Dhaka ১২:০১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
সালথায় হত্যা মামলার আতঙ্কে পুরুষশূন্য গ্রাম,পাট কাটতে বাধা,প্রবাসীর স্ত্রীকে মারধরের অভিযোগ টঙ্গী-কালীগঞ্জ সড়কের পাশে ময়লার ভাগাড় দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ পথচারী, শিক্ষার্থী ও যাত্রীরা; দ্রুত অপসারণের দাবি সেনবাগে নিখোঁজের চার দিন পর ময়লার ডোবা থেকে বৃদ্ধের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার সালথায় মাঝারদিয়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের কমিটি গঠনের লক্ষ্যে মনোনয়ন ফরম বিতরণ সেনবাগ থানা পুলিশের বিশেষ অভিযান: নারী নির্যাতন মামলার আসামিসহ গ্রেফতার ১১ নাগরপুরে এলজিইডি রাস্তার কাজে ঠিকাদার এর বিরুদ্ধে  অনিয়মের অভিযোগ মিরপুর বাজার থেকে ১৮ কেজি নিষিদ্ধ পিরানহা মাছ জব্দ সালথা ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনে মনোনয়ন ফরম বিতরণ কালীগঞ্জ পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডে আলোচনায় কাউন্সিলর প্রার্থী ইউসুফ মিয়া পূবাইলে হামলা ও ৩০ লাখ টাকা লুটের অভিযোগ: মামলা হলেও দুই সপ্তাহে গ্রেপ্তার নেই

মাদকের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোই কি অপরাধ? সেনবাগে কিশোর ফাহিমকে নৃশংসভাবে খুন, আহত ৩

নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলায় মাদক ব্যবসার প্রতিবাদ ও বিরোধকে কেন্দ্র করে আরাফাত হোসেন ফাহিম (১৬) নামে দশম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে মাদককারবারিরা। এ সময় সন্ত্রাসীদের বর্বরোচিত হামলায় আরও তিন তরুণ গুরুতর আহত হয়েছেন।

বুধবার (১০ জুন) রাত ৮টার দিকে উপজেলার নবীপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের দেবিসিংহপুর গ্রামের হাজেরা দিঘী সংলগ্ন এলাকায় এই লোমহর্ষক ঘটনা ঘটে। এই হত্যাকাণ্ডের পর পুরো এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

নিহত আরাফাত হোসেন ফাহিম বেগমগঞ্জ উপজেলার চৌমুহনী পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের হাজীপুর এলাকার মো. শাহজাহানের ছেলে। সে স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র ছিল।

আরও পড়ুনঃ  সালথা ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনে মনোনয়ন ফরম বিতরণ

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সন্ধ্যায় ফাহিম নিজের বাড়ি থেকে দেবিসিংহপুর গ্রামে নানার বাড়িতে বেড়াতে আসে। সেখান থেকে খালার বাড়িতে যাওয়ার পথে হাজেরা দিঘী এলাকায় একা পেয়ে হারুন, জাহাঙ্গীর, আবুল খায়ের ও মমিনসহ ৭-৮ জনের একটি সশস্ত্র দল তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। ধারালো অস্ত্রের নির্মম আঘাতে ফাহিমের বাম পায়ে গভীর ক্ষত সৃষ্টি হয়। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে আশঙ্কাজনক অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে নোয়াখালী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ও এলাকাবাসী জানান, দেবিসিংহপুর গ্রামের হাজেরা দিঘীর পেছনে একটি কালভার্টের ওপর দীর্ঘদিন ধরে হারুন, জাহাঙ্গীর, আবুল খায়ের ও মমিনের নেতৃত্বে মাদক ব্যবসা ও আড্ডা চলছিল। সম্প্রতি মান্না নামে এক মাদকসেবীকে আটকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে সে মূলহোতা হারুনের নাম প্রকাশ করে। এরপরই এলাকার সচেতন তরুণরা মাদক বিক্রি ও সেবনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেয় এবং রাত জেগে পাহারা বসায়। এতে গত কয়েকদিন ধরে ওই এলাকায় মাদকের আড্ডা বন্ধ ছিল।
এরই জের ধরে বুধবার রাতে আলী হায়দার ফাহিম, রিফাত ও সাকিবসহ কয়েকজন যুবক বায়তুন আমান মসজিদ সংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করার সময় হারুনের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। সন্ত্রাসীরা আলী হায়দার ফাহিমের বুকে ছুরিকাঘাত করে, রিফাতের হাতের রগ কেটে দেয় এবং সাকিবকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে।

আরও পড়ুনঃ  পূবাইলে হামলা ও ৩০ লাখ টাকা লুটের অভিযোগ: মামলা হলেও দুই সপ্তাহে গ্রেপ্তার নেই

হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ক্ষোভে ফেটে পড়ে সাধারণ মানুষ। তারা দ্রুত এই চক্রের সব সদস্যকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

আরও পড়ুনঃ  এডিপি প্রকল্পের আওতায় ডিমলায় শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক নিরাপত্তা খাতে উপকরণ বিতরণ

সেনবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুর রহিম সরকার বলেন: “প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, মাদক সংক্রান্ত বিরোধের জেরেই এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সূত্রপাত। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ঘটনার মূলহোতা অভিযুক্ত হারুনকে (৩৫) একটি রক্তাক্ত ছোরাসহ আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে এবং জড়িত বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

সালথায় হত্যা মামলার আতঙ্কে পুরুষশূন্য গ্রাম,পাট কাটতে বাধা,প্রবাসীর স্ত্রীকে মারধরের অভিযোগ

মাদকের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোই কি অপরাধ? সেনবাগে কিশোর ফাহিমকে নৃশংসভাবে খুন, আহত ৩

আপডেটের সময়: ১১:৫২:১৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬

নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলায় মাদক ব্যবসার প্রতিবাদ ও বিরোধকে কেন্দ্র করে আরাফাত হোসেন ফাহিম (১৬) নামে দশম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে মাদককারবারিরা। এ সময় সন্ত্রাসীদের বর্বরোচিত হামলায় আরও তিন তরুণ গুরুতর আহত হয়েছেন।

বুধবার (১০ জুন) রাত ৮টার দিকে উপজেলার নবীপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের দেবিসিংহপুর গ্রামের হাজেরা দিঘী সংলগ্ন এলাকায় এই লোমহর্ষক ঘটনা ঘটে। এই হত্যাকাণ্ডের পর পুরো এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

নিহত আরাফাত হোসেন ফাহিম বেগমগঞ্জ উপজেলার চৌমুহনী পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের হাজীপুর এলাকার মো. শাহজাহানের ছেলে। সে স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র ছিল।

আরও পড়ুনঃ  সেনবাগ থানা পুলিশের বিশেষ অভিযান: নারী নির্যাতন মামলার আসামিসহ গ্রেফতার ১১

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সন্ধ্যায় ফাহিম নিজের বাড়ি থেকে দেবিসিংহপুর গ্রামে নানার বাড়িতে বেড়াতে আসে। সেখান থেকে খালার বাড়িতে যাওয়ার পথে হাজেরা দিঘী এলাকায় একা পেয়ে হারুন, জাহাঙ্গীর, আবুল খায়ের ও মমিনসহ ৭-৮ জনের একটি সশস্ত্র দল তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। ধারালো অস্ত্রের নির্মম আঘাতে ফাহিমের বাম পায়ে গভীর ক্ষত সৃষ্টি হয়। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে আশঙ্কাজনক অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে নোয়াখালী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ও এলাকাবাসী জানান, দেবিসিংহপুর গ্রামের হাজেরা দিঘীর পেছনে একটি কালভার্টের ওপর দীর্ঘদিন ধরে হারুন, জাহাঙ্গীর, আবুল খায়ের ও মমিনের নেতৃত্বে মাদক ব্যবসা ও আড্ডা চলছিল। সম্প্রতি মান্না নামে এক মাদকসেবীকে আটকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে সে মূলহোতা হারুনের নাম প্রকাশ করে। এরপরই এলাকার সচেতন তরুণরা মাদক বিক্রি ও সেবনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেয় এবং রাত জেগে পাহারা বসায়। এতে গত কয়েকদিন ধরে ওই এলাকায় মাদকের আড্ডা বন্ধ ছিল।
এরই জের ধরে বুধবার রাতে আলী হায়দার ফাহিম, রিফাত ও সাকিবসহ কয়েকজন যুবক বায়তুন আমান মসজিদ সংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করার সময় হারুনের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। সন্ত্রাসীরা আলী হায়দার ফাহিমের বুকে ছুরিকাঘাত করে, রিফাতের হাতের রগ কেটে দেয় এবং সাকিবকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে।

আরও পড়ুনঃ  কালীগঞ্জ পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডে আলোচনায় কাউন্সিলর প্রার্থী ইউসুফ মিয়া

হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ক্ষোভে ফেটে পড়ে সাধারণ মানুষ। তারা দ্রুত এই চক্রের সব সদস্যকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

আরও পড়ুনঃ  সেনবাগে নিখোঁজের চার দিন পর ময়লার ডোবা থেকে বৃদ্ধের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার

সেনবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুর রহিম সরকার বলেন: “প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, মাদক সংক্রান্ত বিরোধের জেরেই এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সূত্রপাত। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ঘটনার মূলহোতা অভিযুক্ত হারুনকে (৩৫) একটি রক্তাক্ত ছোরাসহ আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে এবং জড়িত বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”