Dhaka 4:35 am, Sunday, 22 February 2026

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে ভাষা শহীদদের প্রতি ঢাকা প্রেসক্লাবের বিনম্র শ্রদ্ধা

মহান আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে ভাষা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা নিবেদন করেছে ঢাকা প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দ। শনিবার সকালে জাতীয় শহীদ মিনারে সংগঠনের সভাপতি আওরঙ্গজেব কামালের নেতৃত্বে নেতৃবৃন্দ ও সদস্যরা পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শহীদদের স্মৃতির প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানান।শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে সভাপতি আওরঙ্গজেব কামাল বলেন, ১৯৫২ সালের এই দিনে সালাম, বরকত, রফিক, জব্বারসহ নাম না জানা অসংখ্য বীর সন্তান বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিয়েছিলেন ঢাকার রাজপথে। তাঁদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আমরা পেয়েছি মাতৃভাষায় কথা বলার অধিকার। তিনি বলেন, ভাষা আন্দোলন কেবল ভাষার দাবি ছিল না—এটি ছিল আত্মমর্যাদা, ন্যায়বিচার এবং বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম। ভাষা শহীদদের চেতনা আমাদের গণতন্ত্র, স্বাধীনতা ও মানবিক মূল্যবোধের ভিত্তি সুদৃঢ় করেছে।

তিনি আরও বলেন, বাংলা ভাষা আজ বিশ্বব্যাপী মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত। কিন্তু রাষ্ট্রের সর্বস্তরে বাংলার কার্যকর ও পূর্ণাঙ্গ প্রয়োগ নিশ্চিত করা এখনো সময়ের দাবি। ভাষার প্রতি সম্মান দেখাতে হলে প্রশাসন, বিচারব্যবস্থা, শিক্ষা ও গণমাধ্যমসহ সব ক্ষেত্রে বাংলার ব্যবহার আরও বিস্তৃত করতে হবে।সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মোঃ দেলোয়ার হোসেন বলেন, সাংবাদিক সমাজ সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে কথা বলে—যার শিকড় নিহিত আছে ভাষা আন্দোলনের চেতনায়। ঢাকা প্রেসক্লাব সবসময় স্বাধীন সাংবাদিকতা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং পেশাগত মর্যাদা রক্ষায় সোচ্চার থাকবে। তিনি বলেন, ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়, এটি আমাদের নৈতিক ও পেশাগত দায়বদ্ধতার অংশ।

সহ-সভাপতি এ. মান্নান বলেন, ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে জাতির যে প্রত্যাশা সৃষ্টি হয়েছিল—একটি বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক রাষ্ট্রব্যবস্থা—তা এখনো সম্পূর্ণ বাস্তবায়িত হয়নি। তিনি তরুণ প্রজন্মকে ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস ও তাৎপর্য গভীরভাবে জানার আহ্বান জানান।সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক মোঃ রফিকুল ইসলাম বলেন, ৫২’র ভাষা আন্দোলন আমাদের কথা বলার অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছে এবং পরবর্তীতে স্বাধীনতা আন্দোলনের পথ সুগম করেছে। তিনি বলেন, আজও সর্বক্ষেত্রে বাংলার পূর্ণাঙ্গ প্রচলন নিশ্চিত করতে সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন যুগ্ম সম্পাদক সানাউল্লাহ ও মোঃ ওবায়দুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক ইদি আমিন এপোলো, মোঃ মাসুম বিশ্বাস, মোঃ আজহার আলী, আব্দুল মান্নান ভূঁইয়া,মোঃ ইউনুস আলী, মোঃ হেকমত আলী, মাসুদ পারভেজ, মোঃ আজিজ প্রধান , এস এম মনিরুজ্জামান,কোহিনুর বেগমসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ ও সদস্যরা।

অনুষ্ঠানের শেষপর্যায়ে ভাষা শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। নেতৃবৃন্দ বলেন, ভাষা শহীদদের রক্তঋণ কখনো শোধ হবার নয়; তাঁদের আদর্শ ও আত্মত্যাগের চেতনাকে ধারণ করেই এগিয়ে যাবে জাতি।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

