
জুলাই অভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে টাঙ্গাইলে সমাবেশ ও গণ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার(৫’আগস্ট ২০২৬ খ্রি. ) সকালে ১১ দলীয় ঐক্য জেলা শাখার উদ্যোগে শহরের শহীদ মিনারের সামনে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
টাঙ্গাইল জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর আহসান হাবীব মাসুদের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন নায়েবে আমীর খন্দকার আব্দুর রাজ্জাক, সেক্রেটারি হুমায়ুন কবির, এনসিপির টাঙ্গাইল জেলা সভাপতি কামরুজ্জামান শাওন, সেক্রেটারি মাসুদুর রহমান রাসেল, জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি হোসনে মোবারক বাবুল ও অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম খান, ডা. একেএম আব্দুল হামিদ, অধ্যক্ষ আব্দুল্লাহ তালুকদার, অধ্যাপক মিজানুর রহমান চৌধুরী, অধ্যাপক ইকবাল হোসাইন বাদল, ইসলামি ছাত্রশিবিরের টাঙ্গাইল জেলা সভাপতি জুলাই যোদ্ধা আব্দুল আলিম প্রমুখ।
সভাপতির বক্তব্যে জেলা আমীর আহসান হাবীব মাসুদ বলেন, বিশ কোটি মানুষ জুলাইকে ধারণ করে। আপনারা চাইলেও জুলাইকে মুছে দিতে পারবেন না। জুলাই সনদ বাস্তবায়িত না হওয়া পর্যন্ত রাজপথ ছাড়বো না। জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সকল ছাত্র সংগঠনের সহাবস্থান নিশ্চিত করুন। দ্রুত শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনুন।ছাত্রদলকে থামান নয় তো এই ছাত্রদলই আপনাদের পতনের কারণ হয়ে যেতে পারে।
দলমত নির্বিশেষে বাংলা ও বিশ্ববাসীর শ্রদ্ধার মানুষ আল্লামা দেলোয়ার হোসেন সাঈদী কে আপনারা অপমান করছেন; আল্লাহপাকের রোষাণল থেকে রেহাই পাবেন না। আপনারাও ওই টাইবুনালের বিচারকে মিথ্যা সাজানো, বানোয়াট ও জুডিশিয়াল কিলিং বলেছেন।
দেশের কল্যাণ ও উন্নয়নে কাজ করুন, অন্যায় করবেন না আমরাও বিরোধিতা করবো না। অন্যায় করলে দাঁতভাঙ্গা জবাব দেয়া হবে। গুম কমিশন বাতিল করে গুমের সংস্কৃতি ফিরিয়ে আনতে চান। সালাউদ্দিন সাহেব মজলুম হয়ে জালিমের মতোন কথা কিভাবে বলেন। ভারতের পক্ষে কথা বলেন কিভাবে। এজন্য বাংলার জনগণ আপনাকে ভারতপন্থী বলেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মানবিক হতে চেষ্টা করছেন, কিন্তু দলীয় নেতা-কর্মীদের অমানবিক আচরণে কঠোর পদক্ষেপ না নেয়ায় আপনার মানবিকতা ম্লান হয়ে যাচ্ছে।
এইচএসসি পরীক্ষা নিয়ে ছাত্রদের ছোট আন্দোলনেই আপনাদের কাঁপাকাঁপি শুরু হয়ে গিয়েছিল। বাংলার ছাত্র জনতা এখন আর আন্দোলনকে ভয় পায় না। কাজেই বাংলাদেশ ও জনগণের স্বার্থ নিয়ে ছিনিমিনি খেলবেন না। প্রথম রাষ্ট্রীয় সফরে ভারত যাননি এটা ভালো। দ্রুত বঙ্গোপসাগরে দুটি ভারতীয় সরকারি কোম্পানির গ্যাস উত্তোলন চুক্তি বাতিল করতে হবে। গ্যাস বিদ্যুতের সংকট দূর করে জনগণের সাধ্যের মধ্যে দাম নির্ধারণ করুন। ফ্যামিলি কার্ডের প্রকল্পের নামে জনগণের অর্থ হরিলুটের পরিকল্পনা বাদ দিন।
আলোচনা সভায় অন্য বক্তারা বলেন, জুলাই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ফ্যাসিবাদের দোসরদের বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করতে হবে। গণঅভ্যুত্থানে আহতদের দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা ও কর্মসংস্থান এবং শহীদ পরিবারগুলোকে পুনর্বাসন দিতে হবে।
পরে শহীদ মিনার থেকে একটি গণ মিছিল বের হয়। মিছিলটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবে এসে শেষ হয়।
মিছিলে ১১ দলের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
মোঃ হালিম মিয়া, বিশেষ প্রতিনিধি : 











