Dhaka ০৯:৪২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ

বরগুনায় শিশুদের হামের প্রকোপ

বরগুনা জেলায় আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে হাম আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। প্রতিদিন নতুন নতুন রোগী শনাক্ত হওয়ায় জেলার স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপর চাপ বাড়ছে, যা নিয়ে স্থানীয় জনমনে তীব্র উদ্বেগ ও আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যমতে, জেলায় এ পর্যন্ত উপসর্গ নিয়ে আসা ৯৮ জনের মধ্যে ২৬ জনের শরীরে হাম এবং একজনের শরীরে রুবেলা শনাক্ত হয়েছে।

বরগুনা ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে বর্তমানে হাম সন্দেহে নতুন করে তিনজন বৃদ্ধসহ বেশ কয়েকজন ভর্তি রয়েছেন। এছাড়া সংক্রমণের ভয়াবহতা বুঝতে ৬২ জনের নমুনা পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। হাসপাতালের জুনিয়র কনসালটেন্ট (শিশু) ডা. মেহেদী পারভেজ জানান, গত এক মাস ধরে জেলায় এই প্রকোপ চলছে। প্রতিদিন বহির্বিভাগে অন্তত ২০ জন রোগী হামের উপসর্গ নিয়ে আসছেন। গুরুতর রোগীদের ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এবং জটিলতা দেখা দিলে উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্যত্র পাঠানো হচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ  মাহিন্দ্রা ট্রাক্টর থেকে মাটি পড়ে সড়ক পিচ্ছিল, খিরাতলায় বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি,প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা এলাকাবাসীর

জেলা নাগরিক অধিকার সংরক্ষণ কমিটির সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক মনির হোসেন কামাল বলেন, “হাম দ্রুত ছড়িয়ে পড়লেও তৃণমূল পর্যায়ে সচেতনতার ঘাটতি রয়ে গেছে। গ্রাম পর্যায়ে টিকাদান কার্যক্রম আরও জোরদার করা জরুরি।” বরগুনা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আবু জাফর মো. সালেহ আতঙ্কিত না হয়ে সবাইকে সচেতনতা ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।

আরও পড়ুনঃ  গজারিয়া বাজার লিটিল স্টার কিন্ডার গার্টেনে সরকারি বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা

জেলা সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ আবুল ফাত্তাহ বলেন, পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্বাস্থ্য বিভাগ সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছে। আক্রান্তদের সুচিকিৎসার পাশাপাশি নমুনা পরীক্ষা ও টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। আমরা সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার এবং শিশুদের নিয়মিত টিকা নিশ্চিত করার আহ্বান জানাচ্ছি।

আরও পড়ুনঃ  সেনবাগে নিখোঁজ মারুফের লাশ উদ্ধার: হত্যা নাকি আত্মহত্যা

আক্রান্ত শিশুদের স্বজনরা জানান, তীব্র জ্বর, সর্দি-কাশি, খাবারে অনীহা এবং শরীরে লালচে ফুসকুড়ির মতো উপসর্গ দেখা দিচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে মুখে ক্ষতও তৈরি হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সময়মতো এমআর (হাম-রুবেলা) টিকা গ্রহণই এই রোগ প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

ব্যবসার জন্য স্ত্রীর কাছে টাকা চাওয়া যৌতুক নয়: হাইকোর্ট

বরগুনায় শিশুদের হামের প্রকোপ

আপডেটের সময়: ০৮:১১:১৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ এপ্রিল ২০২৬

বরগুনা জেলায় আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে হাম আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। প্রতিদিন নতুন নতুন রোগী শনাক্ত হওয়ায় জেলার স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপর চাপ বাড়ছে, যা নিয়ে স্থানীয় জনমনে তীব্র উদ্বেগ ও আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যমতে, জেলায় এ পর্যন্ত উপসর্গ নিয়ে আসা ৯৮ জনের মধ্যে ২৬ জনের শরীরে হাম এবং একজনের শরীরে রুবেলা শনাক্ত হয়েছে।

বরগুনা ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে বর্তমানে হাম সন্দেহে নতুন করে তিনজন বৃদ্ধসহ বেশ কয়েকজন ভর্তি রয়েছেন। এছাড়া সংক্রমণের ভয়াবহতা বুঝতে ৬২ জনের নমুনা পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। হাসপাতালের জুনিয়র কনসালটেন্ট (শিশু) ডা. মেহেদী পারভেজ জানান, গত এক মাস ধরে জেলায় এই প্রকোপ চলছে। প্রতিদিন বহির্বিভাগে অন্তত ২০ জন রোগী হামের উপসর্গ নিয়ে আসছেন। গুরুতর রোগীদের ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এবং জটিলতা দেখা দিলে উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্যত্র পাঠানো হচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ  ব্যবসার জন্য স্ত্রীর কাছে টাকা চাওয়া যৌতুক নয়: হাইকোর্ট

জেলা নাগরিক অধিকার সংরক্ষণ কমিটির সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক মনির হোসেন কামাল বলেন, “হাম দ্রুত ছড়িয়ে পড়লেও তৃণমূল পর্যায়ে সচেতনতার ঘাটতি রয়ে গেছে। গ্রাম পর্যায়ে টিকাদান কার্যক্রম আরও জোরদার করা জরুরি।” বরগুনা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আবু জাফর মো. সালেহ আতঙ্কিত না হয়ে সবাইকে সচেতনতা ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।

আরও পড়ুনঃ  মাহিন্দ্রা ট্রাক্টর থেকে মাটি পড়ে সড়ক পিচ্ছিল, খিরাতলায় বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি,প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা এলাকাবাসীর

জেলা সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ আবুল ফাত্তাহ বলেন, পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্বাস্থ্য বিভাগ সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছে। আক্রান্তদের সুচিকিৎসার পাশাপাশি নমুনা পরীক্ষা ও টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। আমরা সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার এবং শিশুদের নিয়মিত টিকা নিশ্চিত করার আহ্বান জানাচ্ছি।

আরও পড়ুনঃ  গজারিয়া বাজার লিটিল স্টার কিন্ডার গার্টেনে সরকারি বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা

আক্রান্ত শিশুদের স্বজনরা জানান, তীব্র জ্বর, সর্দি-কাশি, খাবারে অনীহা এবং শরীরে লালচে ফুসকুড়ির মতো উপসর্গ দেখা দিচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে মুখে ক্ষতও তৈরি হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সময়মতো এমআর (হাম-রুবেলা) টিকা গ্রহণই এই রোগ প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়।