Dhaka ০৬:৫১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬, ৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
বৃষ্টিকে উপেক্ষা করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে স্বাগত জানালেন রাজনগরবাসী টাঙ্গাইল নাগরপুরে পল্লী বিদ্যুৎ এর ভোগান্তিতে অতিষ্ঠ জনজীবন শ্রীমঙ্গলে ৩য় ধাপে ফ্যামেলী কার্ড উদ্বোধন করেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী চাঁদপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের স্কুলছাত্রীদের ইভটিজিং: ৩ বহিরাগত যুবক গ্রেফতার, ২ ছাত্রী বহিষ্কার বাহুবলে শ্বশুরবাড়ির বিরোধে নুর আলীর উপর হামলা, কুপিয়ে গুরুতর জখম বাহুবল ডুবাঐ বাজারে সংঘর্ষে নিহত ১ আহত আর অসংখ্য মানুষ আরমানিটোলায় পল্লী মঙ্গল কর্মসূচীর ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প, ৫ শতাধিক অসহায় মানুষ পেলেন চিকিৎসাসেবা শ্রীমঙ্গলে মাছ ধরার জালে ধরা পড়ল অজগর, বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর সেনবাগে ঢালুয়া দারুসসুন্নাত মাদ্রাসার আজীবন দাতা সদস্য হলেন লায়ন সৈয়দ হারুন: ২ লাখ টাকার পে-অর্ডার হস্তান্তর সেনবাগে সড়ক দুর্ঘটনা: দুই সহোদরসহ প্রাণ গেল ৩ তরুণের, এলাকায় শোকের ছায়া

বাহুবলে গাইড ওয়াল নির্মাণে অনিয়ম

হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলায় ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান সংলগ্ন গাইড ওয়াল নির্মাণে গুরুতর অনিয়ম, দুর্নীতি ও দায়িত্বহীনতার অভিযোগ উঠেছে। ১৬ মিটার গাইড ওয়াল নির্মাণের অনুমোদন থাকলেও বাস্তবে মাত্র ১২ মিটার নির্মাণ করে কাজ শেষ দেখানো হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। এতে করে বাকি প্রায় ৪ মিটার কাজ সম্পূর্ণভাবে গায়েব করে ফেলা হয়েছে ।

ঘটনাটি উপজেলার পুটিজিরী জামিয়া ইউনুছিয়া মহিলা মাদ্রাসা সংলগ্ন মসজিদের পাশে। সরেজমিনে দেখা যায়, নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার অল্প কিছুদিনের মধ্যেই গাইড ওয়ালটির বিভিন্ন অংশে ফাটল, বেঁকে যাওয়া এবং মাটিতে দেবে যাওয়ার চিত্র ফুটে উঠেছে। এতে করে যে কোনো সময় দেয়ালটি পাশের পুকুরে ধসে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা মসজিদ ও আশপাশের মানুষের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কাজটি নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করে অত্যন্ত অবহেলাভাবে সম্পন্ন করা হয়েছে। যথাযথ প্রকৌশল তদারকি ও গুণগত মান নিশ্চিত না করেই কাজ শেষ দেখানো হয়েছে, যা স্পষ্টতই সরকারি অর্থের অপচয় ও অনিয়মের ইঙ্গিত বহন করে।

আরও পড়ুনঃ  শ্রীমঙ্গলে ৩য় ধাপে ফ্যামেলী কার্ড উদ্বোধন করেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী

প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক মাওলানা হাবিবুর রহমান কবির বলেন, “১৬ মিটার গাইড ওয়াল অনুমোদন হয়েছে, কিন্তু কাজ হয়েছে মাত্র ১২ মিটার। তাও আবার নিম্নমানের। বাকি ৪ মিটার কাজ কোথায় গেল, তা নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন। বর্তমানে যে অংশটি নির্মাণ করা হয়েছে সেটিও যেকোনো সময় ধসে পড়তে পারে।”

আরও পড়ুনঃ  নাগরপুরে বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে যুব বিভাগের বৃক্ষরোপণও চারা বিতরণ অনুষ্ঠিত

তিনি আরও বলেন, “পবিত্র মসজিদ ও মাদ্রাসার মতো সংবেদনশীল স্থানে এমন অনিয়ম কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা মানসম্মতভাবে পূর্ণ ১৬ মিটার কাজ পুনরায় সম্পন্ন করার দাবি জানাই।”

অনুসন্ধানে জানা যায়, বাহুবল উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শামসুল আলমের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স মিজান এন্টারপ্রাইজ এই কাজটি বাস্তবায়ন করেছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রভাব খাটিয়ে নিম্নমানের কাজ করেও দায় এড়ানোর চেষ্টা চলছে।

এ বিষয়ে উপজেলা এলজিইডি’র সার্ভেয়ার উজ্জ্বল মন্ডল বলেন, “যতুটুকু জানি এটা বিএনপির সেক্রেটারি শামসু ভাইয়ের কাজ। বাকি কাজ সম্পন্ন না করলে আমরা কোনো বিল প্রদান করবো না।”

আরও পড়ুনঃ  বাহুবলে শ্বশুরবাড়ির বিরোধে নুর আলীর উপর হামলা, কুপিয়ে গুরুতর জখম

অন্যদিকে উপজেলা প্রকৌশলী মফিজুর রহমান বলেন, “বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে আমি বিষয়টি খতিয়ে দেখছি।”

