Dhaka ০৩:২৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩০ মে ২০২৬, ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
সালথায় ইউপি চেয়ারম্যান পদপ্রার্থীর ঈদের পোস্টার ছেঁড়ার অভিযোগ ৩৯ নং ওয়ার্ডবাসীকে ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা জানালেন কাউন্সিলর পদপ্রার্থী আল আমিন ৪০ নং ওয়ার্ডবাসীকে ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা জানালেন মোঃ শরিফ পূবাইলবাসীকে ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা জানালেন যুবদল নেতা মো. সোহেল খান না ফেরার দেশে চলে গেলেন সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান পবিত্র ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা জানালেন মাওলানা মো. আল-আমিন দেওয়ান কালীগঞ্জ বাইক রাইডার্সের উদ্বোধন ও অফিসিয়াল টি-শার্ট লঞ্চ অনুষ্ঠিত মাধবপুরে বাসের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী ২ বন্ধুর নির্মম মৃত্যু পূবাইলবাসীকে পবিত্র ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা জানালেন রাজিব ভূইয়া ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা জানালেন মেম্বার পদপ্রার্থী জাকির হোসেন

কুড়িগ্রামে দাসের হাট বুজুর্গ মাজার ও মসজিদে অনিয়মের অভিযোগ, ক্ষুব্ধ মুসল্লিরা

কুড়িগ্রাম জেলার সদর উপজেলার কাঁঠালবাড়ি ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডে অবস্থিত দাসের হাট বুজুর্গ মাজার শরীফ, মসজিদ ও ঈদগাহ প্রাঙ্গণকে ঘিরে গুরুতর অনিয়ম, দুর্নীতি ও আর্থিক স্বচ্ছতার অভাবের অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় মুসল্লি ও সচেতন মহলের দাবি, প্রতি বছর কয়েক লক্ষ টাকা আয় হওয়া সত্ত্বেও মসজিদের দৃশ্যমান কোনো উন্নয়ন নেই।

প্রায় ৩০০ পরিবারের সমন্বয়ে গঠিত এই সমাজের মসজিদ পরিচালনা কমিটি দীর্ঘদিন ধরে কয়েকটি নির্দিষ্ট পরিবারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, কমিটির দায়িত্ব ও ক্ষমতা একই পরিবারগুলোর মধ্যে ঘুরেফিরে বণ্টন করা হয় এবং নতুন বা বাইরের যোগ্য ব্যক্তিদের কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয় না। ফলে এটি একটি পরিবারকেন্দ্রিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় পরিণত হয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

আরও পড়ুনঃ  মাধবপুরে বাসের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী ২ বন্ধুর নির্মম মৃত্যু

গত পাঁচ বছরেও মসজিদের মৌলিক অবকাঠামোগত উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি। নিচ তলার কাজ কোনভাবে সম্পুর্ন করলেও, দ্বিতীয় তলার নির্মাণ কাজ দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে, যা নিয়ে এলাকায় নানা প্রশ্ন ও সন্দেহ সৃষ্টি হয়েছে।

মসজিদের সাউন্ড সিস্টেমের বেহাল অবস্থাও মুসল্লিদের ক্ষোভ বাড়িয়েছে।

জুমার খুতবা ও নামাজের সময় ইমামের বক্তব্য স্পষ্টভাবে শোনা যায় না। এমনকি সাম্প্রতিক ঈদুল ফিতরের জামাতেও একই সমস্যার সম্মুখীন হন তারা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক মুসল্লি বলেন“মসজিদের ফান্ডে লক্ষ লক্ষ টাকা থাকার কথা শুনি, কিন্তু বাস্তবে তার কোনো প্রতিফলন নেই। উন্নয়নের কাজ থেমে আছে, অথচ অর্থ কোথায় যাচ্ছে তা আমরা ঠিকভাবে জানতে পারি না।

আরেকজন মুসল্লির অভিযোগ—“প্রকাশিত হিসাবগুলো আমাদের কাছে স্বচ্ছ মনে হয়না ; বরং অনেকটাই মনগড়া ও একপাক্ষিক বলে মনে হয়। সবকিছুই কয়েকটি পরিবারের নিয়ন্ত্রণে।

আরও পড়ুনঃ  পূবাইলবাসীকে ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা জানালেন যুবদল নেতা মো. সোহেল খান

স্থানীয়দের মতে, গত কয়েক বছরের আর্থিক লেনদেনের কোনো নির্ভরযোগ্য, যাচাইযোগ্য ও উন্মুক্ত হিসাব প্রকাশ করা হয়নি।
ফলে মসজিদের অর্থ ব্যবস্থাপনায় জবাবদিহিতার অভাব নিয়ে তীব্র অসন্তোষ বিরাজ করছে।

গত কমিটিকে ঘিরে, বিভিন্ন অভিযোগের পর, নতুন কমিটি দায়িত্ব নেয়, নতুন কমিটির এখনো কোনো অসঙ্গতি ধরা না পড়লেও, জমা হয়েছে অনেক প্রশ্ন ?

