Dhaka ০৭:৩০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ

শিবচরে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস পালিত, বিআরডিবির সঞ্চয় ৮ কোটি ও ঋণ বিতরণ সাড়ে ২০ কোটি টাকা

“উন্নত পল্লী সমৃদ্ধ দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে মাদারীপুরের শিবচরে উৎসবমুখর পরিবেশে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

​সোমবার (৬ই জুলাই) শিবচর উপজেলা প্রশাসনের ময়নাকাটা সম্মেলন কক্ষে এই আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন শিবচর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) এইচ এম ইবনে মিজান।

​অনুষ্ঠানে স্বাগত ও মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন শিবচর উপজেলা বিআরডিবি কর্মকর্তা কামরুল। এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ড. হরিশ চন্দ্র বোস, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সত্যজিত মজুমদার, পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের (বিআরডিবি) বিভিন্ন সমিতির সদস্যবৃন্দ।

​আলোচনা সভায় শিবচর উপজেলা বিআরডিবি কর্মকর্তা কামরুল হাসান তাঁর বক্তব্যে বিআরডিবির বিভিন্ন কার্যক্রমের একটি সামগ্রিক চিত্র তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “গ্রামীণ প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান তৈরি, আয় বৃদ্ধি এবং সামগ্রিক জীবনমান উন্নয়নে বিআরডিবি সরাসরি ভূমিকা পালন করে আসছে।”

আরও পড়ুনঃ  সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত এবং CARE Bangladesh এর প্রতিনিধির বরগুনার জাগোনারীর কার্যক্রম পরিদর্শন

​তিনি জানান, বর্তমানে শিবচর উপজেলায় বিআরডিবির অধীনে মোট ৬৩০টি সমিতি রয়েছে, যার মোট সদস্য সংখ্যা প্রায় ১১,৫০০ জন। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক গতিশীলতা সচল রাখতে চলতি বছরে উদ্যোক্তা ঋণ, পেশাজীবী ঋণ, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ঋণ, কৃষি ঋণ এবং অপ্রধান শস্য ঋণসহ বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে প্রায় ২০.৫০ কোটি (সাড়ে বিশ কোটি) টাকা ঋণ বিতরণ করা হয়েছে।

​পাশাপাশি, গ্রামীণ অঞ্চলে সঞ্চয়ের প্রবণতা বৃদ্ধি ও নিজস্ব মূলধন গঠনের লক্ষ্যে বিআরডিবির ঋণের কিস্তির সাথে ক্ষুদ্র সঞ্চয় জমা নেওয়া হয়। বর্তমানে এই উপজেলার বিভিন্ন সমিতির সদস্যদের জমা রাখা মোট সঞ্চয়ের পরিমাণ প্রায় ৮ কোটি টাকা। সদস্যরা প্রয়োজনে এই সঞ্চয়ের টাকা উত্তোলন করতে পারেন এবং পরবর্তীতে আবার জমা দিতে পারেন।

আরও পড়ুনঃ  মাদক ছেড়ে স্কাউটিং করি: ডিমলায় ১৩তম উপজেলা স্কাউট সমাবেশ সম্পন্ন

​সমিতির সদস্যদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে শিবচরে বিআরডিবির বেশ কিছু বিশেষ কর্মসূচি চলমান রয়েছে:

​গুচ্ছগ্রাম কর্মসূচি: এই প্রকল্পের মাধ্যমে ভূমিহীন ও পিছিয়ে পড়া মানুষকে বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিয়ে মাত্র ৮% সহজ সুদে ঋণ প্রদান করা হচ্ছে।
​অপ্রধান শস্য কর্মসূচি: ডাল, তেল ও মসলা জাতীয় ফসল চাষে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করতে এবং উৎপাদন বাড়াতে ৮% সুদে ঋণের ব্যবস্থা রয়েছে।
​অন্যান্য প্রকল্প: এছাড়া অসচ্ছল বীর মুক্তিযোদ্ধা কর্মসূচি, পল্লী জীবিকায়ন প্রকল্প (আরএলপি) এবং পিইপি কর্মসূচিসহ বহুমুখী প্রকল্পের আওতায় পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ ও স্বল্প সুদে ঋণ সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ  টাঙ্গাইলের নাগরপুরে ৬'বছরের শিশু ধর্ষণ মামলার আসামী গ্রেফতার করেছে এসআরবি

​সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী অফিসার এইচ এম ইবনে মিজান বলেন, “বিআরডিবি গ্রামীণ পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে স্বাবলম্বী করার ক্ষেত্রে একটি বিশেষ ও প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করে আসছে।”

​তিনি আরও বলেন “বাংলাদেশ মূলত একটি কৃষিপ্রধান দেশ। আমাদের সিংহভাগ মানুষ গ্রামে বাস করে। তাই পল্লী অঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রার মান এবং অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা না গেলে দেশ কখনোই কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে পারবে না।”

​আলোচনা সভা শেষে উপজেলার সফল সমবায়ী ও সফল উদ্যোক্তাদের মাঝে নগদ টাকার চেক ও ক্রেস্ট
বিতরন করেন।

