
দীর্ঘ ১৬ বছর প্রবাসজীবন কাটানোর পর ফ্রান্স থেকে নিজ জন্মভূমিতে ফিরেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার সিঙ্গারবিল ইউনিয়নের কাশিনগর গ্রামের কৃতিসন্তান প্রবাসী মোহাম্মদ মমিন রনি। নিজের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে তিনি হেলিকপ্টারযোগে গ্রামের মাটিতে পৌঁছালে পুরো এলাকাজুড়ে সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ।
আজ দুপুর প্রায় ১টায় ঢাকার আন্তর্জাতিক শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে ছেড়ে আসা হেলিকপ্টারটি সিঙ্গারবিল বাজারের পশ্চিম পাশে নির্ধারিত একটি মাঠে অবতরণ করে। এ সময় হেলিকপ্টারটি এক নজর দেখতে এবং প্রবাসী রনিকে স্বাগত জানাতে আশপাশের কয়েক শতাধিক মানুষ সেখানে ভিড় জমায়। গ্রামের সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে শিশু-কিশোর, যুবক ও বয়োজ্যেষ্ঠদের মাঝেও ছিল ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা।
স্থানীয়রা জানান, গ্রামের ইতিহাসে এমন দৃশ্য খুব কমই দেখা গেছে। হেলিকপ্টারযোগে গ্রামের মাটিতে প্রিয় সন্তানের ফিরে আসা যেন পুরো এলাকাবাসীর জন্য এক আনন্দঘন ও স্মরণীয় মুহূর্তে পরিণত হয়।
মোহাম্মদ মমিন রনি, হাজী মোহাম্মদ আব্দুর রহিম মিয়া ও সালেহা বেগমের সন্তান। চার ছেলে ও দুই মেয়ের মধ্যে তিনি পরিবারের ছোট ছেলে। দীর্ঘ ১৬ বছর পর সন্তানকে কাছে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তার বাবা-মা, ভাই-বোন ও আত্মীয়-স্বজন।
প্রবাসী রনির বাবা হাজী মোহাম্মদ আব্দুর রহিম মিয়া সাংবাদিকদের জানান, “দীর্ঘদিন পর ছেলেকে কাছে পেয়ে আমাদের আনন্দের শেষ নেই। তবে আজ যদি তার মা বেঁচে থাকতো তাহলে হইতো এই মুহূর্তে আরো অনেক বেশি খুশি হতাম আজ ১৬ বছর পর সন্তানকে দেখে যে চোখের পানি ঝরছে, তা কোনো কষ্টের নয়—এটি শুধুই আনন্দের অশ্রু। আল্লাহর কাছে শুকরিয়া, এতদিন পর আমার সন্তানকে বুকে জড়িয়ে ধরতে পেরেছি।”
এদিকে, প্রবাসী মমিন রনির আগমনকে ঘিরে পুরো কাশিনগর গ্রামে ছিল উৎসবের আমেজ। আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব ও এলাকাবাসী তাকে ফুল ও শুভেচ্ছায় বরণ করে নেন। স্থানীয়দের মতে, প্রবাসজীবনের দীর্ঘ সংগ্রামের পর নিজের শিকড়ে ফিরে আসার এই ঘটনা ভবিষ্যতেও এলাকার মানুষের কাছে এক অনুপ্রেরণার গল্প হয়ে থাকবে।
মোঃ শামীম উসমান গনী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রতিনিধি: 


















