Dhaka ০৭:০৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬, ৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
শিবচরে বৃষ্টিতেই পানিবন্দী হয়ে পড়ছেন বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা সেবার পরিধি বাড়াতে সেনবাগের কাবিলপুর ইউনিয়নকে দুইটি ইউনিয়নে বিভক্তির প্রস্তাব সেনবাগে ১৮ পিস ইয়াবাসহ কুখ্যাত মাদক কারবারি গ্রেপ্তার, পরোয়ানাভুক্ত আরও দুই জন আটক সেনবাগে ৩,৯৫০ পিস ইয়াবাসহ দুই শীর্ষ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার ডিমলায় দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা বুড়ি তিস্তার জলকপাট খুলে দেওয়া হলো শেষ বিদায়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুর রউফ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন পুটিজুরীতে সড়ক দুর্ঘটনায় কিশোরের মর্মান্তিক মৃত্যু বোর্ডবাজারে পল্লী মঙ্গল কর্মসূচীর উদ্যোগে বিনামূল্যে চিকিৎসা, ওষুধ ও চশমা বিতরণ ফুটবল ফাইনাল উন্মাদনায় শিবচরে স্পেন সমর্থকদের মহিষের মাংসের ভূরিভোজ সেনবাগে পুলিশের ‘জিরো টলারেন্স’: ইয়াবাসহ ৮ অপরাধী কারাগারে

বরগুনা টু বরিশাল আঞ্চলিক মহাসড়কে সংকীর্ণতা ও অসংখ্য ভয়াবহ বাঁক যেন মৃত্যুর ফাঁদ

বরগুনা থেকে বরিশাল যেতে ৫১টিরও বেশি ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক পেরোতে হয়-যেখানে প্রতিদিনই লুকিয়ে থাকে দুর্ঘটনার সম্ভাবনা। দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ মাধ্যম বরগুনা-বাকেরগঞ্জ-বরিশাল আঞ্চলিক মহাসড়ক এখন যেন ধীরে ধীরে পরিণত হচ্ছে এক ‘মৃত্যুফাঁদে’। দীর্ঘদিনের অবহেলা, অপরিকল্পিত সংস্কার আর নিয়ন্ত্রণহীন ভারী যান চলাচলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন এই সড়ক ব্যবহারকারীরা। দক্ষিণাঞ্চলের
প্রায় ৫৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়কটি ২০২৪ সালে আঞ্চলিক মহাসড়কে উন্নীত হলেও বাস্তবে উন্নয়নের দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। মাত্র ১৮ ফুট প্রশস্ত সরু সড়কে প্রতিদিন প্রায় ২৫০/ ৩০০ যাত্রীবাহী বাসসহ অসংখ্য পণ্যবাহী যান চলাচল করায় ঝুঁকি আরও বাড়ছে। বরগুনা সদর, পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ ও বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার মানুষের জন্য এটি একমাত্র সরাসরি যোগাযোগ পথ হওয়ায় বিকল্পও নেই।

আরও পড়ুনঃ  বোর্ডবাজারে পল্লী মঙ্গল কর্মসূচীর উদ্যোগে বিনামূল্যে চিকিৎসা, ওষুধ ও চশমা বিতরণ

ঝুঁকি আরও বাড়িয়েছে অতিরিক্ত বোঝাই ভারী যানবাহন। পায়রা সেতুতে ওজনসীমা নির্ধারণ থাকায় ৩০ টনের বেশি বোঝাই ট্রাকগুলো বিকল্প হিসেবে আমতলী, গলাচিপা, কলাপাড়া ও তালতলী উপজেলার বিভিন্ন বাজারের ব্যবসায়ীরা এই সড়ক ব্যবহার করছে। এতে সড়কের ব্রিজ ও কালভার্ট পড়ছে মারাত্মক চাপের মুখে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বরগুনায় ওজন মাপার স্কেল না থাকায় এসব যানবাহন নিয়ন্ত্রণ কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
সড়ক ব্যবহারকারী চালক সাইফুল ইসলাম ও আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘প্রতিটি বাঁকেই ভয় নিয়ে গাড়ি চালাতে হয়। সামান্য অসতর্ক হলেই বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।’ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘ধারণক্ষমতার চেয়ে দ্বিগুণ ওজনের ট্রাক চলাচল করছে, যা সড়কের স্থায়িত্ব মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

