Dhaka ০৭:৫৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
প্লাস্টিক দূষণ হ্রাস ও সমন্বিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কৌশল ও সুযোগ’ বিষয়ে আয়োজিত পরামর্শ সভা জরুরি সংবাদ সম্মেলনে বিজয়নগরে জুশনে জুলুশের র‍্যালি স্থগিত ঘোষণা চট্টগ্রামে সেনবাগ পেশাজীবী পরিষদের নবনির্বাচিত কমিটির পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত শিবচরে মাকে হত্যার পর নদীতে ফেলে দেওয়া শিশু আবিরের লাশ ৫ দিন পর উদ্ধার কালীগঞ্জে চাঁদা না দেওয়ায় প্রবাসীর বাড়িতে হামলার অভিযোগ, আহত ৫ শিবচর উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান দেলোয়ার বেপারী গ্রেপ্তার শ্রীমঙ্গল রেলস্টেশন থেকে ৩ কোটি টাকার ভারতীয় অবৈধ মালামাল আটক সিঙ্গারবিল ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মোঃ মানিক মিয়ার সমর্থনে মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা সেনবাগে সরকারি নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা: রাত ৮টার পরও খোলা থাকছে দোকানপাট গাজীপুরে মৃধা জনকল্যাণ ফাউন্ডেশনের মতবিনিময় ও সৌহার্দ্য সমাবেশ

কাদামাখা ভাঙাচোরা সড়কে সিমেন্টবোঝাই লরি আটকে ৭ ঘণ্টার দুর্ভোগ, চরম ভোগান্তিতে হাজারো মানুষ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার সিংগারবিল ইউনিয়নের হাটখোলা গ্রামের উত্তর পাশে কাদামাখা ও বেহাল সড়কের একটি গভীর গর্তে সিমেন্টবোঝাই একটি লরি ট্রাক আটকে যাওয়ায় সৃষ্টি হয় দীর্ঘ ৭ ঘণ্টার চরম দুর্ভোগ। সকাল থেকে দুপুর প্রায় ২টা পর্যন্ত চলে উদ্ধার অভিযান। দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর অবশেষে গাড়িতে থাকা মালামাল গুলো অন্য গাড়ি দিয়ে সরিয়ে নিয়ে ট্রাকটি উদ্ধার করা সম্ভব হলেও এ সময় ভোগান্তিতে পড়েন হাজারো মানুষ।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ট্রাকটি গর্তে আটকে যাওয়ার পর চান্দুরা-আখাউড়া সড়কে শত শত যানবাহনের দীর্ঘ সারি সৃষ্টি হয়। কার্যত অচল হয়ে পড়ে পুরো এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা।

স্কুল-কলেজগামী কোমলমতি শিক্ষার্থী, কর্মজীবী মানুষ, জরুরি কাজে যাতায়াতকারী সাধারণ নাগরিক এবং অ্যাম্বুলেন্সে থাকা অসুস্থ রোগীরাও চরম দুর্ভোগের শিকার হন।

আরও পড়ুনঃ  গাজীপুরে মৃধা জনকল্যাণ ফাউন্ডেশনের মতবিনিময় ও সৌহার্দ্য সমাবেশ

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, চান্দুরা-আখাউড়া সড়কটি দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে অবহেলায় পড়ে আছে। সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত ও খানাখন্দ সৃষ্টি হওয়ায় এটি এখন প্রায় চলাচলের অনুপযোগী। বিশেষ করে চম্পকনগর ও নোয়াগাঁও বাজারের দক্ষিণাংশের সড়কটি সহ খিরাতলা হাটখোলা রাস্তাটিও যেন এখন মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মানুষকে এ পথে চলাচল করতে হচ্ছে।