বিজয়নগরে প্রশাসনের উদ্যোগে যথাযোগ্য মর্যাদায় শহীদ দিবস ও মাতৃভাষা দিবস পালন

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে ভাষা শহীদদের প্রতি ঢাকা প্রেসক্লাবের বিনম্র শ্রদ্ধা

Update Time : 04:24:55 pm, Saturday, 21 February 2026

মহান আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে ভাষা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা নিবেদন করেছে ঢাকা প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দ। শনিবার সকালে জাতীয় শহীদ মিনারে সংগঠনের সভাপতি আওরঙ্গজেব কামালের নেতৃত্বে নেতৃবৃন্দ ও সদস্যরা পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শহীদদের স্মৃতির প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানান।শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে সভাপতি আওরঙ্গজেব কামাল বলেন, ১৯৫২ সালের এই দিনে সালাম, বরকত, রফিক, জব্বারসহ নাম না জানা অসংখ্য বীর সন্তান বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিয়েছিলেন ঢাকার রাজপথে। তাঁদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আমরা পেয়েছি মাতৃভাষায় কথা বলার অধিকার। তিনি বলেন, ভাষা আন্দোলন কেবল ভাষার দাবি ছিল না—এটি ছিল আত্মমর্যাদা, ন্যায়বিচার এবং বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম। ভাষা শহীদদের চেতনা আমাদের গণতন্ত্র, স্বাধীনতা ও মানবিক মূল্যবোধের ভিত্তি সুদৃঢ় করেছে।

তিনি আরও বলেন, বাংলা ভাষা আজ বিশ্বব্যাপী মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত। কিন্তু রাষ্ট্রের সর্বস্তরে বাংলার কার্যকর ও পূর্ণাঙ্গ প্রয়োগ নিশ্চিত করা এখনো সময়ের দাবি। ভাষার প্রতি সম্মান দেখাতে হলে প্রশাসন, বিচারব্যবস্থা, শিক্ষা ও গণমাধ্যমসহ সব ক্ষেত্রে বাংলার ব্যবহার আরও বিস্তৃত করতে হবে।সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মোঃ দেলোয়ার হোসেন বলেন, সাংবাদিক সমাজ সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে কথা বলে—যার শিকড় নিহিত আছে ভাষা আন্দোলনের চেতনায়। ঢাকা প্রেসক্লাব সবসময় স্বাধীন সাংবাদিকতা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং পেশাগত মর্যাদা রক্ষায় সোচ্চার থাকবে। তিনি বলেন, ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়, এটি আমাদের নৈতিক ও পেশাগত দায়বদ্ধতার অংশ।

সহ-সভাপতি এ. মান্নান বলেন, ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে জাতির যে প্রত্যাশা সৃষ্টি হয়েছিল—একটি বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক রাষ্ট্রব্যবস্থা—তা এখনো সম্পূর্ণ বাস্তবায়িত হয়নি। তিনি তরুণ প্রজন্মকে ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস ও তাৎপর্য গভীরভাবে জানার আহ্বান জানান।সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক মোঃ রফিকুল ইসলাম বলেন, ৫২’র ভাষা আন্দোলন আমাদের কথা বলার অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছে এবং পরবর্তীতে স্বাধীনতা আন্দোলনের পথ সুগম করেছে। তিনি বলেন, আজও সর্বক্ষেত্রে বাংলার পূর্ণাঙ্গ প্রচলন নিশ্চিত করতে সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন যুগ্ম সম্পাদক সানাউল্লাহ ও মোঃ ওবায়দুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক ইদি আমিন এপোলো, মোঃ মাসুম বিশ্বাস, মোঃ আজহার আলী, আব্দুল মান্নান ভূঁইয়া,মোঃ ইউনুস আলী, মোঃ হেকমত আলী, মাসুদ পারভেজ, মোঃ আজিজ প্রধান , এস এম মনিরুজ্জামান,কোহিনুর বেগমসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ ও সদস্যরা।

অনুষ্ঠানের শেষপর্যায়ে ভাষা শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। নেতৃবৃন্দ বলেন, ভাষা শহীদদের রক্তঋণ কখনো শোধ হবার নয়; তাঁদের আদর্শ ও আত্মত্যাগের চেতনাকে ধারণ করেই এগিয়ে যাবে জাতি।