Dhaka 12:34 am, Saturday, 17 January 2026

ফরিদপুরে ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী ধর্ষিতা, তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা: গ্রাম্য সালিশের ফাঁদে ন্যায়বিচার?

ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলায় এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। ৫৫ বছর বয়সী পাঁচ সন্তানের জনক মুকুল শেখের বিরুদ্ধে স্থানীয় ষষ্ঠ শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। ধর্ষণের ফলে মেয়েটি বর্তমানে তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা। এই ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর পুরো উপজেলায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।

গতকাল বুধবার সরেজমিনে অনুসন্ধানে গিয়ে স্থানীয় মুরব্বিদের কাছ থেকে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করা গেছে। অভিযুক্ত মুকুল শেখ উপজেলার দাদপুর ইউনিয়নের কমলেশ্বরদী গ্রামের কিতাবদী শেখের ছেলে।

অন্তঃসত্ত্বা মেয়েটি বর্তমানে চরম স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে রয়েছে। পেটে ব্যথা, বমি ও রক্তক্ষরণের কারণে তার শারীরিক অবস্থা গুরুতর। অভাবের কারণে তার উন্নত চিকিৎসাও করানো সম্ভব হচ্ছে না।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মেয়েটির মা অভাবের তাড়নায় কয়েক বছর আগে বিদেশে যান। বাড়িতে তার বাবা ও তিন বোন থাকে। কাজের জন্য বাবা বাইরে গেলে তিন কন্যা সন্তান অরক্ষিত থাকে। এই সুযোগে লম্পট মুকুল শেখ মেয়েটির পরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলে এবং প্রায় তিন মাস আগে মেয়েটিকে ফুসলিয়ে বাড়ির পাশের মেহগনি বাগানে নিয়ে ধর্ষণ করে। কসমেটিক কিনে দেওয়ার প্রলোভনে বিষয়টি এতদিন গোপন ছিল। সম্প্রতি পেটে ব্যথা ও বমির সমস্যা নিয়ে স্থানীয় হাসপাতালে মেয়েটিকে পরীক্ষা করানো হলে তার তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার বিষয়টি ধরা পড়ে। এরপর পরিবার বিষয়টি জানতে পারে এবং জিজ্ঞাসাবাদে মেয়েটি ধর্ষকের নাম প্রকাশ করে।

ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা সালিশ-মীমাংসার আশ্বাস দেওয়ায় ভুক্তভোগীর পরিবার এখনও আইনের আশ্রয় নেয়নি।

এ বিষয়ে মেয়েটির বাবা গণমাধ্যমকে বলেন, লম্পট মুকুল শেখ তার শিশু কন্যার জীবন ধ্বংস করে দিয়েছে এবং তিনি এর কঠোর বিচার চান। গ্রামের মাতব্বররা ন্যায়বিচার করবেন, এই আশায় তারা অপেক্ষা করছেন। দ্রুত সমাধান না পেলে তিনি আইনের দ্বারস্থ হবেন। তবে একটি বিশ্বস্ত সূত্র গণমাধ্যমকে জানিয়েছে, গ্রাম্য মাতব্বররা সময়ক্ষেপণ করে অনৈতিক সুবিধা নিয়ে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।

এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ মোশারফ হোসেন গণমাধ্যমকে জানান, তিনি মেয়েটির বাবার কাছ থেকে ঘটনাটি শুনেছেন এবং এর সত্যতাও পাওয়া গেছে। গ্রামের মুরব্বিরা এলাকায় বসে মীমাংসা করার পক্ষে মত দিয়েছেন। তবে ভুক্তভোগী পরিবার যা চাইবে, সেটাই করা হবে।

বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক গণমাধ্যমকে জানান, মেয়েটিকে পেটে ব্যথা ও বমির সমস্যা নিয়ে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। তবে তারা কোন ক্লিনিকে পরীক্ষা করিয়েছেন, তা তিনি জানেন না।

বোয়ালমারী থানার অফিসার ইনচার্জ গণমাধ্যমকে বলেন, এ ঘটনা সম্পর্কে কেউ তাদের জানায়নি। তবে ভুক্তভোগীর পরিবার থানায় অভিযোগ দিলে তারা অবশ্যই অভিযুক্তকে আইনের আওতায় এনে ব্যবস্থা নেবেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

রাজবাড়ীতে সড়ক দুর্ঘটনায় পেট্রোল পাম্প কর্মচারী নিহত

ফরিদপুরে ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী ধর্ষিতা, তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা: গ্রাম্য সালিশের ফাঁদে ন্যায়বিচার?

