
শনিবার ২১’ফেব্রুয়ারি ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ সকালে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী টাঙ্গাইল শহর শাখার উদ্যোগে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের হলরুমে আলোচনাসভা আয়োজন করা হয় ।
এতে প্রধান অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় মজলিশে সূরা সদস্যও জেলা আমীর আহসান হাবীব মাসুদ । আলোচক ছিলেন টাঙ্গাইল সদর উপজেলার সেক্রেটারি আলমগীর হোসন, শহর জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মাস্টার রফিকুল ইসলাম, সদর উপজেলার সহকারী সেক্রেটারি অধ্যক্ষ শরিফুল ইসলাম, শহরের কর্মপরিষদ সদস্য জহির উদ্দিন মোহাম্মদ বাবর, বাংলাদেশ ইসলামি ছাত্র শিবিরের মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাপতি মো. হাফিজুর রহমান প্রমুখ ।
উক্ত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন সদর উপজেলার আমীর ইকবাল হোসাইন বাদল। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন শহর শাখার সেক্রেটারি সাইফুল ইসলাম। প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বলেন, বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবি ১৯০৫ সাল থেকেই শুরু হয়েছিল। বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার প্রথম দাবি করেন ধনবাড়ির নওয়াব আলী চৌধুরী। তমুদ্দুন মজলিসের উদ্যোগে যে আন্দোলন শুরু হয়েছিল; তার কৃতিত্ব পরবর্তীতে বামপন্থীরা পুরোপুরি গ্রাস করেছে। অধ্যাপক গোলাম আজমকে এখনও তারা মানতে পারে না। জাতিকে এগিয়ে নিতে হলে সত্যকে মেনে নিতে হবে। তিনি আরও বলেন, দেশের সর্ব স্তরে বাংলা ভাষার প্রচলন করতে হবে।
আলোচনা অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, ২১ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ সহ সব বাংলা ভাষা ব্যবহারকারী জনগণের গৌরবোজ্জ্বল একটি দিন। এটি শহীদ দিবসও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবেও সুপরিচিত। বাঙালির ভাষা আন্দোলনের মর্মন্তুদ ও গৌরবোজ্জ্বল স্মৃতিবিজড়িত একটি দিন হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে।
১৯৫২ সালের এ দিনে (৮ ফাল্গুন, ১৩৫৮, বৃহস্পতিবার) বাংলাকে পূর্ব পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে আন্দোলনরত ছাত্রদের ওপর পুলিশ গুলিবর্ষণ করে। এতে অনেক তরুণ শহীদ হন। তাদের মধ্যে অন্যতম হলো রফিক, জব্বার, শফিউর, সালাম, বরকত সহ অনেকেই। এজন্য এ দিনটি শহীদ দিবস হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে।
১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর জাতিসংঘ ঘোষণা দেয় প্রতিবছর ২১ ফেব্রুয়ারি বিশ্বব্যাপী আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন করা হবে। ২০০০ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি থেকে দিবসটি জাতিসংঘের সদস্যদেশসমূহে যথাযথ মর্যাদায় পালিত হয়ে আসছে।
বাঙালি ছাড়া আর কোনো জাতি তার নিজের ভাষা প্রতিষ্ঠার জন্য আন্দোলন সংগ্রাম করেনি, অকাতরে জীবন বিলিয়ে দেয়নি। একারণে বাঙালির এই মহান আত্মত্যাগকে গোটা বিশ্ব স্মরণ করে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালনের মাধ্যমে।
মোঃ হালিম মিয়া, বিশেষ প্রতিনিধি : 









