Dhaka ০২:৫২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
প্লাস্টিক দূষণ হ্রাস ও সমন্বিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কৌশল ও সুযোগ’ বিষয়ে আয়োজিত পরামর্শ সভা জরুরি সংবাদ সম্মেলনে বিজয়নগরে জুশনে জুলুশের র‍্যালি স্থগিত ঘোষণা চট্টগ্রামে সেনবাগ পেশাজীবী পরিষদের নবনির্বাচিত কমিটির পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত শিবচরে মাকে হত্যার পর নদীতে ফেলে দেওয়া শিশু আবিরের লাশ ৫ দিন পর উদ্ধার কালীগঞ্জে চাঁদা না দেওয়ায় প্রবাসীর বাড়িতে হামলার অভিযোগ, আহত ৫ শিবচর উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান দেলোয়ার বেপারী গ্রেপ্তার শ্রীমঙ্গল রেলস্টেশন থেকে ৩ কোটি টাকার ভারতীয় অবৈধ মালামাল আটক সিঙ্গারবিল ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মোঃ মানিক মিয়ার সমর্থনে মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা সেনবাগে সরকারি নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা: রাত ৮টার পরও খোলা থাকছে দোকানপাট গাজীপুরে মৃধা জনকল্যাণ ফাউন্ডেশনের মতবিনিময় ও সৌহার্দ্য সমাবেশ

বাহুবলে গাইড ওয়াল নির্মাণে অনিয়ম

হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলায় ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান সংলগ্ন গাইড ওয়াল নির্মাণে গুরুতর অনিয়ম, দুর্নীতি ও দায়িত্বহীনতার অভিযোগ উঠেছে। ১৬ মিটার গাইড ওয়াল নির্মাণের অনুমোদন থাকলেও বাস্তবে মাত্র ১২ মিটার নির্মাণ করে কাজ শেষ দেখানো হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। এতে করে বাকি প্রায় ৪ মিটার কাজ সম্পূর্ণভাবে গায়েব করে ফেলা হয়েছে ।

ঘটনাটি উপজেলার পুটিজিরী জামিয়া ইউনুছিয়া মহিলা মাদ্রাসা সংলগ্ন মসজিদের পাশে। সরেজমিনে দেখা যায়, নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার অল্প কিছুদিনের মধ্যেই গাইড ওয়ালটির বিভিন্ন অংশে ফাটল, বেঁকে যাওয়া এবং মাটিতে দেবে যাওয়ার চিত্র ফুটে উঠেছে। এতে করে যে কোনো সময় দেয়ালটি পাশের পুকুরে ধসে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা মসজিদ ও আশপাশের মানুষের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কাজটি নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করে অত্যন্ত অবহেলাভাবে সম্পন্ন করা হয়েছে। যথাযথ প্রকৌশল তদারকি ও গুণগত মান নিশ্চিত না করেই কাজ শেষ দেখানো হয়েছে, যা স্পষ্টতই সরকারি অর্থের অপচয় ও অনিয়মের ইঙ্গিত বহন করে।

আরও পড়ুনঃ  কালীগঞ্জে চাঁদা না দেওয়ায় প্রবাসীর বাড়িতে হামলার অভিযোগ, আহত ৫

প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক মাওলানা হাবিবুর রহমান কবির বলেন, “১৬ মিটার গাইড ওয়াল অনুমোদন হয়েছে, কিন্তু কাজ হয়েছে মাত্র ১২ মিটার। তাও আবার নিম্নমানের। বাকি ৪ মিটার কাজ কোথায় গেল, তা নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন। বর্তমানে যে অংশটি নির্মাণ করা হয়েছে সেটিও যেকোনো সময় ধসে পড়তে পারে।”

আরও পড়ুনঃ  সেনবাগে সরকারি নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা: রাত ৮টার পরও খোলা থাকছে দোকানপাট

তিনি আরও বলেন, “পবিত্র মসজিদ ও মাদ্রাসার মতো সংবেদনশীল স্থানে এমন অনিয়ম কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা মানসম্মতভাবে পূর্ণ ১৬ মিটার কাজ পুনরায় সম্পন্ন করার দাবি জানাই।”

অনুসন্ধানে জানা যায়, বাহুবল উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শামসুল আলমের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স মিজান এন্টারপ্রাইজ এই কাজটি বাস্তবায়ন করেছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রভাব খাটিয়ে নিম্নমানের কাজ করেও দায় এড়ানোর চেষ্টা চলছে।

এ বিষয়ে উপজেলা এলজিইডি’র সার্ভেয়ার উজ্জ্বল মন্ডল বলেন, “যতুটুকু জানি এটা বিএনপির সেক্রেটারি শামসু ভাইয়ের কাজ। বাকি কাজ সম্পন্ন না করলে আমরা কোনো বিল প্রদান করবো না।”

আরও পড়ুনঃ  প্লাস্টিক দূষণ হ্রাস ও সমন্বিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কৌশল ও সুযোগ’ বিষয়ে আয়োজিত পরামর্শ সভা

অন্যদিকে উপজেলা প্রকৌশলী মফিজুর রহমান বলেন, “বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে আমি বিষয়টি খতিয়ে দেখছি।”