এছাড়াও, মসজিদের ইমামের কেরাত ও সামগ্রিক দক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অনেক মুসল্লি। দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্ব পালন করলেও তার মাধ্যমে সমাজে প্রত্যাশিত ধর্মীয় ও নৈতিক উন্নয়ন ঘটছে না বলে মত প্রকাশ করেছেন তারা।

দক্ষ ও যোগ্য ইমাম নিয়োগের দাবিও উঠেছে। এই মসজিদের পাশেই রয়েছ, কুড়িগ্রামের ঐতিহ্যবাহী জামিয়া ইছহাকিয়া ইসলামিয়া মাদ্রাসা, সেখানেও রয়েছে অনেক বড় ও দক্ষ আলেম।

আরও পড়ুনঃ  ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা জানালেন মেম্বার পদপ্রার্থী জাকির হোসেন

পাশে এতগুলো এত বড় দক্ষ আলেম রেখেও, কেন এমন একজনকে দিয়ে নামাজ পড়ানো হচ্ছে যার কেরাত ও সামগ্রিক,বিষয় নিয়ে বিতর্ক ও অভিযোগ রয়েছে,এই বিষয় নিয়েও তৈরি হয়েছে বিশাল এক রহস্য।

গ্রামের গণ্যমান্য ব্যক্তি ও মুসল্লিরা বলেন, বর্তমান কমিটি সমস্যা গুলোর সমাধান করতে না পারলে, কমিটি ভেঙে সকলের অংশগ্রহণে তরুণ ও যুবকদেরকে কমিটিতে যুক্ত করে,দ্রুত একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও সর্বজনগ্রহণযোগ্য পরিচালনা কমিটি গঠন করতে হবে।

নতুন কমিটি সমস্যা গুলোর সমাধান করবে, স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনবে এবং ধারাবাহিকভাবে মসজিদের উন্নয়ন কাজ চালু রাখবে। এবং মসজিদের টাকা পূর্বের কোন কমিটির কাছে থাকলে তা প্রয়োজনীয় আইনি সহযোগিতা নিয়ে উদ্ধার করবে।

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

সালথায় ইউপি চেয়ারম্যান পদপ্রার্থীর ঈদের পোস্টার ছেঁড়ার অভিযোগ

কুড়িগ্রামে দাসের হাট বুজুর্গ মাজার ও মসজিদে অনিয়মের অভিযোগ, ক্ষুব্ধ মুসল্লিরা

আপডেটের সময়: ১২:৪৩:৪০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬

কুড়িগ্রাম জেলার সদর উপজেলার কাঁঠালবাড়ি ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডে অবস্থিত দাসের হাট বুজুর্গ মাজার শরীফ, মসজিদ ও ঈদগাহ প্রাঙ্গণকে ঘিরে গুরুতর অনিয়ম, দুর্নীতি ও আর্থিক স্বচ্ছতার অভাবের অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় মুসল্লি ও সচেতন মহলের দাবি, প্রতি বছর কয়েক লক্ষ টাকা আয় হওয়া সত্ত্বেও মসজিদের দৃশ্যমান কোনো উন্নয়ন নেই।

প্রায় ৩০০ পরিবারের সমন্বয়ে গঠিত এই সমাজের মসজিদ পরিচালনা কমিটি দীর্ঘদিন ধরে কয়েকটি নির্দিষ্ট পরিবারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, কমিটির দায়িত্ব ও ক্ষমতা একই পরিবারগুলোর মধ্যে ঘুরেফিরে বণ্টন করা হয় এবং নতুন বা বাইরের যোগ্য ব্যক্তিদের কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয় না। ফলে এটি একটি পরিবারকেন্দ্রিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় পরিণত হয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

আরও পড়ুনঃ  ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা জানালেন মেম্বার পদপ্রার্থী জাকির হোসেন