আরও পড়ুনঃ  ফুটবল ফাইনাল উন্মাদনায় শিবচরে স্পেন সমর্থকদের মহিষের মাংসের ভূরিভোজ

অত্র অঞ্চলের নিয়মিত যাতায়াতকারী যাত্রীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার কাজ চললেও তা অনেক স্থানে অসম্পূর্ণ রয়ে গেছে। বিশেষ করে রাতে অতিরিক্ত বোঝাই ট্রাক চলাচল পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলছে।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সড়ক প্রশস্তকরণ ও ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক সরলীকরণের প্রকল্প প্রস্তাবনা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। একই সঙ্গে মহাসড়কটিকে চার লেনে উন্নীত করার পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে এবং এ বিষয়ে সমীক্ষা চলছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মতে, এই সড়ক চার লেনে উন্নীত করা হলে দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনীতি, পর্যটন ও ব্যবসা-বাণিজ্যে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। তবে দীর্ঘদিনের ভোগান্তি থেকে মুক্তি পেতে এখনই দৃশ্যমান পদক্ষেপ দেখতে চান দক্ষিণ অঞ্চলের জনগণ ।

আরও পড়ুনঃ  সেনবাগে ৩,৯৫০ পিস ইয়াবাসহ দুই শীর্ষ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়নের অন্যতম পূর্বশর্ত হয়ে দাঁড়িয়েছে এই সড়কের আধুনিকায়ন। এখন প্রশ্ন, কত দ্রুত সেই পদক্ষেপ বাস্তবে রূপ পাবে। এই দক্ষিণাঞ্চলে জনগণ প্রত্যাশা করে যে, বরগুনা টু বরিশাল হাইওয়েতে যত শীঘ্র সংস্কার সাধন করা হবে ততই দ্রুত জনগণের যাতায়াতে ভোগান্তি কমবে। উল্লেখ্য যে স্থানীয় এই মহাসড়কটি বরিশাল সহ ঢাকা চট্টগ্রাম খুলনা বিভিন্ন অঞ্চলে যাতায়াতের একমাত্র পথ। প্রতিদিন শত শত গাড়ি এই মহাসড়ক দিয়ে চলাচল করে এবং হাজার হাজার মানুষ বিভিন্ন গন্তব্য চলে যায়। এখন এই অঞ্চলের মানুষের একমাত্র প্রত্যাশা এই সড়কটি বিভিন্ন এলাকার বাকগুলো সংস্কার সাধন করে দুর্ঘটনার হাত থেকে যাত্রীদের রক্ষা করার জন্য অত্যন্ত জরুরী।

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

শিবচরে বৃষ্টিতেই পানিবন্দী হয়ে পড়ছেন বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা

বরগুনা টু বরিশাল আঞ্চলিক মহাসড়কে সংকীর্ণতা ও অসংখ্য ভয়াবহ বাঁক যেন মৃত্যুর ফাঁদ

আপডেটের সময়: ০৭:১৯:১২ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২৬

বরগুনা থেকে বরিশাল যেতে ৫১টিরও বেশি ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক পেরোতে হয়-যেখানে প্রতিদিনই লুকিয়ে থাকে দুর্ঘটনার সম্ভাবনা। দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ মাধ্যম বরগুনা-বাকেরগঞ্জ-বরিশাল আঞ্চলিক মহাসড়ক এখন যেন ধীরে ধীরে পরিণত হচ্ছে এক ‘মৃত্যুফাঁদে’। দীর্ঘদিনের অবহেলা, অপরিকল্পিত সংস্কার আর নিয়ন্ত্রণহীন ভারী যান চলাচলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন এই সড়ক ব্যবহারকারীরা। দক্ষিণাঞ্চলের
প্রায় ৫৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়কটি ২০২৪ সালে আঞ্চলিক মহাসড়কে উন্নীত হলেও বাস্তবে উন্নয়নের দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। মাত্র ১৮ ফুট প্রশস্ত সরু সড়কে প্রতিদিন প্রায় ২৫০/ ৩০০ যাত্রীবাহী বাসসহ অসংখ্য পণ্যবাহী যান চলাচল করায় ঝুঁকি আরও বাড়ছে। বরগুনা সদর, পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ ও বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার মানুষের জন্য এটি একমাত্র সরাসরি যোগাযোগ পথ হওয়ায় বিকল্পও নেই।