এ ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। তারা দ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত, দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং পুনরায় গুণগত মান নিশ্চিত করে কাজ সম্পন্ন করার জোর দাবি জানিয়েছেন।

সচেতন মহলের মতে, উন্নয়ন প্রকল্পে এ ধরনের অনিয়ম শুধু অর্থের অপচয়ই নয়, বরং জননিরাপত্তার জন্যও বড় ধরনের হুমকি। বিশেষ করে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান সংলগ্ন স্থাপনায় নিম্নমানের কাজ ভবিষ্যতে ভয়াবহ দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

প্লাস্টিক দূষণ হ্রাস ও সমন্বিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কৌশল ও সুযোগ’ বিষয়ে আয়োজিত পরামর্শ সভা

বাহুবলে গাইড ওয়াল নির্মাণে অনিয়ম

আপডেটের সময়: ০৬:০৮:৫২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩ মে ২০২৬

হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলায় ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান সংলগ্ন গাইড ওয়াল নির্মাণে গুরুতর অনিয়ম, দুর্নীতি ও দায়িত্বহীনতার অভিযোগ উঠেছে। ১৬ মিটার গাইড ওয়াল নির্মাণের অনুমোদন থাকলেও বাস্তবে মাত্র ১২ মিটার নির্মাণ করে কাজ শেষ দেখানো হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। এতে করে বাকি প্রায় ৪ মিটার কাজ সম্পূর্ণভাবে গায়েব করে ফেলা হয়েছে ।

ঘটনাটি উপজেলার পুটিজিরী জামিয়া ইউনুছিয়া মহিলা মাদ্রাসা সংলগ্ন মসজিদের পাশে। সরেজমিনে দেখা যায়, নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার অল্প কিছুদিনের মধ্যেই গাইড ওয়ালটির বিভিন্ন অংশে ফাটল, বেঁকে যাওয়া এবং মাটিতে দেবে যাওয়ার চিত্র ফুটে উঠেছে। এতে করে যে কোনো সময় দেয়ালটি পাশের পুকুরে ধসে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা মসজিদ ও আশপাশের মানুষের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কাজটি নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করে অত্যন্ত অবহেলাভাবে সম্পন্ন করা হয়েছে। যথাযথ প্রকৌশল তদারকি ও গুণগত মান নিশ্চিত না করেই কাজ শেষ দেখানো হয়েছে, যা স্পষ্টতই সরকারি অর্থের অপচয় ও অনিয়মের ইঙ্গিত বহন করে।

আরও পড়ুনঃ  শিবচর উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান দেলোয়ার বেপারী গ্রেপ্তার

প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক মাওলানা হাবিবুর রহমান কবির বলেন, “১৬ মিটার গাইড ওয়াল অনুমোদন হয়েছে, কিন্তু কাজ হয়েছে মাত্র ১২ মিটার। তাও আবার নিম্নমানের। বাকি ৪ মিটার কাজ কোথায় গেল, তা নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন। বর্তমানে যে অংশটি নির্মাণ করা হয়েছে সেটিও যেকোনো সময় ধসে পড়তে পারে।”

আরও পড়ুনঃ  জরুরি সংবাদ সম্মেলনে বিজয়নগরে জুশনে জুলুশের র‍্যালি স্থগিত ঘোষণা

তিনি আরও বলেন, “পবিত্র মসজিদ ও মাদ্রাসার মতো সংবেদনশীল স্থানে এমন অনিয়ম কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা মানসম্মতভাবে পূর্ণ ১৬ মিটার কাজ পুনরায় সম্পন্ন করার দাবি জানাই।”

অনুসন্ধানে জানা যায়, বাহুবল উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শামসুল আলমের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স মিজান এন্টারপ্রাইজ এই কাজটি বাস্তবায়ন করেছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রভাব খাটিয়ে নিম্নমানের কাজ করেও দায় এড়ানোর চেষ্টা চলছে।

এ বিষয়ে উপজেলা এলজিইডি’র সার্ভেয়ার উজ্জ্বল মন্ডল বলেন, “যতুটুকু জানি এটা বিএনপির সেক্রেটারি শামসু ভাইয়ের কাজ। বাকি কাজ সম্পন্ন না করলে আমরা কোনো বিল প্রদান করবো না।”

আরও পড়ুনঃ  গাজীপুরে মৃধা জনকল্যাণ ফাউন্ডেশনের মতবিনিময় ও সৌহার্দ্য সমাবেশ

অন্যদিকে উপজেলা প্রকৌশলী মফিজুর রহমান বলেন, “বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে আমি বিষয়টি খতিয়ে দেখছি।”

এ ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। তারা দ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত, দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং পুনরায় গুণগত মান নিশ্চিত করে কাজ সম্পন্ন করার জোর দাবি জানিয়েছেন।

সচেতন মহলের মতে, উন্নয়ন প্রকল্পে এ ধরনের অনিয়ম শুধু অর্থের অপচয়ই নয়, বরং জননিরাপত্তার জন্যও বড় ধরনের হুমকি। বিশেষ করে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান সংলগ্ন স্থাপনায় নিম্নমানের কাজ ভবিষ্যতে ভয়াবহ দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।