান মেলেনি।

ইমরানের বাবা চুন্নু খান ওই দিনই সালথা থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করেন। মামলার তদন্তে এ পর্যন্ত সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁদের মধ্যে কয়েকজন জামিনে রয়েছেন এবং দুজন বর্তমানে কারাগারে আছেন। তবে মামলার প্রধান অভিযুক্ত শামীম মোল্যা এখনো পলাতক।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) ইমরানের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, জরাজীর্ণ একটি ঝুপড়ি ঘরে বসবাস করছে পরিবারটি। দীর্ঘদিন ধরে সন্তান নিখোঁজ থাকায় পরিবারের প্রতিটি সদস্যের চোখেমুখে উদ্বেগ ও হতাশার ছাপ। ছেলের ছবি হাতে নিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন ইমরানের বাবা-মা।

আরও পড়ুনঃ  নাগরপুরে ফ্যামিলি কার্ড তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করেন এমপি লাভলু

ইমরানের বাবা চুন্নু খান বলেন, আড়াই মাস ধইরা আমার ছেলের কোনো খোঁজ নাই। সে বাঁচে আছে নাকি মারা গেছে, কিছুই জানি না। আমরা গরিব মানুষ। ছেলেডারে খুঁজতে কত জায়গায় ঘুরছি। আমার ছেলেডা যদি বাঁচে থাকে, তারে ফিরাইয়া দেন। আর যদি কোনো অঘটন হইয়া থাকে, হাড্ডি-গুড্ডি হইলেও খুঁইজ্যা দ্যান।

ইমরানের মা হাজেরা বেগম বলেন, ভ্যানটা পুলিশ উদ্ধার করছে, কিন্তু আমার ছেলেডারে পাই নাই। ছেলেকে খুঁজতে ফরিদপুর হাসপাতাল, মুকসুদপুর হাসপাতালসহ বিভিন্ন জায়গায় গেছি। কোথাও তার সন্ধান পাইনি। প্রতিদিন মনে হয়, আজ বুঝি আমার ছেলে ফিরে আসবে।

পুলিশ সূত্র জানায়, মামলা হওয়ার দিনই মাঝারদিয়া ইউনিয়নের কুমারপট্টি গ্রাম থেকে এনায়েত শেখের স্ত্রী এলিনা বেগমকে (৩২) আটক করা হয়। তাঁর বাড়ি থেকেই ইমরানের ব্যবহৃত ভ্যানটি উদ্ধার করা হয়। একই দিন শামীম মোল্যা আত্মগোপনে চলে যান। পরে তাঁর বাবা টুকু মোল্যা (৬৫) ও স্ত্রী সাথী বেগমকে (২১) আটক করা হয়। তদন্তের ধারাবাহিকতায় মাঝারদিয়া ইউনিয়নের মুরুটিয়া গ্রাম থেকে রাসেল মাতুব্বর (২১) নামের আরও এক যুবককে আটক করা হয়। পরে তাঁদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

আরও পড়ুনঃ  বরগুনায় ডিবির অভিযানে মাদকসহ গ্রেপ্তার ৫, হানিট্র্যাপ চক্রের ২ সদস্য আটক

সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাবলুর রহমান খান বলেন, ইমরান নিখোঁজের বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছে পুলিশ। এ মামলায় এখন পর্যন্ত সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের কয়েকজন জামিনে রয়েছেন এবং দুজন কারাগারে আছেন। মামলার প্রধান অভিযুক্ত শামীম মোল্যা পলাতক। তাঁকে গ্রেপ্তারে পুলিশ সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

ওসি আরও বলেন, শামীম মোল্যাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হলে ইমরান নিখোঁজের রহস্য উদঘাটনে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হবে বলে আশা করছে পুলিশ।