Dhaka ০৬:২২ অপরাহ্ন, শনিবার, ০২ মে ২০২৬, ১৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
চুনারুঘাটে অতিবৃষ্টিতে বিপর্যস্ত সাটিয়াজুড়ি: তলিয়ে গেছে রাস্তাঘাট ও ফিসারি, জনজীবন বিপন্ন আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবসে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় রিকশা ও ভ্যানচালক শ্রমিকদের বিশাল সমাবেশ: ন্যায্য অধিকার আদায়ে দৃঢ় প্রত্যয় নাঙ্গলকোটে পল্লী মঙ্গল কর্মসূচীর ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পে সেবা পেল শতাধিক অসহায় মানুষ মনোহরগঞ্জে পল্লী মঙ্গল কর্মসূচীর ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পে সেবা পেল শতাধিক অসহায় মানুষ পূবাইলের করমতলায় ৫০টির বেশি পরিবার পানিবন্দী নাগরপুরে তীব্র লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ জনজীবন, দুর্ভোগ চরমে বরগুনা উপকূলীয় এলাকার জনসাধারণ নদীভাংগনের কবলে নিঃস্ব এবং তাদের প্রত্যাশা ক্যান্সার আক্রান্ত শিশুর পাশে দাড়ালেন নলগড়িয়া আল-আমানাহ যুব সংগঠন, মানবিক সহায়তায় জাগলো নতুন আশার আলো রাজধানীতে হকার্স সুপারভাইজার এর ওপর হামলা ও চাঁদাবাজির অভিযোগ, গ্রেফতার ৪ সিংগারবিল ইউনিয়নে টিসিবি পণ্য বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ, তদন্তের দাবি স্থানীয়দের

আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবসে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় রিকশা ও ভ্যানচালক শ্রমিকদের বিশাল সমাবেশ: ন্যায্য অধিকার আদায়ে দৃঢ় প্রত্যয়

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলায় রিকশা ও রিকশা-ভ্যান চালক শ্রমিকদের উদ্যোগে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে মহান আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস। দিবসটি উপলক্ষে শুক্রবার (১লা মে) সকাল ১০টায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পরিষদ প্রাঙ্গণ থেকে একটি বর্ণাঢ্য ও বিশাল মিছিল বের করা হয়, যা শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে মুক্তমঞ্চে গিয়ে সমাবেশে পরিণত হয়।

“প্রতিটি শ্রমজীবী মানুষের অধিকার অক্ষুন্ন থাকুক, দূর হোক সকল বৈষম্য”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে হাজারো শ্রমজীবী মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছিল লক্ষণীয়। এতে রিকশা ও ভ্যানচালকসহ বিভিন্ন পেশার শ্রমিকরা তাদের ন্যায্য মজুরি, নিরাপদ কর্মপরিবেশ এবং সামাজিক মর্যাদা নিশ্চিতের দাবি জোরালোভাবে তুলে ধরেন।

আরও পড়ুনঃ  নাঙ্গলকোটে পল্লী মঙ্গল কর্মসূচীর ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পে সেবা পেল শতাধিক অসহায় মানুষ

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর ও বিজয়নগর আসনের সংসদ সদস্য, জননেতা ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল। তিনি তাঁর বক্তব্যে শ্রমজীবী মানুষের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, “দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে শ্রমিকদের অবদান অনস্বীকার্য। তাই তাদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা, নিরাপদ কর্মপরিবেশ সৃষ্টি করা এবং মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপনের সুযোগ প্রদান করা আমাদের সবার দায়িত্ব।”

তিনি আরও বলেন, শিশু শ্রম বন্ধে সবাইকে সচেতন হতে হবে। সরকার ইতোমধ্যে শিক্ষাব্যবস্থা সহজলভ্য করেছে, তাই শিশুদের শ্রমে নয়, শিক্ষায় যুক্ত করা জরুরি। “আজকের শিশু আগামী দিনের ভবিষ্যৎ—তাদের সঠিক পথে গড়ে তুলতে হলে শিক্ষা ছাড়া বিকল্প নেই,”—এমন মন্তব্য করে তিনি অভিভাবক ও সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান।

আরও পড়ুনঃ  মনোহরগঞ্জে পল্লী মঙ্গল কর্মসূচীর ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পে সেবা পেল শতাধিক অসহায় মানুষ

সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন স্তরের সিনিয়র নেতৃবৃন্দুরা। এছাড়াও জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে আগত শ্রমিক নেতারা এবং বিপুল সংখ্যক রিকশা ও ভ্যানচালক অংশগ্রহণ করেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক মোঃ মোস্তফা তাঁর বক্তব্যে বলেন, “আমরা শ্রমিকরা আর অবহেলিত থাকতে চাই না। আমাদের ন্যায্য দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমরা রাজপথে ছিলাম, আছি এবং থাকবো। শ্রমিকদের অধিকার আদায়ে আমাদের এই সংগ্রাম চলবেই।” তিনি আরও বলেন, আপনারা আমার মত একজন সাধারণ মানুষের ডাকে বিপুল সাড়া দিয়ে এই সমাবেশের উপস্থিত হওয়ায় সকলের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।