এ ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। তারা দ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত, দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং পুনরায় গুণগত মান নিশ্চিত করে কাজ সম্পন্ন করার জোর দাবি জানিয়েছেন।

সচেতন মহলের মতে, উন্নয়ন প্রকল্পে এ ধরনের অনিয়ম শুধু অর্থের অপচয়ই নয়, বরং জননিরাপত্তার জন্যও বড় ধরনের হুমকি। বিশেষ করে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান সংলগ্ন স্থাপনায় নিম্নমানের কাজ ভবিষ্যতে ভয়াবহ দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

বৃষ্টিকে উপেক্ষা করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে স্বাগত জানালেন রাজনগরবাসী

বাহুবলে গাইড ওয়াল নির্মাণে অনিয়ম

আপডেটের সময়: ০৬:০৮:৫২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩ মে ২০২৬

হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলায় ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান সংলগ্ন গাইড ওয়াল নির্মাণে গুরুতর অনিয়ম, দুর্নীতি ও দায়িত্বহীনতার অভিযোগ উঠেছে। ১৬ মিটার গাইড ওয়াল নির্মাণের অনুমোদন থাকলেও বাস্তবে মাত্র ১২ মিটার নির্মাণ করে কাজ শেষ দেখানো হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। এতে করে বাকি প্রায় ৪ মিটার কাজ সম্পূর্ণভাবে গায়েব করে ফেলা হয়েছে ।

ঘটনাটি উপজেলার পুটিজিরী জামিয়া ইউনুছিয়া মহিলা মাদ্রাসা সংলগ্ন মসজিদের পাশে। সরেজমিনে দেখা যায়, নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার অল্প কিছুদিনের মধ্যেই গাইড ওয়ালটির বিভিন্ন অংশে ফাটল, বেঁকে যাওয়া এবং মাটিতে দেবে যাওয়ার চিত্র ফুটে উঠেছে। এতে করে যে কোনো সময় দেয়ালটি পাশের পুকুরে ধসে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা মসজিদ ও আশপাশের মানুষের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কাজটি নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করে অত্যন্ত অবহেলাভাবে সম্পন্ন করা হয়েছে। যথাযথ প্রকৌশল তদারকি ও গুণগত মান নিশ্চিত না করেই কাজ শেষ দেখানো হয়েছে, যা স্পষ্টতই সরকারি অর্থের অপচয় ও অনিয়মের ইঙ্গিত বহন করে।

আরও পড়ুনঃ  বাহুবলে শ্বশুরবাড়ির বিরোধে নুর আলীর উপর হামলা, কুপিয়ে গুরুতর জখম

প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক মাওলানা হাবিবুর রহমান কবির বলেন, “১৬ মিটার গাইড ওয়াল অনুমোদন হয়েছে, কিন্তু কাজ হয়েছে মাত্র ১২ মিটার। তাও আবার নিম্নমানের। বাকি ৪ মিটার কাজ কোথায় গেল, তা নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন। বর্তমানে যে অংশটি নির্মাণ করা হয়েছে সেটিও যেকোনো সময় ধসে পড়তে পারে।”

আরও পড়ুনঃ  বৃষ্টিকে উপেক্ষা করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে স্বাগত জানালেন রাজনগরবাসী

তিনি আরও বলেন, “পবিত্র মসজিদ ও মাদ্রাসার মতো সংবেদনশীল স্থানে এমন অনিয়ম কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা মানসম্মতভাবে পূর্ণ ১৬ মিটার কাজ পুনরায় সম্পন্ন করার দাবি জানাই।”

অনুসন্ধানে জানা যায়, বাহুবল উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শামসুল আলমের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স মিজান এন্টারপ্রাইজ এই কাজটি বাস্তবায়ন করেছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রভাব খাটিয়ে নিম্নমানের কাজ করেও দায় এড়ানোর চেষ্টা চলছে।

এ বিষয়ে উপজেলা এলজিইডি’র সার্ভেয়ার উজ্জ্বল মন্ডল বলেন, “যতুটুকু জানি এটা বিএনপির সেক্রেটারি শামসু ভাইয়ের কাজ। বাকি কাজ সম্পন্ন না করলে আমরা কোনো বিল প্রদান করবো না।”

আরও পড়ুনঃ  শ্রীমঙ্গলে মাছ ধরার জালে ধরা পড়ল অজগর, বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর

অন্যদিকে উপজেলা প্রকৌশলী মফিজুর রহমান বলেন, “বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে আমি বিষয়টি খতিয়ে দেখছি।”

এ ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। তারা দ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত, দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং পুনরায় গুণগত মান নিশ্চিত করে কাজ সম্পন্ন করার জোর দাবি জানিয়েছেন।

সচেতন মহলের মতে, উন্নয়ন প্রকল্পে এ ধরনের অনিয়ম শুধু অর্থের অপচয়ই নয়, বরং জননিরাপত্তার জন্যও বড় ধরনের হুমকি। বিশেষ করে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান সংলগ্ন স্থাপনায় নিম্নমানের কাজ ভবিষ্যতে ভয়াবহ দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।