আরও পড়ুনঃ  সেবার পরিধি বাড়াতে সেনবাগের কাবিলপুর ইউনিয়নকে দুইটি ইউনিয়নে বিভক্তির প্রস্তাব

ঝুঁকি আরও বাড়িয়েছে অতিরিক্ত বোঝাই ভারী যানবাহন। পায়রা সেতুতে ওজনসীমা নির্ধারণ থাকায় ৩০ টনের বেশি বোঝাই ট্রাকগুলো বিকল্প হিসেবে আমতলী, গলাচিপা, কলাপাড়া ও তালতলী উপজেলার বিভিন্ন বাজারের ব্যবসায়ীরা এই সড়ক ব্যবহার করছে। এতে সড়কের ব্রিজ ও কালভার্ট পড়ছে মারাত্মক চাপের মুখে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বরগুনায় ওজন মাপার স্কেল না থাকায় এসব যানবাহন নিয়ন্ত্রণ কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
সড়ক ব্যবহারকারী চালক সাইফুল ইসলাম ও আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘প্রতিটি বাঁকেই ভয় নিয়ে গাড়ি চালাতে হয়। সামান্য অসতর্ক হলেই বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।’ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘ধারণক্ষমতার চেয়ে দ্বিগুণ ওজনের ট্রাক চলাচল করছে, যা সড়কের স্থায়িত্ব মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

আরও পড়ুনঃ  সেনবাগে ৩,৯৫০ পিস ইয়াবাসহ দুই শীর্ষ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

অত্র অঞ্চলের নিয়মিত যাতায়াতকারী যাত্রীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার কাজ চললেও তা অনেক স্থানে অসম্পূর্ণ রয়ে গেছে। বিশেষ করে রাতে অতিরিক্ত বোঝাই ট্রাক চলাচল পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলছে।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সড়ক প্রশস্তকরণ ও ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক সরলীকরণের প্রকল্প প্রস্তাবনা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। একই সঙ্গে মহাসড়কটিকে চার লেনে উন্নীত করার পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে এবং এ বিষয়ে সমীক্ষা চলছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মতে, এই সড়ক চার লেনে উন্নীত করা হলে দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনীতি, পর্যটন ও ব্যবসা-বাণিজ্যে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। তবে দীর্ঘদিনের ভোগান্তি থেকে মুক্তি পেতে এখনই দৃশ্যমান পদক্ষেপ দেখতে চান দক্ষিণ অঞ্চলের জনগণ ।

আরও পড়ুনঃ  বোর্ডবাজারে পল্লী মঙ্গল কর্মসূচীর উদ্যোগে বিনামূল্যে চিকিৎসা, ওষুধ ও চশমা বিতরণ

দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়নের অন্যতম পূর্বশর্ত হয়ে দাঁড়িয়েছে এই সড়কের আধুনিকায়ন। এখন প্রশ্ন, কত দ্রুত সেই পদক্ষেপ বাস্তবে রূপ পাবে। এই দক্ষিণাঞ্চলে জনগণ প্রত্যাশা করে যে, বরগুনা টু বরিশাল হাইওয়েতে যত শীঘ্র সংস্কার সাধন করা হবে ততই দ্রুত জনগণের যাতায়াতে ভোগান্তি কমবে। উল্লেখ্য যে স্থানীয় এই মহাসড়কটি বরিশাল সহ ঢাকা চট্টগ্রাম খুলনা বিভিন্ন অঞ্চলে যাতায়াতের একমাত্র পথ। প্রতিদিন শত শত গাড়ি এই মহাসড়ক দিয়ে চলাচল করে এবং হাজার হাজার মানুষ বিভিন্ন গন্তব্য চলে যায়। এখন এই অঞ্চলের মানুষের একমাত্র প্রত্যাশা এই সড়কটি বিভিন্ন এলাকার বাকগুলো সংস্কার সাধন করে দুর্ঘটনার হাত থেকে যাত্রীদের রক্ষা করার জন্য অত্যন্ত জরুরী।