
“পোশাকের মতো পাল্টে ফেলে দল, একই অঙ্গে কেন এতো ছল!”—এই প্রবাদটিই যেন এখন নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার ৪নং কাদরা ইউনিয়নের আলোচিত নাম মো. আমির হোসেনের ক্ষেত্রে বাস্তব হয়ে ধরা দিয়েছে। তার রহস্যময় রাজনৈতিক অবস্থান ও ঘনঘন ভোলবদল নিয়ে বর্তমানে স্থানীয় জনমনে দেখা দিয়েছে তীব্র কৌতূহল ও সমালোচনা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মো. আমির হোসেনের রাজনৈতিক জীবনের সূচনা ও উত্থান নিয়ে নানা মুখরোচক তথ্য চাউর হচ্ছে। একসময় তিনি কাদরা ইউনিয়নের তৎকালীন চেয়ারম্যানের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তৎকালীন ক্ষমতার বলয়ে থেকে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন সভা-সমাবেশ ও দলীয় কর্মকাণ্ডে তার সরব উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। কিন্তু ক্ষমতার পটপরিবর্তনের সাথে সাথে যেন খোলস পাল্টে ফেলেছেন তিনি।
অভিযোগ উঠেছে, বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় আমির হোসেন এখন বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে সখ্য গড়ে তুলেছেন। তবে এখানেই শেষ নয়; এলাকাবাসীর একটি বড় অংশের দাবি—তিনি সম্প্রতি জামায়াতে ইসলামীর সদস্যপদ গ্রহণ করেছেন। একই সাথে ভিন্ন ভিন্ন আদর্শের দলের সাথে এই সম্পৃক্ততা তাকে স্থানীয় পর্যায়ে একটি ‘রহস্যময়’ চরিত্রে পরিণত করেছে।
আমির হোসেনের এমন ‘পল্টিবাজি’ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এখন উত্তাল। ফেসবুকসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে তাকে নিয়ে “সখি তুমি কার?” শিরোনামে অসংখ্য পোস্ট ও ট্রল শেয়ার করা হচ্ছে। নেটিজেনরা প্রশ্ন তুলছেন—আদতে তার রাজনৈতিক আদর্শ কী? নাকি ব্যক্তিস্বার্থ আর সুবিধাবাদই তার মূল পরিচয়?
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক ডিগবাজি নতুন কোনো ঘটনা নয়। তবে আমির হোসেনের ক্ষেত্রে যে মাত্রায় আলোচনা হচ্ছে, তা বিরল। তাদের মতে, কারো রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এবং নির্ভরযোগ্য তথ্য যাচাই করা জরুরি।
শেষ পর্যন্ত আমির হোসেন কোন পতাকাতলে থিতু হন, নাকি এই লুকোচুরি খেলা চলতেই থাকবে—সেদিকেই এখন নজর রাখছে কাদরা ইউনিয়নের সচেতন মহল।
মো: মিজানুর রহমান সুমন, সেনবাগ (নোয়াখালী) প্রতিনিধি : 

