গত পাঁচ বছরেও মসজিদের মৌলিক অবকাঠামোগত উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি। নিচ তলার কাজ কোনভাবে সম্পুর্ন করলেও, দ্বিতীয় তলার নির্মাণ কাজ দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে, যা নিয়ে এলাকায় নানা প্রশ্ন ও সন্দেহ সৃষ্টি হয়েছে।

মসজিদের সাউন্ড সিস্টেমের বেহাল অবস্থাও মুসল্লিদের ক্ষোভ বাড়িয়েছে।

জুমার খুতবা ও নামাজের সময় ইমামের বক্তব্য স্পষ্টভাবে শোনা যায় না। এমনকি সাম্প্রতিক ঈদুল ফিতরের জামাতেও একই সমস্যার সম্মুখীন হন তারা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক মুসল্লি বলেন“মসজিদের ফান্ডে লক্ষ লক্ষ টাকা থাকার কথা শুনি, কিন্তু বাস্তবে তার কোনো প্রতিফলন নেই। উন্নয়নের কাজ থেমে আছে, অথচ অর্থ কোথায় যাচ্ছে তা আমরা ঠিকভাবে জানতে পারি না।

আরেকজন মুসল্লির অভিযোগ—“প্রকাশিত হিসাবগুলো আমাদের কাছে স্বচ্ছ মনে হয়না ; বরং অনেকটাই মনগড়া ও একপাক্ষিক বলে মনে হয়। সবকিছুই কয়েকটি পরিবারের নিয়ন্ত্রণে।

আরও পড়ুনঃ  পবিত্র ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা জানালেন মাওলানা মো. আল-আমিন দেওয়ান

স্থানীয়দের মতে, গত কয়েক বছরের আর্থিক লেনদেনের কোনো নির্ভরযোগ্য, যাচাইযোগ্য ও উন্মুক্ত হিসাব প্রকাশ করা হয়নি।
ফলে মসজিদের অর্থ ব্যবস্থাপনায় জবাবদিহিতার অভাব নিয়ে তীব্র অসন্তোষ বিরাজ করছে।

গত কমিটিকে ঘিরে, বিভিন্ন অভিযোগের পর, নতুন কমিটি দায়িত্ব নেয়, নতুন কমিটির এখনো কোনো অসঙ্গতি ধরা না পড়লেও, জমা হয়েছে অনেক প্রশ্ন ?

এছাড়াও, মসজিদের ইমামের কেরাত ও সামগ্রিক দক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অনেক মুসল্লি। দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্ব পালন করলেও তার মাধ্যমে সমাজে প্রত্যাশিত ধর্মীয় ও নৈতিক উন্নয়ন ঘটছে না বলে মত প্রকাশ করেছেন তারা।

দক্ষ ও যোগ্য ইমাম নিয়োগের দাবিও উঠেছে। এই মসজিদের পাশেই রয়েছ, কুড়িগ্রামের ঐতিহ্যবাহী জামিয়া ইছহাকিয়া ইসলামিয়া মাদ্রাসা, সেখানেও রয়েছে অনেক বড় ও দক্ষ আলেম।

আরও পড়ুনঃ  না ফেরার দেশে চলে গেলেন সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান

পাশে এতগুলো এত বড় দক্ষ আলেম রেখেও, কেন এমন একজনকে দিয়ে নামাজ পড়ানো হচ্ছে যার কেরাত ও সামগ্রিক,বিষয় নিয়ে বিতর্ক ও অভিযোগ রয়েছে,এই বিষয় নিয়েও তৈরি হয়েছে বিশাল এক রহস্য।

গ্রামের গণ্যমান্য ব্যক্তি ও মুসল্লিরা বলেন, বর্তমান কমিটি সমস্যা গুলোর সমাধান করতে না পারলে, কমিটি ভেঙে সকলের অংশগ্রহণে তরুণ ও যুবকদেরকে কমিটিতে যুক্ত করে,দ্রুত একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও সর্বজনগ্রহণযোগ্য পরিচালনা কমিটি গঠন করতে হবে।

নতুন কমিটি সমস্যা গুলোর সমাধান করবে, স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনবে এবং ধারাবাহিকভাবে মসজিদের উন্নয়ন কাজ চালু রাখবে। এবং মসজিদের টাকা পূর্বের কোন কমিটির কাছে থাকলে তা প্রয়োজনীয় আইনি সহযোগিতা নিয়ে উদ্ধার করবে।