Dhaka ০৩:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
নাগরপুর বাজারে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের পাশে জামায়াত নেতা ডা.  আব্দুল হামিদ নাগরপুরে ১২০’পিচ ইয়াবাসহ ২জন ব‍্যবসায়ী গ্রেফতার ১১’দলের লং মার্চ টাঙ্গাইলে সভাস্থল পরিদর্শন করলেন কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ বাহুবল থেকে সিএনজিসহ নিখোঁজের দুই দিন পর তুহিন মিয়ার লাশ নবীগঞ্জ থেকে উদ্ধার সেনবাগে পুলিশের ৭ চেকপোস্ট, কড়া নজরদারি বাজারে অগ্নিকাণ্ডে ৩’দোকানে সোয়া কোটি টাকার ক্ষতি নাগরপুরে নবগঠিত ম্যানেজিং কমেটির  পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত  বাহুবলে মাদক সেবন করে এলাকায় হট্টগোল, যুবকের ৭ মাসের কারাদণ্ড বিজয়নগরে ৪০ কেজি ভারতীয় গাঁজা আটক, পালিয়ে গেল পাচারকারীরা অপরাধ দমনে সাফল্য, মুন্সীগঞ্জ জেলার শ্রেষ্ঠ অফিসার ওসি আলাউদ্দিন

শিবচরে কাঁচা সবজিসহ নিত্য পণ্যের চড়া দামে দিশেহারা নিম্ন আয়ের মানুষ

মাদারীপুরের শিবচরে লাগামহীনভাবে বাড়ছে কাঁচা সবজিসহ নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম। এতে চরম বিপাকে পড়েছেন উপজেলার খেটে খাওয়া ও নিম্ন আয়ের সাধারণ মানুষ। মাত্র কয়েকদিনের ব্যবধানে বিভিন্ন সবজির দাম কেজিপ্রতি ৩০ থেকে ৪০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রতি কেজি ব্রয়লার (পোল্ট্রি) মুরগি ১৮০ থেকে ১৯০ টাকা এবং সোনালী মুরগি ৩২০ থেকে ৩৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

​শিবচরের বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বর্তমানে বাজারে প্রতিটি সবজি চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে। বাজারে এখন বেশিরভাগ সবজিই কেজিতে ১০০ টাকার ওপরে কিনতে হচ্ছে ক্রেতাদের।

আরও পড়ুনঃ  সেনবাগে পুলিশের ৭ চেকপোস্ট, কড়া নজরদারি

​বাজারের বর্তমান দর তালিকা অনুযায়ী— প্রতি কেজি গোল বেগুন ১৬০ টাকা, করলা ৮০ টাকা, পটল ৬০ টাকা, শসা ৫০ টাকা এবং কচুর মুখী ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ ২৮০ থেকে ৩৫০ টাকা, টমেটো ১৪০ টাকা, আদা ১৪০ টাকা ও গাজর ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। লাউ প্রতি পিস ১০০ টাকা এবং মিষ্টি কুমড়া ৭০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। বরবটির দাম রাখা হচ্ছে ৬০ টাকা আধা কেজি (১২০ টাকা কেজি)।

​নিত্যপণ্যের এমন ঊর্ধ্বগতিতে নাভিশ্বাস উঠেছে সাধারণ ক্রেতাদের। বাজার করতে আসা নছিরন বিবি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা গরিব মানুষ, তরিতরকারির দাম এত বাড়লে আমরা কী খাইয়া বাঁচুম? কাঁচা মরিচের দাম সাড়ে তিনশ টাকায় ঠেকেছে। এখন ১০০ টাকার নিচে বাজারে কোনো তরকারিই পাওয়া যায় না।”

আরও পড়ুনঃ  আমরা জনগণের দাবি আদায় করেই ছাড়বো ইনশাআল্লাহ : ডা. শফিকুর রহমান

​আরেক ক্রেতা শাহাজুল আলম বলেন, “আজকে ১৬০ টাকা কেজি দরে গোল বেগুন কিনলাম। কাঁচা মরিচসহ প্রায় সব ধরনের সবজিই বাড়তি দামে কিনতে হচ্ছে। যেভাবে জিনিসপত্রের দাম বাড়ছে, তাতে আমাদের মতো নিম্ন আয়ের মানুষের পক্ষে সংসার চালানো অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে।”

​সবজির দাম বাড়ার কারণ হিসেবে ব্যবসায়ীরা সাম্প্রতিক প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও সরবরাহের ঘাটতিকে দায়ী করছেন। শিবচর পৌর বাজারের সবজি ব্যবসায়ী কাসেম বলেন, “টানা বৃষ্টির কারণে জমির অনেক সবজি নষ্ট হয়ে গেছে। বাজারে এখন কাঁচা সবজির সরবরাহ অনেক কম, যার কারণে পাইকারি ও খুচরা বাজারে দাম একটু বেশি।”

