Dhaka ০১:১২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ

বরগুনা উপকূলীয় এলাকার জনসাধারণ নদীভাংগনের কবলে নিঃস্ব এবং তাদের প্রত্যাশা

বরগুনা জেলা উপকূলীয় অঞ্চলে অবস্থিত হওয়ায় নদী ভাঙন এখানকার একটি দীর্ঘস্থায়ী এবং জটিল সমস্যা। বিষখালী, পায়রা এবং বলেশ্বর—এই তিনটি প্রধান নদী দ্বারা বেষ্টিত এই জেলাটি প্রতি বছর উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জমি ও বসতভিটা হারায়।

উপকূলীয় জেলা বরগুনার মানুষের জীবনজুড়ে বছরের পর বছর লড়াই করতে হচ্ছে নদীভাঙন, জলোচ্ছ্বাস আর পানিবদ্ধতার সঙ্গে। এর সঙ্গে নতুন যুক্ত হয়েছে তীব্র কর্মসংস্থান সংকট। বছরের পর বছর অবহেলার শিকার এ জেলার বাসিন্দাদের এখন একটাই চাওয়া—টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ আর শিল্পায়ন।

আরও পড়ুনঃ  গজারিয়া বাজার লিটিল স্টার কিন্ডার গার্টেনে সরকারি বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা

জেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত বিষখালী, বলেশ্বর, পায়রা ও খাকদোন নদীর ভাঙনে প্রতিবছর অসংখ্য পরিবার নিঃস্ব হচ্ছে। বিশেষ করে পাথরঘাটা, বামনা, বেতাগী, তালতলী ও আমতলী উপজেলায় ভাঙনের ভয়াবহতা সবচেয়ে বেশি। স্থানীয়দের অভিযোগ, সাময়িকভাবে জিও ব্যাগ ফেলে দায়সারা কাজ করা হলেও দীর্ঘমেয়াদি নদী শাসন বা স্থায়ী বাঁধ নির্মাণে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না।

আরও পড়ুনঃ  ব্যবসার জন্য স্ত্রীর কাছে টাকা চাওয়া যৌতুক নয়: হাইকোর্ট

অন্যদিকে, শিল্পকারখানার অভাব ও বিনিয়োগ না থাকায় বরগুনায় বেকারত্ব চরম আকার ধারণ করেছে। কাজের সন্ধানে এই অঞ্চলের শিক্ষিত তরুণরা দলে দলে ঢাকা ও চট্টগ্রামমুখী হচ্ছে। স্থানীয়দের দাবি, মৎস্য ও কৃষিভিত্তিক শিল্প স্থাপন এবং পর্যটন খাতের উন্নয়ন করা গেলে বরগুনাতেই বিপুল কর্মসংস্থান সম্ভব।

ভুক্তভূগী বরগুনা সদরের কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, ‘ ছেলেমেয়েরা লেখাপড়া শেষ করে বরগুনায় কোনো কাজের সুযোগ পাচ্ছে না। আমরা চাই নিজের জেলাতেই কাজ করে পরিবার নিয়ে থাকতে।’ ‘ঝড়-জলোচ্ছ্বাসে আমরা উপকূলের বাসিন্দারা সব হারাই, আবার নতুন করে শুরু করি। এখানে শিল্পকারখানা হলে আমাদের দূরে যেতে হতো না।’

আরও পড়ুনঃ  মা ইলিশ রক্ষায় ২২ দিন নদীতে জাল না ফেলার আহ্বান প্রতিমন্ত্রীর, শিবচরে ১৫১ জেলেকে চাল বিতরণ

এলাকার সচেতন মহল মনে করেন বরগুনার মৎস্য সম্পদ ও পর্যটন সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে পরিকল্পিত বিনিয়োগ নিশ্চিত করা গেলে জেলার অর্থনীতিতে বড় পরিবর্তন আসবে। দীর্ঘদিনের অবহেলা কাটিয়ে সরকার এবার কার্যকর পদক্ষেপ নেবে বলে প্রত্যাশা এলাকার জনসাধারণের ।

