
মাদারীপুরের শিবচরে মাত্র একটি ড্রাগন গাছের চারা রোপণ করে আজ সফল এক ফলের বাগান গড়ে তুলেছেন শাহিন মিয়া। বর্তমানে তার এ মিশ্র ফলের পরিধি ছড়িয়ে পড়েছে বিশাল পরিসরে, যা দেখে মুগ্ধ হচ্ছেন স্থানীয়রা ও দূরদূরান্ত থেকে আসা দর্শনার্থীরা।
উপজেলার পাঁচ্চর ইউনিয়নের ঠাকুর বাজার এলাকার বাসিন্দা শাহিন মিয়া ২০১২ সালে শখের বশে মাত্র ১টি ড্রাগন ফলগাছ রোপণ করেন। সেই একটি গাছ থেকে কলম ও পরিচর্যার মাধ্যমে ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে তার বাগানের পরিধি। বর্তমানে তার ৭ বিঘা জমিতে ড্রাগন, ৫ বিঘা জমিতে মাল্টা ও চায়না কমলা (প্রায় ১ হাজার গাছ), ৩ বিঘা জমিতে বরই এবং অন্যান্য জমিতে কলা চাষ রয়েছে।
সরেজমিনে তার বাগানে গিয়ে দেখা যায়, সারি সারি গাছে ঝুলছে টকটকে লাল ড্রাগন ফল, চায়না কমলা ও মাল্টা। পাশাপাশি বরইগাছে এসেছে প্রচুর ফুল। সব মিলিয়ে এক নয়নাভিরাম সমম্বিত ফলের বাগান গড়ে উঠেছে, যা দেখতে প্রতিদিনই স্থানীয়রা ভিড় জমাচ্ছেন।
বাগানে কর্মরত শ্রমিক শাহাবুদ্দিন বলেন, “আমি নিয়মিত এ বাগানে কাজ করি। শাহিন ভাই অত্যন্ত পরিশ্রমী ও ধৈর্যশীল মানুষ। একটিমাত্র গাছ দিয়ে শুরু করে আজ তিনি বিশাল এলাকার সফল বাগানমালিক।”
বাগান দেখতে আসা মাহাতাব আকন জানান, তিনি মাঝেমধ্যেই এ বাগানে আসেন এবং তাজা ড্রাগন ও কমলা কিনে পরিবারের জন্য নিয়ে যান। শাহিনের সাফল্য দেখে তার নিজেরও একটি ফলের বাগান করার আগ্রহ জন্মেছে এবং তিনি এ বিষয়ে শাহিনের কাছ থেকে নিয়মিত পরামর্শ নিচ্ছেন।
সাফল্যের পেছনের গল্প বলতে গিয়ে বাগানমালিক শাহিন মিয়া বলেন, “একটিমাত্র গাছ দিয়ে শুরু করেছিলাম। আলহামদুলিল্লাহ, এখন আমি বেশ ভালোলাভে আছি। আমার বাগান থেকে চারা ও পরামর্শ নিয়ে অনেকেই নতুন বাগান করে স্বাবলম্বী হচ্ছেন। বেকার ভাই-বোনেরা ইচ্ছা করলে পরিশ্রমের মাধ্যমে ফলের চাষ করে লাভবান হতে পারেন, এখানে লোকসানের সুযোগ কম।”
এ বিষয়ে শিবচর উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ আলিমুজ্জামান খান জানান, উপজেলায় বর্তমানে প্রায় ২৫০ হেক্টর জমিতে কলা, ৫ হেক্টর জমিতে কুল, প্রায় ৩ হেক্টর জমিতে ড্রাগন এবং ৩.৫ হেক্টর জমিতে মাল্টা ও চায়না কমলা চাষ হচ্ছে। ফলের বাগান লাভজনক হওয়ায় শিবচরে দিন দিন নতুন নতুন উদ্যোক্তা ফল চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন। উপজেলা কৃষি অফিস থেকে কৃষকদের সার্বক্ষণিক পরামর্শ ও সহযোগিতা প্রদান করা হচ্ছে।

মাসুম হাওলাদার,মাদারীপুর প্রতিনিধি : 

















