Dhaka ০৭:০১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ

মাদকের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোই কি অপরাধ? সেনবাগে কিশোর ফাহিমকে নৃশংসভাবে খুন, আহত ৩

নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলায় মাদক ব্যবসার প্রতিবাদ ও বিরোধকে কেন্দ্র করে আরাফাত হোসেন ফাহিম (১৬) নামে দশম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে মাদককারবারিরা। এ সময় সন্ত্রাসীদের বর্বরোচিত হামলায় আরও তিন তরুণ গুরুতর আহত হয়েছেন।

বুধবার (১০ জুন) রাত ৮টার দিকে উপজেলার নবীপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের দেবিসিংহপুর গ্রামের হাজেরা দিঘী সংলগ্ন এলাকায় এই লোমহর্ষক ঘটনা ঘটে। এই হত্যাকাণ্ডের পর পুরো এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

নিহত আরাফাত হোসেন ফাহিম বেগমগঞ্জ উপজেলার চৌমুহনী পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের হাজীপুর এলাকার মো. শাহজাহানের ছেলে। সে স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র ছিল।

আরও পড়ুনঃ  সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত এবং CARE Bangladesh এর প্রতিনিধির বরগুনার জাগোনারীর কার্যক্রম পরিদর্শন

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সন্ধ্যায় ফাহিম নিজের বাড়ি থেকে দেবিসিংহপুর গ্রামে নানার বাড়িতে বেড়াতে আসে। সেখান থেকে খালার বাড়িতে যাওয়ার পথে হাজেরা দিঘী এলাকায় একা পেয়ে হারুন, জাহাঙ্গীর, আবুল খায়ের ও মমিনসহ ৭-৮ জনের একটি সশস্ত্র দল তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। ধারালো অস্ত্রের নির্মম আঘাতে ফাহিমের বাম পায়ে গভীর ক্ষত সৃষ্টি হয়। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে আশঙ্কাজনক অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে নোয়াখালী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ও এলাকাবাসী জানান, দেবিসিংহপুর গ্রামের হাজেরা দিঘীর পেছনে একটি কালভার্টের ওপর দীর্ঘদিন ধরে হারুন, জাহাঙ্গীর, আবুল খায়ের ও মমিনের নেতৃত্বে মাদক ব্যবসা ও আড্ডা চলছিল। সম্প্রতি মান্না নামে এক মাদকসেবীকে আটকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে সে মূলহোতা হারুনের নাম প্রকাশ করে। এরপরই এলাকার সচেতন তরুণরা মাদক বিক্রি ও সেবনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেয় এবং রাত জেগে পাহারা বসায়। এতে গত কয়েকদিন ধরে ওই এলাকায় মাদকের আড্ডা বন্ধ ছিল।
এরই জের ধরে বুধবার রাতে আলী হায়দার ফাহিম, রিফাত ও সাকিবসহ কয়েকজন যুবক বায়তুন আমান মসজিদ সংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করার সময় হারুনের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। সন্ত্রাসীরা আলী হায়দার ফাহিমের বুকে ছুরিকাঘাত করে, রিফাতের হাতের রগ কেটে দেয় এবং সাকিবকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে।

আরও পড়ুনঃ  নগরকান্দায় সারের ডিলার নিয়োগের জেরে যুবদল নেতাকে হাতুড়িপেটা, আহত ৫

হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ক্ষোভে ফেটে পড়ে সাধারণ মানুষ। তারা দ্রুত এই চক্রের সব সদস্যকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

আরও পড়ুনঃ  গাজীপুরে চাঁদা না পেয়ে পাইকারি মার্কেটে আগুন দেওয়ার হুমকি, গ্রেপ্তার ১

সেনবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুর রহিম সরকার বলেন: “প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, মাদক সংক্রান্ত বিরোধের জেরেই এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সূত্রপাত। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ঘটনার মূলহোতা অভিযুক্ত হারুনকে (৩৫) একটি রক্তাক্ত ছোরাসহ আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে এবং জড়িত বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