আরও পড়ুনঃ  বাজারে অগ্নিকাণ্ডে ৩'দোকানে সোয়া কোটি টাকার ক্ষতি

​এদিকে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের বিষয়টি প্রশাসনের নজরে রয়েছে। এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বাজার নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত মনিটরিং পরিচালনা করা হচ্ছে। কোনো অসাধু ব্যবসায়ী যদি সিন্ডিকেটের সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করে, তবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

নাগরপুর বাজারে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের পাশে জামায়াত নেতা ডা.  আব্দুল হামিদ

শিবচরে কাঁচা সবজিসহ নিত্য পণ্যের চড়া দামে দিশেহারা নিম্ন আয়ের মানুষ

আপডেটের সময়: ০৯:৩৭:০৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ অগাস্ট ২০২৬

মাদারীপুরের শিবচরে লাগামহীনভাবে বাড়ছে কাঁচা সবজিসহ নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম। এতে চরম বিপাকে পড়েছেন উপজেলার খেটে খাওয়া ও নিম্ন আয়ের সাধারণ মানুষ। মাত্র কয়েকদিনের ব্যবধানে বিভিন্ন সবজির দাম কেজিপ্রতি ৩০ থেকে ৪০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রতি কেজি ব্রয়লার (পোল্ট্রি) মুরগি ১৮০ থেকে ১৯০ টাকা এবং সোনালী মুরগি ৩২০ থেকে ৩৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

​শিবচরের বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বর্তমানে বাজারে প্রতিটি সবজি চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে। বাজারে এখন বেশিরভাগ সবজিই কেজিতে ১০০ টাকার ওপরে কিনতে হচ্ছে ক্রেতাদের।

আরও পড়ুনঃ  ১১'দলের লং মার্চ টাঙ্গাইলে সভাস্থল পরিদর্শন করলেন কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ

​বাজারের বর্তমান দর তালিকা অনুযায়ী— প্রতি কেজি গোল বেগুন ১৬০ টাকা, করলা ৮০ টাকা, পটল ৬০ টাকা, শসা ৫০ টাকা এবং কচুর মুখী ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ ২৮০ থেকে ৩৫০ টাকা, টমেটো ১৪০ টাকা, আদা ১৪০ টাকা ও গাজর ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। লাউ প্রতি পিস ১০০ টাকা এবং মিষ্টি কুমড়া ৭০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। বরবটির দাম রাখা হচ্ছে ৬০ টাকা আধা কেজি (১২০ টাকা কেজি)।

​নিত্যপণ্যের এমন ঊর্ধ্বগতিতে নাভিশ্বাস উঠেছে সাধারণ ক্রেতাদের। বাজার করতে আসা নছিরন বিবি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা গরিব মানুষ, তরিতরকারির দাম এত বাড়লে আমরা কী খাইয়া বাঁচুম? কাঁচা মরিচের দাম সাড়ে তিনশ টাকায় ঠেকেছে। এখন ১০০ টাকার নিচে বাজারে কোনো তরকারিই পাওয়া যায় না।”

আরও পড়ুনঃ  সেনবাগে পুলিশের ৭ চেকপোস্ট, কড়া নজরদারি

​আরেক ক্রেতা শাহাজুল আলম বলেন, “আজকে ১৬০ টাকা কেজি দরে গোল বেগুন কিনলাম। কাঁচা মরিচসহ প্রায় সব ধরনের সবজিই বাড়তি দামে কিনতে হচ্ছে। যেভাবে জিনিসপত্রের দাম বাড়ছে, তাতে আমাদের মতো নিম্ন আয়ের মানুষের পক্ষে সংসার চালানো অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে।”

​সবজির দাম বাড়ার কারণ হিসেবে ব্যবসায়ীরা সাম্প্রতিক প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও সরবরাহের ঘাটতিকে দায়ী করছেন। শিবচর পৌর বাজারের সবজি ব্যবসায়ী কাসেম বলেন, “টানা বৃষ্টির কারণে জমির অনেক সবজি নষ্ট হয়ে গেছে। বাজারে এখন কাঁচা সবজির সরবরাহ অনেক কম, যার কারণে পাইকারি ও খুচরা বাজারে দাম একটু বেশি।”

আরও পড়ুনঃ  সড়ক দুর্ঘটনায় আহত মুখপোড়া হনুমানটির মৃত্যু

​এদিকে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের বিষয়টি প্রশাসনের নজরে রয়েছে। এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বাজার নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত মনিটরিং পরিচালনা করা হচ্ছে। কোনো অসাধু ব্যবসায়ী যদি সিন্ডিকেটের সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করে, তবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।