Dhaka ১২:৩১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ

সরকারী নিষেধাজ্ঞা কে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে শিবচরের পদ্মায় চলছে মা ইলিশ শিকার, পাড়ে বসছে অস্থায়ী হাট

জাতীয় সম্পদ ইলিশের প্রজনন নির্বিঘ্ন করতে সরকারের পক্ষ থেকে ২২ দিনের কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হলেও মাদারীপুরের শিবচরে তা মানা হচ্ছে না। উপজেলার পদ্মা নদীর বিভিন্ন চরাঞ্চল এবং দুর্গম এলাকায় সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে অবাধে চলছে মা ইলিশ শিকার। শুধু তাই নয়, নদীর পাড়েই অস্থায়ী হাট বসিয়ে প্রকাশ্যে দেদারসে বিক্রি করা হচ্ছে ডিমওয়ালা মা ইলিশ।

​মা ইলিশ রক্ষায় সরকার দেশব্যাপী এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলেও শিবচরের চরাঞ্চল ও দুর্গম এলাকাগুলোতে আইনের তোয়াক্কা না করার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে নদীর তীরবর্তী বিভিন্ন পয়েন্টে অস্থায়ী মাছের হাট গড়ে উঠেছে। দুর্গম এলাকা হওয়ায় এসব হাটে দূর-দূরান্ত থেকে ক্রেতা-বিক্রেতারা অনায়াসেই জড়ো হচ্ছেন এবং প্রকাশ্যে কেনাবেচা চলছে ইলিশ।

আরও পড়ুনঃ  নাতনীকে বিয়ের চার বছর পর হত্যা, জনতার হাতে আটক স্বামী

অনুসন্ধানে জানা গেছে, অবৈধভাবে ইলিশ শিকার ও বিক্রির সঙ্গে জড়িত চক্রগুলো একটি শক্তিশালী তথ্য পাচার বা ‘সোর্স’ নেটওয়ার্ক তৈরি করেছে। মূল ভূখণ্ড থেকে প্রশাসন বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোনো টিম নদীপথে অভিযানের জন্য রওনা দিলেই চরাঞ্চলের সংকেতদাতারা জেলেদের মুঠোফোনে বা অন্য কোনো মাধ্যমে তাৎক্ষণিক সতর্ক করে দেয়। ফলে অভিযানের দলটি ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই জেলেরা জাল ও নৌকা নিয়ে মাঝনদীতে অথবা চরের গভীর জঙ্গলে আত্মগোপন করতে সক্ষম হয়।

আরও পড়ুনঃ  কক্সবাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে টাঙ্গাইলের ২'বোনের মর্মান্তিক অকাল মৃত্যু

এ বিষয়ে শিবচর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা সত্যজিৎ মজুমদার গণমাধ্যমকে জানান, বিশাল নদী এলাকা সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রাখার মতো পর্যাপ্ত জনবল ও লজিস্টিকস সংকট তাদের রয়েছে। তবে এর মধ্যেও তারা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছেন এবং সুনির্দিষ্ট তথ্য পেলে তাৎক্ষণিক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

আরও পড়ুনঃ  সালথা উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক হাসান আশরাফ, সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক কামরুল ইসলাম,সদস্যসচিব এনায়েত হোসেন

এদিকে প্রশাসনের নজরদারির বাইরে এমন কর্মকাণ্ড চলায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল ও বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতিনিধিরা। তাদের মতে, মা ইলিশ রক্ষা করা না গেলে আগামীতে দেশের জাতীয় মাছ ইলিশের উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে এবং এর বিরূপ প্রভাব পড়বে বাজারে।

​তাই অবিলম্বে চরাঞ্চলের এই অবৈধ অস্থায়ী মাছের হাটগুলো স্থায়ীভাবে বন্ধ করা এবং পদ্মা নদীতে সার্বক্ষণিক যৌথ টহল নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