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

মাদক ছেড়ে স্কাউটিং করি: ডিমলায় ১৩তম উপজেলা স্কাউট সমাবেশ সম্পন্ন

শিবচরে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস পালিত, বিআরডিবির সঞ্চয় ৮ কোটি ও ঋণ বিতরণ সাড়ে ২০ কোটি টাকা

আপডেটের সময়: ১২:৪০:৫৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬

“উন্নত পল্লী সমৃদ্ধ দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে মাদারীপুরের শিবচরে উৎসবমুখর পরিবেশে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

​সোমবার (৬ই জুলাই) শিবচর উপজেলা প্রশাসনের ময়নাকাটা সম্মেলন কক্ষে এই আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন শিবচর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) এইচ এম ইবনে মিজান।

​অনুষ্ঠানে স্বাগত ও মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন শিবচর উপজেলা বিআরডিবি কর্মকর্তা কামরুল। এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ড. হরিশ চন্দ্র বোস, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সত্যজিত মজুমদার, পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের (বিআরডিবি) বিভিন্ন সমিতির সদস্যবৃন্দ।

​আলোচনা সভায় শিবচর উপজেলা বিআরডিবি কর্মকর্তা কামরুল হাসান তাঁর বক্তব্যে বিআরডিবির বিভিন্ন কার্যক্রমের একটি সামগ্রিক চিত্র তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “গ্রামীণ প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান তৈরি, আয় বৃদ্ধি এবং সামগ্রিক জীবনমান উন্নয়নে বিআরডিবি সরাসরি ভূমিকা পালন করে আসছে।”

আরও পড়ুনঃ  নাগরপুরে ফ্যামিলি কার্ড তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করেন এমপি লাভলু

​তিনি জানান, বর্তমানে শিবচর উপজেলায় বিআরডিবির অধীনে মোট ৬৩০টি সমিতি রয়েছে, যার মোট সদস্য সংখ্যা প্রায় ১১,৫০০ জন। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক গতিশীলতা সচল রাখতে চলতি বছরে উদ্যোক্তা ঋণ, পেশাজীবী ঋণ, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ঋণ, কৃষি ঋণ এবং অপ্রধান শস্য ঋণসহ বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে প্রায় ২০.৫০ কোটি (সাড়ে বিশ কোটি) টাকা ঋণ বিতরণ করা হয়েছে।

​পাশাপাশি, গ্রামীণ অঞ্চলে সঞ্চয়ের প্রবণতা বৃদ্ধি ও নিজস্ব মূলধন গঠনের লক্ষ্যে বিআরডিবির ঋণের কিস্তির সাথে ক্ষুদ্র সঞ্চয় জমা নেওয়া হয়। বর্তমানে এই উপজেলার বিভিন্ন সমিতির সদস্যদের জমা রাখা মোট সঞ্চয়ের পরিমাণ প্রায় ৮ কোটি টাকা। সদস্যরা প্রয়োজনে এই সঞ্চয়ের টাকা উত্তোলন করতে পারেন এবং পরবর্তীতে আবার জমা দিতে পারেন।

আরও পড়ুনঃ  ব্যবসার জন্য স্ত্রীর কাছে টাকা চাওয়া যৌতুক নয়: হাইকোর্ট

​সমিতির সদস্যদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে শিবচরে বিআরডিবির বেশ কিছু বিশেষ কর্মসূচি চলমান রয়েছে:

​গুচ্ছগ্রাম কর্মসূচি: এই প্রকল্পের মাধ্যমে ভূমিহীন ও পিছিয়ে পড়া মানুষকে বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিয়ে মাত্র ৮% সহজ সুদে ঋণ প্রদান করা হচ্ছে।
​অপ্রধান শস্য কর্মসূচি: ডাল, তেল ও মসলা জাতীয় ফসল চাষে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করতে এবং উৎপাদন বাড়াতে ৮% সুদে ঋণের ব্যবস্থা রয়েছে।
​অন্যান্য প্রকল্প: এছাড়া অসচ্ছল বীর মুক্তিযোদ্ধা কর্মসূচি, পল্লী জীবিকায়ন প্রকল্প (আরএলপি) এবং পিইপি কর্মসূচিসহ বহুমুখী প্রকল্পের আওতায় পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ ও স্বল্প সুদে ঋণ সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ  গাজীপুরে চাঁদা না পেয়ে পাইকারি মার্কেটে আগুন দেওয়ার হুমকি, গ্রেপ্তার ১

​সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী অফিসার এইচ এম ইবনে মিজান বলেন, “বিআরডিবি গ্রামীণ পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে স্বাবলম্বী করার ক্ষেত্রে একটি বিশেষ ও প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করে আসছে।”

​তিনি আরও বলেন “বাংলাদেশ মূলত একটি কৃষিপ্রধান দেশ। আমাদের সিংহভাগ মানুষ গ্রামে বাস করে। তাই পল্লী অঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রার মান এবং অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা না গেলে দেশ কখনোই কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে পারবে না।”

​আলোচনা সভা শেষে উপজেলার সফল সমবায়ী ও সফল উদ্যোক্তাদের মাঝে নগদ টাকার চেক ও ক্রেস্ট
বিতরন করেন।