
মাত্র ২,০০০ টাকা মাসিক সঞ্চয়—দুঃসময়ে পরিবারের জন্য হয়ে উঠল বড় সহায়তা, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার পত্তন ইউনিয়নের নোয়াগাঁও কেশবপুর এলাকার বাসিন্দা মরহুমা শাকরীন আক্তার। হঠাৎ স্ট্রোকে তাঁর মৃত্যুতে পরিবার যখন শোক ও অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছিল, ঠিক সেই সময়ে তাঁর নেওয়া জীবনবীমা পরিবারের জন্য হয়ে উঠেছে আর্থিক নিরাপত্তার একটি গুরুত্বপূর্ণ অবলম্বন। মরহুমা শাকরীন আক্তার -এর একটি মাসিক DPS পলিসি গ্রহণ করেছিলেন। পলিসিটির মাসিক কিস্তি ছিল ২,০০০ টাকা এবং মৃত্যুর আগে তিনি মাত্র ১৭টি কিস্তি জমা দিয়েছিলেন। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়ার পর মাত্র দুই কর্মদিবসের মধ্যে তাঁর নমিনী নাসরিন আক্তারের ব্যাংক হিসাবে ২ লাখ ৩৮ হাজার টাকা বীমা দাবি পরিশোধ করা হয়।
বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে মরহুমা শাকরীন আক্তারের পরিবারের কাছে বীমা দাবির ২ লাখ ৩৮ হাজার টাকার চেক হস্তান্তর করা হয়। চেক হস্তান্তর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মোহাম্মদ ফারুক হোসেন, অ্যাসিস্ট্যান্ট সেলস ম্যানেজার, আলফা ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স পিএলসি। প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মোহাম্মদ এমরান খান, ব্রাঞ্চ ম্যানেজার, আখাউড়া শাখা। এছাড়াও প্রতিষ্ঠানের সম্মানিত সদস্যবৃন্দ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে ব্রাঞ্চ ম্যানেজার মোহাম্মদ এমরান খান বলেন, গ্রাহকের প্রতি প্রতিষ্ঠানের দায়বদ্ধতা ও আস্থার প্রতিদান হিসেবে দ্রুততম সময়ে দাবি পরিশোধ করতে পেরে তারা আনন্দিত। তিনি জানান, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পাওয়ার পর মাত্র দুই কর্মদিবসের মধ্যেই নমিনীর ব্যাংক হিসাবে দাবির অর্থ প্রদান করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, মরহুমা শাকরীন আক্তার জীবদ্দশায় নিয়মিতভাবে মাসিক ২,০০০ টাকা করে সঞ্চয় করেছিলেন। হয়তো প্রতিমাসের এই অল্প সঞ্চয়টি তাঁর জীবদ্দশায় খুব বড় কোনো বিষয় বলে মনে হয়নি। কিন্তু তাঁর আকস্মিক মৃত্যুর পর সেই সঞ্চয়ই পরিবারের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক সহায়তায় পরিণত হয়েছে।
বিশেষ করে বীমার দাবির অর্থ পাওয়ার পর নমিনী তাঁর একটি ঋণ পরিশোধ করতে সক্ষম হয়েছেন। ফলে স্বজন হারানোর বেদনার পাশাপাশি পরিবারের ওপর যে আর্থিক চাপ তৈরি হয়েছিল, তা কিছুটা হলেও লাঘব হয়েছে।
মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে ঘটনাটি শুধু একটি বীমা দাবি পরিশোধের ঘটনা নয়; এটি দেখিয়ে দেয়, মানুষের জীবনে অনিশ্চয়তা কখন এসে দাঁড়াবে তা কেউ জানে না। তবে সময় থাকতে সামান্য পরিকল্পিত সঞ্চয় ও আর্থিক সুরক্ষার ব্যবস্থা একটি পরিবারের কঠিন সময়ে বড় পার্থক্য তৈরি করতে পারে।
বক্তারা বলেন, জীবনের ঝুঁকি ও ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তার কথা মাথায় রেখে আর্থিক পরিকল্পনা করা প্রত্যেক পরিবারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত অল্প অল্প করে সঞ্চয় ভবিষ্যতে যেমন আর্থিক ভিত্তি তৈরি করতে পারে, তেমনি বীমা পরিবারের উপার্জনক্ষম ব্যক্তির অনুপস্থিতিতে নির্ভরশীল সদস্যদের জন্য আর্থিক নিরাপত্তার একটি মাধ্যম হতে পারে।
চেক হস্তান্তর অনুষ্ঠানে বীমার প্রয়োজনীয়তা, আর্থিক নিরাপত্তা এবং পরিবারের ভবিষ্যৎ সুরক্ষার গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করা হয়।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে সম্মানিত ইমাম সাহেবের মোনাজাতের মাধ্যমে মরহুমা শাকরীন আক্তারের রুহের মাগফিরাত কামনা এবং তাঁর পরিবারের জন্য শান্তি ও কল্যাণ প্রার্থনা করা হয়।
মাত্র ২,০০০ টাকা মাসিক সঞ্চয়—আজীবনের নিশ্চয়তা নয়, কিন্তু অনিশ্চিত সময়ে পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতি। শাকরীন আক্তারের ঘটনা সেই বাস্তবতাকেই নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে।
আলফা ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স পিএলসি কর্তৃপক্ষ জানায়, গ্রাহকের আস্থা ও দ্রুততম সময়ে দাবি পরিশোধের মাধ্যমে মানুষের আর্থিক নিরাপত্তায় পাশে থাকার প্রত্যয় নিয়ে তারা ভবিষ্যতেও কাজ করে যেতে চায়।

মোঃ শামীম উসমান গণী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধিঃ 

