নাতনীকে বিয়ের চার বছর পর হত্যা, জনতার হাতে আটক স্বামী

সরকারী নিষেধাজ্ঞা কে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে শিবচরের পদ্মায় চলছে মা ইলিশ শিকার, পাড়ে বসছে অস্থায়ী হাট

আপডেটের সময়: ০৬:৪৩:০৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

জাতীয় সম্পদ ইলিশের প্রজনন নির্বিঘ্ন করতে সরকারের পক্ষ থেকে ২২ দিনের কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হলেও মাদারীপুরের শিবচরে তা মানা হচ্ছে না। উপজেলার পদ্মা নদীর বিভিন্ন চরাঞ্চল এবং দুর্গম এলাকায় সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে অবাধে চলছে মা ইলিশ শিকার। শুধু তাই নয়, নদীর পাড়েই অস্থায়ী হাট বসিয়ে প্রকাশ্যে দেদারসে বিক্রি করা হচ্ছে ডিমওয়ালা মা ইলিশ।

​মা ইলিশ রক্ষায় সরকার দেশব্যাপী এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলেও শিবচরের চরাঞ্চল ও দুর্গম এলাকাগুলোতে আইনের তোয়াক্কা না করার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে নদীর তীরবর্তী বিভিন্ন পয়েন্টে অস্থায়ী মাছের হাট গড়ে উঠেছে। দুর্গম এলাকা হওয়ায় এসব হাটে দূর-দূরান্ত থেকে ক্রেতা-বিক্রেতারা অনায়াসেই জড়ো হচ্ছেন এবং প্রকাশ্যে কেনাবেচা চলছে ইলিশ।

আরও পড়ুনঃ  সালথা উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক হাসান আশরাফ, সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক কামরুল ইসলাম,সদস্যসচিব এনায়েত হোসেন

অনুসন্ধানে জানা গেছে, অবৈধভাবে ইলিশ শিকার ও বিক্রির সঙ্গে জড়িত চক্রগুলো একটি শক্তিশালী তথ্য পাচার বা ‘সোর্স’ নেটওয়ার্ক তৈরি করেছে। মূল ভূখণ্ড থেকে প্রশাসন বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোনো টিম নদীপথে অভিযানের জন্য রওনা দিলেই চরাঞ্চলের সংকেতদাতারা জেলেদের মুঠোফোনে বা অন্য কোনো মাধ্যমে তাৎক্ষণিক সতর্ক করে দেয়। ফলে অভিযানের দলটি ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই জেলেরা জাল ও নৌকা নিয়ে মাঝনদীতে অথবা চরের গভীর জঙ্গলে আত্মগোপন করতে সক্ষম হয়।

আরও পড়ুনঃ  বিজ (BEES)-এর সিঙ্গারবিল বাজার শাখার শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠিত

এ বিষয়ে শিবচর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা সত্যজিৎ মজুমদার গণমাধ্যমকে জানান, বিশাল নদী এলাকা সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রাখার মতো পর্যাপ্ত জনবল ও লজিস্টিকস সংকট তাদের রয়েছে। তবে এর মধ্যেও তারা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছেন এবং সুনির্দিষ্ট তথ্য পেলে তাৎক্ষণিক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

আরও পড়ুনঃ  নাতনীকে বিয়ের চার বছর পর হত্যা, জনতার হাতে আটক স্বামী

এদিকে প্রশাসনের নজরদারির বাইরে এমন কর্মকাণ্ড চলায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল ও বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতিনিধিরা। তাদের মতে, মা ইলিশ রক্ষা করা না গেলে আগামীতে দেশের জাতীয় মাছ ইলিশের উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে এবং এর বিরূপ প্রভাব পড়বে বাজারে।

​তাই অবিলম্বে চরাঞ্চলের এই অবৈধ অস্থায়ী মাছের হাটগুলো স্থায়ীভাবে বন্ধ করা এবং পদ্মা নদীতে সার্বক্ষণিক যৌথ টহল নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।