
নোয়াখালীর সেনবাগে এক স্কুলছাত্রকে পথরোধ করে মারধর এবং সেই নির্যাতনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টিকটকে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় একটি কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় বইছে।
বুধবার (২৪ জুন) বিকেলে মারধরের ওই ভিডিওটি স্থানীয়দের নজরে আসলে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। এর আগে গত সোমবার (২২ জুন) সন্ধ্যায় উপজেলার অর্জুনতলা ইউনিয়নের গোরকাটা এলাকার কাশেম খালাসি বাড়ি সংলগ্ন একটি কালভার্টের ওপর এই বর্বরোচিত ঘটনাটি ঘটে।
নির্যাতনের শিকার কিশোরের নাম মাশরাফি ইব্রাহীম (১৬)। সে অর্জুনতলা ইউনিয়নের উত্তর গোরকাটা এলাকার সৌদি প্রবাসী নুরুল আজমের ছেলে এবং স্থানীয় বাতাকান্দি আদর্শ স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী।
“সোমবার সন্ধ্যায় সেনবাগ বাজার থেকে প্রাইভেট পড়া শেষে সাইকেলে করে বাড়ি ফিরছিলাম। পথে কাদরা ইউনিয়নের ইমনের নেতৃত্বে কয়েকজন কিশোর আমার পথরোধ করে। তারা প্রথমে আমার কাছে টাকা ও সিগারেট দাবি করে। একপর্যায়ে আমাদের বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী রাহির সাথে আমার বিরোধের অযুহাত তুলে তারা আমাকে চড়-থাপ্পড়সহ শারীরিকভাবে ব্যাপক নির্যাতন শুরু করে। এ সময় তাদের কয়েকজন পুরো ঘটনার ভিডিও ধারণ করছিল।”
পরবর্তীতে সেই ভিডিওটি টিকটকে ছড়িয়ে দেওয়া হলে বিষয়টি স্থানীয় সচেতন মহলের নজরে আসে। তবে মাশরাফি জানায়, ঘটনাটির পর সে সহপাঠী রাহির সাথে যোগাযোগ করলে রাহি এই মারধরের সাথে তার কোনো ধরনের সম্পৃক্ততার কথা অস্বীকার করে।
এদিকে টিকটকে ভিডিও ভাইরালের পর স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে চরম উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এলাকার সচেতন মহলের মতে, এভাবে কিশোরদের একাংশের মধ্যে অপরাধের ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে প্রচার করার প্রবণতা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। তারা অবিলম্বে এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িত কিশোর অপরাধীদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এই বিষয়ে জানতে চাইলে সেনবাগ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. হযরত আলী মিলন জানান: ভিডিওটি এখনো পুলিশের নজরে আসেনি। ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকেও এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
কিশোর গ্যাংয়ের এমন বেপরোয়া আচরণ রুখতে এলাকায় পুলিশি নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
মো: মিজানুর রহমান সুমন, সেনবাগ (নোয়াখালী) প্রতিনিধি : 

