নাগরপুরে ফ্যামিলি কার্ড তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করেন এমপি লাভলু

মাদকের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোই কি অপরাধ? সেনবাগে কিশোর ফাহিমকে নৃশংসভাবে খুন, আহত ৩

আপডেটের সময়: ১১:৫২:১৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬

নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলায় মাদক ব্যবসার প্রতিবাদ ও বিরোধকে কেন্দ্র করে আরাফাত হোসেন ফাহিম (১৬) নামে দশম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে মাদককারবারিরা। এ সময় সন্ত্রাসীদের বর্বরোচিত হামলায় আরও তিন তরুণ গুরুতর আহত হয়েছেন।

বুধবার (১০ জুন) রাত ৮টার দিকে উপজেলার নবীপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের দেবিসিংহপুর গ্রামের হাজেরা দিঘী সংলগ্ন এলাকায় এই লোমহর্ষক ঘটনা ঘটে। এই হত্যাকাণ্ডের পর পুরো এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

নিহত আরাফাত হোসেন ফাহিম বেগমগঞ্জ উপজেলার চৌমুহনী পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের হাজীপুর এলাকার মো. শাহজাহানের ছেলে। সে স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র ছিল।

আরও পড়ুনঃ  টাঙ্গাইলের নাগরপুরে ৬'বছরের শিশু ধর্ষণ মামলার আসামী গ্রেফতার করেছে এসআরবি

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সন্ধ্যায় ফাহিম নিজের বাড়ি থেকে দেবিসিংহপুর গ্রামে নানার বাড়িতে বেড়াতে আসে। সেখান থেকে খালার বাড়িতে যাওয়ার পথে হাজেরা দিঘী এলাকায় একা পেয়ে হারুন, জাহাঙ্গীর, আবুল খায়ের ও মমিনসহ ৭-৮ জনের একটি সশস্ত্র দল তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। ধারালো অস্ত্রের নির্মম আঘাতে ফাহিমের বাম পায়ে গভীর ক্ষত সৃষ্টি হয়। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে আশঙ্কাজনক অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে নোয়াখালী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ও এলাকাবাসী জানান, দেবিসিংহপুর গ্রামের হাজেরা দিঘীর পেছনে একটি কালভার্টের ওপর দীর্ঘদিন ধরে হারুন, জাহাঙ্গীর, আবুল খায়ের ও মমিনের নেতৃত্বে মাদক ব্যবসা ও আড্ডা চলছিল। সম্প্রতি মান্না নামে এক মাদকসেবীকে আটকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে সে মূলহোতা হারুনের নাম প্রকাশ করে। এরপরই এলাকার সচেতন তরুণরা মাদক বিক্রি ও সেবনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেয় এবং রাত জেগে পাহারা বসায়। এতে গত কয়েকদিন ধরে ওই এলাকায় মাদকের আড্ডা বন্ধ ছিল।
এরই জের ধরে বুধবার রাতে আলী হায়দার ফাহিম, রিফাত ও সাকিবসহ কয়েকজন যুবক বায়তুন আমান মসজিদ সংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করার সময় হারুনের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। সন্ত্রাসীরা আলী হায়দার ফাহিমের বুকে ছুরিকাঘাত করে, রিফাতের হাতের রগ কেটে দেয় এবং সাকিবকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে।

আরও পড়ুনঃ  গাজীপুরে চাঁদা না পেয়ে পাইকারি মার্কেটে আগুন দেওয়ার হুমকি, গ্রেপ্তার ১

হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ক্ষোভে ফেটে পড়ে সাধারণ মানুষ। তারা দ্রুত এই চক্রের সব সদস্যকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

আরও পড়ুনঃ  নাগরপুরে ফ্যামিলি কার্ড তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করেন এমপি লাভলু

সেনবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুর রহিম সরকার বলেন: “প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, মাদক সংক্রান্ত বিরোধের জেরেই এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সূত্রপাত। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ঘটনার মূলহোতা অভিযুক্ত হারুনকে (৩৫) একটি রক্তাক্ত ছোরাসহ আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে এবং জড়িত বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”