আরও পড়ুনঃ  চুনারুঘাটে অতিবৃষ্টিতে বিপর্যস্ত সাটিয়াজুড়ি: তলিয়ে গেছে রাস্তাঘাট ও ফিসারি, জনজীবন বিপন্ন

এই কর্মসূচি শুধু একটি দিবস পালনের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং এটি ছিল শ্রমিকদের অধিকার আদায়ে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার একটি শক্তিশালী বার্তা। রিকশা ও ভ্যানচালক শ্রমিকরা তাদের জীবনমান উন্নয়ন, ন্যায্য মজুরি, সামাজিক নিরাপত্তা এবং কর্মক্ষেত্রে সম্মান নিশ্চিতের লক্ষ্যে ভবিষ্যতেও তাদের আন্দোলন অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

Tag :

চুনারুঘাটে অতিবৃষ্টিতে বিপর্যস্ত সাটিয়াজুড়ি: তলিয়ে গেছে রাস্তাঘাট ও ফিসারি, জনজীবন বিপন্ন

আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবসে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় রিকশা ও ভ্যানচালক শ্রমিকদের বিশাল সমাবেশ: ন্যায্য অধিকার আদায়ে দৃঢ় প্রত্যয়

আপডেটের সময়: ০৪:১২:০৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ মে ২০২৬

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলায় রিকশা ও রিকশা-ভ্যান চালক শ্রমিকদের উদ্যোগে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে মহান আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস। দিবসটি উপলক্ষে শুক্রবার (১লা মে) সকাল ১০টায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পরিষদ প্রাঙ্গণ থেকে একটি বর্ণাঢ্য ও বিশাল মিছিল বের করা হয়, যা শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে মুক্তমঞ্চে গিয়ে সমাবেশে পরিণত হয়।

“প্রতিটি শ্রমজীবী মানুষের অধিকার অক্ষুন্ন থাকুক, দূর হোক সকল বৈষম্য”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে হাজারো শ্রমজীবী মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছিল লক্ষণীয়। এতে রিকশা ও ভ্যানচালকসহ বিভিন্ন পেশার শ্রমিকরা তাদের ন্যায্য মজুরি, নিরাপদ কর্মপরিবেশ এবং সামাজিক মর্যাদা নিশ্চিতের দাবি জোরালোভাবে তুলে ধরেন।

আরও পড়ুনঃ  চুনারুঘাটে অতিবৃষ্টিতে বিপর্যস্ত সাটিয়াজুড়ি: তলিয়ে গেছে রাস্তাঘাট ও ফিসারি, জনজীবন বিপন্ন

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর ও বিজয়নগর আসনের সংসদ সদস্য, জননেতা ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল। তিনি তাঁর বক্তব্যে শ্রমজীবী মানুষের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, “দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে শ্রমিকদের অবদান অনস্বীকার্য। তাই তাদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা, নিরাপদ কর্মপরিবেশ সৃষ্টি করা এবং মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপনের সুযোগ প্রদান করা আমাদের সবার দায়িত্ব।”

তিনি আরও বলেন, শিশু শ্রম বন্ধে সবাইকে সচেতন হতে হবে। সরকার ইতোমধ্যে শিক্ষাব্যবস্থা সহজলভ্য করেছে, তাই শিশুদের শ্রমে নয়, শিক্ষায় যুক্ত করা জরুরি। “আজকের শিশু আগামী দিনের ভবিষ্যৎ—তাদের সঠিক পথে গড়ে তুলতে হলে শিক্ষা ছাড়া বিকল্প নেই,”—এমন মন্তব্য করে তিনি অভিভাবক ও সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান।

আরও পড়ুনঃ  পূবাইলের করমতলায় ৫০টির বেশি পরিবার পানিবন্দী

সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন স্তরের সিনিয়র নেতৃবৃন্দুরা। এছাড়াও জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে আগত শ্রমিক নেতারা এবং বিপুল সংখ্যক রিকশা ও ভ্যানচালক অংশগ্রহণ করেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক মোঃ মোস্তফা তাঁর বক্তব্যে বলেন, “আমরা শ্রমিকরা আর অবহেলিত থাকতে চাই না। আমাদের ন্যায্য দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমরা রাজপথে ছিলাম, আছি এবং থাকবো। শ্রমিকদের অধিকার আদায়ে আমাদের এই সংগ্রাম চলবেই।” তিনি আরও বলেন, আপনারা আমার মত একজন সাধারণ মানুষের ডাকে বিপুল সাড়া দিয়ে এই সমাবেশের উপস্থিত হওয়ায় সকলের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।

আরও পড়ুনঃ  নাঙ্গলকোটে পল্লী মঙ্গল কর্মসূচীর ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পে সেবা পেল শতাধিক অসহায় মানুষ

এই কর্মসূচি শুধু একটি দিবস পালনের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং এটি ছিল শ্রমিকদের অধিকার আদায়ে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার একটি শক্তিশালী বার্তা। রিকশা ও ভ্যানচালক শ্রমিকরা তাদের জীবনমান উন্নয়ন, ন্যায্য মজুরি, সামাজিক নিরাপত্তা এবং কর্মক্ষেত্রে সম্মান নিশ্চিতের লক্ষ্যে ভবিষ্যতেও তাদের আন্দোলন অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।