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

ব্যবসার জন্য স্ত্রীর কাছে টাকা চাওয়া যৌতুক নয়: হাইকোর্ট

বরগুনা উপকূলীয় এলাকার জনসাধারণ নদীভাংগনের কবলে নিঃস্ব এবং তাদের প্রত্যাশা

আপডেটের সময়: ০১:১৯:২৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬

বরগুনা জেলা উপকূলীয় অঞ্চলে অবস্থিত হওয়ায় নদী ভাঙন এখানকার একটি দীর্ঘস্থায়ী এবং জটিল সমস্যা। বিষখালী, পায়রা এবং বলেশ্বর—এই তিনটি প্রধান নদী দ্বারা বেষ্টিত এই জেলাটি প্রতি বছর উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জমি ও বসতভিটা হারায়।

উপকূলীয় জেলা বরগুনার মানুষের জীবনজুড়ে বছরের পর বছর লড়াই করতে হচ্ছে নদীভাঙন, জলোচ্ছ্বাস আর পানিবদ্ধতার সঙ্গে। এর সঙ্গে নতুন যুক্ত হয়েছে তীব্র কর্মসংস্থান সংকট। বছরের পর বছর অবহেলার শিকার এ জেলার বাসিন্দাদের এখন একটাই চাওয়া—টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ আর শিল্পায়ন।

আরও পড়ুনঃ  গজারিয়া বাজার লিটিল স্টার কিন্ডার গার্টেনে সরকারি বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা

জেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত বিষখালী, বলেশ্বর, পায়রা ও খাকদোন নদীর ভাঙনে প্রতিবছর অসংখ্য পরিবার নিঃস্ব হচ্ছে। বিশেষ করে পাথরঘাটা, বামনা, বেতাগী, তালতলী ও আমতলী উপজেলায় ভাঙনের ভয়াবহতা সবচেয়ে বেশি। স্থানীয়দের অভিযোগ, সাময়িকভাবে জিও ব্যাগ ফেলে দায়সারা কাজ করা হলেও দীর্ঘমেয়াদি নদী শাসন বা স্থায়ী বাঁধ নির্মাণে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না।

আরও পড়ুনঃ  মা ইলিশ রক্ষায় ২২ দিন নদীতে জাল না ফেলার আহ্বান প্রতিমন্ত্রীর, শিবচরে ১৫১ জেলেকে চাল বিতরণ

অন্যদিকে, শিল্পকারখানার অভাব ও বিনিয়োগ না থাকায় বরগুনায় বেকারত্ব চরম আকার ধারণ করেছে। কাজের সন্ধানে এই অঞ্চলের শিক্ষিত তরুণরা দলে দলে ঢাকা ও চট্টগ্রামমুখী হচ্ছে। স্থানীয়দের দাবি, মৎস্য ও কৃষিভিত্তিক শিল্প স্থাপন এবং পর্যটন খাতের উন্নয়ন করা গেলে বরগুনাতেই বিপুল কর্মসংস্থান সম্ভব।

ভুক্তভূগী বরগুনা সদরের কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, ‘ ছেলেমেয়েরা লেখাপড়া শেষ করে বরগুনায় কোনো কাজের সুযোগ পাচ্ছে না। আমরা চাই নিজের জেলাতেই কাজ করে পরিবার নিয়ে থাকতে।’ ‘ঝড়-জলোচ্ছ্বাসে আমরা উপকূলের বাসিন্দারা সব হারাই, আবার নতুন করে শুরু করি। এখানে শিল্পকারখানা হলে আমাদের দূরে যেতে হতো না।’

আরও পড়ুনঃ  ব্যবসার জন্য স্ত্রীর কাছে টাকা চাওয়া যৌতুক নয়: হাইকোর্ট

এলাকার সচেতন মহল মনে করেন বরগুনার মৎস্য সম্পদ ও পর্যটন সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে পরিকল্পিত বিনিয়োগ নিশ্চিত করা গেলে জেলার অর্থনীতিতে বড় পরিবর্তন আসবে। দীর্ঘদিনের অবহেলা কাটিয়ে সরকার এবার কার্যকর পদক্ষেপ নেবে বলে প্রত্যাশা এলাকার জনসাধারণের ।