এলাকাবাসী জানান, গর্ভবতী নারী, শিশু ও গুরুতর অসুস্থ রোগীদের হাসপাতালে নেওয়া অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে পড়েছে। অনেক সময় জরুরি রোগী সময়মতো চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। শিক্ষার্থীরা নিয়মিত সময়মতো স্কুল-কলেজে পৌঁছাতে পারছে না, আর শ্রমজীবী মানুষ হারাচ্ছেন তাদের মূল্যবান কর্মঘণ্টা।

আরও পড়ুনঃ  শ্রীমঙ্গল রেলস্টেশন থেকে ৩ কোটি টাকার ভারতীয় অবৈধ মালামাল আটক

অটো, সিএনজি ও অন্যান্য যানবাহনের চালকদের ভাষ্য, এই সড়কে চলাচল করতে গিয়ে প্রায় প্রতিদিনই দুর্ঘটনার মুখোমুখি হতে হয়। যানবাহনের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, বাড়ছে মেরামত ব্যয়। তাদের দাবি, এমন কোনো দিন নেই যেদিন এই সড়কে ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটে না।

স্থানীয়দের মতে, বড় বড় মালবাহী লরি ও ভারী যানবাহন চলাচলের কারণে সড়কের অবস্থা আরও ভয়াবহ হয়ে উঠছে। তারা প্রশাসনের কাছে দাবি জানিয়েছেন, সড়কটি সম্পূর্ণ সংস্কার না হওয়া পর্যন্ত ভারী যানবাহন চলাচলের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হোক।

হাটখোলা গ্রামের কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, “রাতের বেলা কোনো বিকট শব্দ শুনলেই আমরা আতঙ্কিত হয়ে পড়ি। ঘর থেকে বের হয়ে দেখি কোনো না কোনো যানবাহন গর্তে পড়ে গেছে কিংবা দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে। এই সড়ক এখন আমাদের জন্য আতঙ্কের আরেক নাম।”

আরও পড়ুনঃ  জরুরি সংবাদ সম্মেলনে বিজয়নগরে জুশনে জুলুশের র‍্যালি স্থগিত ঘোষণা

স্থানীয়রা বিজয়নগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ বিজয়নগর  আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামলের দৃষ্টি আকর্ষণ করে দ্রুত সড়কটি সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন। তাদের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে এবং দীর্ঘদিনের এই দুর্ভোগ থেকে এলাকাবাসী মুক্তি পাবে।

মানুষের দাবি একটাই—একটি নিরাপদ ও চলাচলযোগ্য সড়ক। কারণ একটি রাস্তা শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়, এটি মানুষের জীবন, শিক্ষা, চিকিৎসা ও জীবিকার সঙ্গে সরাসরি জড়িত। দ্রুত সংস্কার না হলে ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

প্লাস্টিক দূষণ হ্রাস ও সমন্বিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কৌশল ও সুযোগ’ বিষয়ে আয়োজিত পরামর্শ সভা

কাদামাখা ভাঙাচোরা সড়কে সিমেন্টবোঝাই লরি আটকে ৭ ঘণ্টার দুর্ভোগ, চরম ভোগান্তিতে হাজারো মানুষ

আপডেটের সময়: ০১:৫৮:৪৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার সিংগারবিল ইউনিয়নের হাটখোলা গ্রামের উত্তর পাশে কাদামাখা ও বেহাল সড়কের একটি গভীর গর্তে সিমেন্টবোঝাই একটি লরি ট্রাক আটকে যাওয়ায় সৃষ্টি হয় দীর্ঘ ৭ ঘণ্টার চরম দুর্ভোগ। সকাল থেকে দুপুর প্রায় ২টা পর্যন্ত চলে উদ্ধার অভিযান। দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর অবশেষে গাড়িতে থাকা মালামাল গুলো অন্য গাড়ি দিয়ে সরিয়ে নিয়ে ট্রাকটি উদ্ধার করা সম্ভব হলেও এ সময় ভোগান্তিতে পড়েন হাজারো মানুষ।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ট্রাকটি গর্তে আটকে যাওয়ার পর চান্দুরা-আখাউড়া সড়কে শত শত যানবাহনের দীর্ঘ সারি সৃষ্টি হয়। কার্যত অচল হয়ে পড়ে পুরো এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা।