Update Time : 06:47:16 pm, Wednesday, 9 April 2025

ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলায় এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। ৫৫ বছর বয়সী পাঁচ সন্তানের জনক মুকুল শেখের বিরুদ্ধে স্থানীয় ষষ্ঠ শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। ধর্ষণের ফলে মেয়েটি বর্তমানে তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা। এই ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর পুরো উপজেলায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।

গতকাল বুধবার সরেজমিনে অনুসন্ধানে গিয়ে স্থানীয় মুরব্বিদের কাছ থেকে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করা গেছে। অভিযুক্ত মুকুল শেখ উপজেলার দাদপুর ইউনিয়নের কমলেশ্বরদী গ্রামের কিতাবদী শেখের ছেলে।

অন্তঃসত্ত্বা মেয়েটি বর্তমানে চরম স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে রয়েছে। পেটে ব্যথা, বমি ও রক্তক্ষরণের কারণে তার শারীরিক অবস্থা গুরুতর। অভাবের কারণে তার উন্নত চিকিৎসাও করানো সম্ভব হচ্ছে না।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মেয়েটির মা অভাবের তাড়নায় কয়েক বছর আগে বিদেশে যান। বাড়িতে তার বাবা ও তিন বোন থাকে। কাজের জন্য বাবা বাইরে গেলে তিন কন্যা সন্তান অরক্ষিত থাকে। এই সুযোগে লম্পট মুকুল শেখ মেয়েটির পরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলে এবং প্রায় তিন মাস আগে মেয়েটিকে ফুসলিয়ে বাড়ির পাশের মেহগনি বাগানে নিয়ে ধর্ষণ করে। কসমেটিক কিনে দেওয়ার প্রলোভনে বিষয়টি এতদিন গোপন ছিল। সম্প্রতি পেটে ব্যথা ও বমির সমস্যা নিয়ে স্থানীয় হাসপাতালে মেয়েটিকে পরীক্ষা করানো হলে তার তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার বিষয়টি ধরা পড়ে। এরপর পরিবার বিষয়টি জানতে পারে এবং জিজ্ঞাসাবাদে মেয়েটি ধর্ষকের নাম প্রকাশ করে।

ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা সালিশ-মীমাংসার আশ্বাস দেওয়ায় ভুক্তভোগীর পরিবার এখনও আইনের আশ্রয় নেয়নি।

এ বিষয়ে মেয়েটির বাবা গণমাধ্যমকে বলেন, লম্পট মুকুল শেখ তার শিশু কন্যার জীবন ধ্বংস করে দিয়েছে এবং তিনি এর কঠোর বিচার চান। গ্রামের মাতব্বররা ন্যায়বিচার করবেন, এই আশায় তারা অপেক্ষা করছেন। দ্রুত সমাধান না পেলে তিনি আইনের দ্বারস্থ হবেন। তবে একটি বিশ্বস্ত সূত্র গণমাধ্যমকে জানিয়েছে, গ্রাম্য মাতব্বররা সময়ক্ষেপণ করে অনৈতিক সুবিধা নিয়ে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।

এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ মোশারফ হোসেন গণমাধ্যমকে জানান, তিনি মেয়েটির বাবার কাছ থেকে ঘটনাটি শুনেছেন এবং এর সত্যতাও পাওয়া গেছে। গ্রামের মুরব্বিরা এলাকায় বসে মীমাংসা করার পক্ষে মত দিয়েছেন। তবে ভুক্তভোগী পরিবার যা চাইবে, সেটাই করা হবে।

বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক গণমাধ্যমকে জানান, মেয়েটিকে পেটে ব্যথা ও বমির সমস্যা নিয়ে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। তবে তারা কোন ক্লিনিকে পরীক্ষা করিয়েছেন, তা তিনি জানেন না।

বোয়ালমারী থানার অফিসার ইনচার্জ গণমাধ্যমকে বলেন, এ ঘটনা সম্পর্কে কেউ তাদের জানায়নি। তবে ভুক্তভোগীর পরিবার থানায় অভিযোগ দিলে তারা অবশ্যই অভিযুক্তকে আইনের আওতায় এনে ব্যবস্থা নেবেন।