
নীলফামারী জেলোার ডিমলায় ব্যাটারিচালিত মেশিনে তিস্তা নদীর পানি বিদ্যুতায়িত করে রাতের আঁধারে মাছ শিকারে মেতে উঠেছে এক শ্রেণীর অসাধু মানুষ, করছে মাছ শিকার । ফলে তিস্তা নদীতে মাছের উৎপাদন কমে যাওয়ার আশঙ্কা করছে তিস্তাপাড় বাসী। পাশাপাশি হুমকির মুখে পড়ছে মাছের বংশ বিস্তারে ।
তিস্তাপাড় বাসীর অভিযোগ, ব্যাটারী চালিত যন্ত্র দিয়ে মাছ নিধনের অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পেতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে জানানোর পরেও কার্যকরী কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বরং দিন দিন অবৈধভাবে অবাধে মাছ চাষের প্রবণতা বেড়েই চলেছে।
অনুসন্ধান করে জানা গেছে, উপজেলার পশ্চিম ছাতনাই ইউনিয়নের কালিগঞ্জ,পূর্ব ছাতনাই ইউনিয়নের ঝাড়সিংহেশ্বর ,বারোবিশার চড়,খগাখড়িবাড়ী ইউনিয়নের কিসামতের চর,টেপাখড়িবাড়ী ইউনিয়নের চরখড়িবাড়ি,পূর্ব খড়িবাড়ী পঃখড়িবাড়ী, টাবুর চড়, ঝুনাগাছ চাপানী ইউনিয়নের বাইশপুকুর, ছাতুনামা ও ভেন্ডাবাড়ি এলাকায় তিস্তা নদীতে রাতের আধারে কিছু অসাধু ব্যক্তি বৈদ্যুতিক শক মেশিন দিয়ে অবৈধ ভাবে অবাধে মাছ শিকার করেই চলছে ।
জানা গেছে, এ পদ্ধতিতে জেলেরা নৌকায় ইজিবাইকে ব্যবহৃত ব্যাটারি সঙ্গে নেন। সেই ব্যাটারির সঙ্গে একটি ইনভার্টার (ব্যাটারির বৈদ্যুতিক শক্তি কমবেশি করার যন্ত্র) যুক্ত করা হয়। সেই ইনভার্টার থেকে দুটি তার বের করে একটি পানিতে ফেলে দেওয়া হয়। অপর তারটি একটি জালির সঙ্গে যুক্ত থাকে। বিদ্যুতায়িত ওই জালি যখন নদীর পানিতে ফেলা হয় তখন জালির ১৫-২০ ফুট দূরত্ব পর্যন্ত পানি বিদ্যুতায়িত হয়ে এর মধ্যে থাকা মাছগুলো কারেন্টের শক খেয়ে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে পানিতে ভেসে ওঠে। ভেসে ওঠা মাছগুলো পরে জালি দিয়ে নৌকায় তোলা হয়। এ পদ্ধতিতে মাছ শিকারের ফলে পানিতে বসবাসকারী অন্যান্য জলজ প্রাণীরাও মারা পড়ে থাকে ।
স্থানীয়রা জানান, নিষিদ্ধ চায়না জাল আর রিং জাল ব্যবহারে নদীতে এমনিতেই মাছ পাওয়া যায় না। এই পরিস্থিতিতে বৈদ্যুতিক শক মেশিনে মাছ শিকার করায় মাছের পোনা, ডিমসহ অন্যান্য জলজ প্রাণিও মারা পড়ে । এভাবে চলতে থাকলে এক সময় মাছের চরম সংকট দেখা দেয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে ।
বাইশপুকুর চর এলাকার স্হানীয় জেলে রাম গোপাল বলেন, নদীতে আগের তুলনায় মাছ পাওয়া যায় না। জেলেরা সারা দিন বসে থাকে জাল নিয়ে কিন্তু মাছ পায়না । বৈদ্যুতিক মেশিন দিয়ে ছোট বড় মাছগুলো মেরে ফেলার ফলে মাছের ভয়াবহ সংকট দেখা দিয়েছে। সারা দিন মাছ শিকার করে ৩০০ টাকার মাছও বিক্রি করতে পায় না । এভাবে চলতে থাকলে পরিবার-পরিজন নিয়ে না খেয়ে দিন কাটাতে হবে।
তিস্তা নদীর প্রবেশ মুখ কালিগঞ্জ এলাকার বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, সন্ধ্যা হলেই নদীতে ১০-১৫ টি নৌকায় বৈদ্যুতিক শক দিয়ে মাছ নিধন করা হচ্ছে। একটি অসাধু চক্র সহজে বেশি মাছ শিকারের জন্য এই পদ্ধতি ব্যবহার করছে। চক্রের সদস্যরা স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী। গ্রামবাসী প্রতিবাদ করলে উল্টো হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এমনকি পুলিশি হয়রানিও করা হয়েছে।
এ বিষয়ে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা শামীমা আকতার বলেন, কিছু অসাধু ব্যাক্তি রাতে নদী-জলাশয়ে নিষিদ্ধ জাল ও বৈদ্যুতিক শক দিয়ে মাছ শিকার করছে। তাদের অনেক চেষ্টা করেও এ পদ্ধতিতে মাছ ধরা থেকে বিরত রাখা সম্ভব হচ্ছে না। তবে তাদের শনাক্ত করতে অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে। তাদের নামের তালিকা করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাসেল মিয়া বলেন, বিষয়টি তার জানা নেই। তবে এ বিষয়ে খবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি জানান।
মোঃমফিজুল ইসলামঃ 
