স্কুল-কলেজগামী কোমলমতি শিক্ষার্থী, কর্মজীবী মানুষ, জরুরি কাজে যাতায়াতকারী সাধারণ নাগরিক এবং অ্যাম্বুলেন্সে থাকা অসুস্থ রোগীরাও চরম দুর্ভোগের শিকার হন।

আরও পড়ুনঃ  সেনবাগে সরকারি নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা: রাত ৮টার পরও খোলা থাকছে দোকানপাট

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, চান্দুরা-আখাউড়া সড়কটি দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে অবহেলায় পড়ে আছে। সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত ও খানাখন্দ সৃষ্টি হওয়ায় এটি এখন প্রায় চলাচলের অনুপযোগী। বিশেষ করে চম্পকনগর ও নোয়াগাঁও বাজারের দক্ষিণাংশের সড়কটি সহ খিরাতলা হাটখোলা রাস্তাটিও যেন এখন মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মানুষকে এ পথে চলাচল করতে হচ্ছে।

এলাকাবাসী জানান, গর্ভবতী নারী, শিশু ও গুরুতর অসুস্থ রোগীদের হাসপাতালে নেওয়া অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে পড়েছে। অনেক সময় জরুরি রোগী সময়মতো চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। শিক্ষার্থীরা নিয়মিত সময়মতো স্কুল-কলেজে পৌঁছাতে পারছে না, আর শ্রমজীবী মানুষ হারাচ্ছেন তাদের মূল্যবান কর্মঘণ্টা।

আরও পড়ুনঃ  চট্টগ্রামে সেনবাগ পেশাজীবী পরিষদের নবনির্বাচিত কমিটির পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত

অটো, সিএনজি ও অন্যান্য যানবাহনের চালকদের ভাষ্য, এই সড়কে চলাচল করতে গিয়ে প্রায় প্রতিদিনই দুর্ঘটনার মুখোমুখি হতে হয়। যানবাহনের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, বাড়ছে মেরামত ব্যয়। তাদের দাবি, এমন কোনো দিন নেই যেদিন এই সড়কে ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটে না।

স্থানীয়দের মতে, বড় বড় মালবাহী লরি ও ভারী যানবাহন চলাচলের কারণে সড়কের অবস্থা আরও ভয়াবহ হয়ে উঠছে। তারা প্রশাসনের কাছে দাবি জানিয়েছেন, সড়কটি সম্পূর্ণ সংস্কার না হওয়া পর্যন্ত ভারী যানবাহন চলাচলের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হোক।

হাটখোলা গ্রামের কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, “রাতের বেলা কোনো বিকট শব্দ শুনলেই আমরা আতঙ্কিত হয়ে পড়ি। ঘর থেকে বের হয়ে দেখি কোনো না কোনো যানবাহন গর্তে পড়ে গেছে কিংবা দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে। এই সড়ক এখন আমাদের জন্য আতঙ্কের আরেক নাম।”

আরও পড়ুনঃ  গাজীপুরে মৃধা জনকল্যাণ ফাউন্ডেশনের মতবিনিময় ও সৌহার্দ্য সমাবেশ

স্থানীয়রা বিজয়নগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ বিজয়নগর  আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামলের দৃষ্টি আকর্ষণ করে দ্রুত সড়কটি সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন। তাদের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে এবং দীর্ঘদিনের এই দুর্ভোগ থেকে এলাকাবাসী মুক্তি পাবে।

মানুষের দাবি একটাই—একটি নিরাপদ ও চলাচলযোগ্য সড়ক। কারণ একটি রাস্তা শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়, এটি মানুষের জীবন, শিক্ষা, চিকিৎসা ও জীবিকার সঙ্গে সরাসরি জড়িত। দ্রুত সংস্কার না হলে ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।