Dhaka ০৪:৪৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ

পবিত্রতার ঠিকানায় যখন নরপিশাচ: সেনবাগে নিজ মেয়েকে দুই বছর ধরে কুপ্রস্তাবের লজ্জিত ইতিহাস

পবিত্র রক্তের সম্পর্ক যেখানে নিরাপদ আশ্রয়ের প্রতীক হওয়ার কথা, সেখানে এক জন্মদাতা পিতাই যখন নরপিশাচের রূপ ধারণ করেন, তখন সমাজ ও সভ্যতার মুখে চুনকালি ছাড়া আর কী বা অবশিষ্ট থাকে! নোয়াখালীর সেনবাগে নিজের ১৮ বছর বয়সী তরুণী কন্যাকে দীর্ঘ দুই বছর ধরে কুপ্রস্তাব ও উত্ত্যক্ত করার এক ন্যক্কারজনক ও কলঙ্কজনক ঘটনা ঘটেছে। যে ঘটনা কেবল সেনবাগকেই নয়, পুরো বিবেকবান সমাজকে লজ্জা ও ধিক্কারে স্তব্ধ করে দিয়েছে।

​মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) রাতে উপজেলার ডুমুরুয়া ইউনিয়নের জিরুয়া গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত দিনমজুর আব্দুল লতিফের (৪২) এমন বিকৃত ও জঘন্য আচরণে চারদিকে এখন তীব্র ঘৃণা ও ধিক্কারের ঝড় বইছে।

আরও পড়ুনঃ  টাঙ্গাইলের নাগরপুরে ৬'বছরের শিশু ধর্ষণ মামলার আসামী গ্রেফতার করেছে এসআরবি

​পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্র জানায়, একজন পিতা হয়ে নিজের ঘরের তরুণী মেয়ের প্রতি কুদৃষ্টি দেন দিনমজুর আব্দুল লতিফ। দীর্ঘ দুই বছর ধরে নিজের সন্তানের সম্ভ্রমহানির এমন ঘৃণ্য অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি। নিরুপায় হয়ে এবং সহ্যসীমা ছাড়িয়ে যাওয়ায় অবশেষে মেয়েটি তার চাচা ও জ্যাঠাদের কাছে এই অমানবিক নির্যাতনের কথা খুলে বলেন। একটি পরিবারের এমন অবক্ষয় ও পাপাচার শুনলে যে কারও মাথা লজ্জায় অবনত হয়ে আসে।

আরও পড়ুনঃ  নেচার পালস প্রকল্পের আওতায় বরগুনায় CEA ও PGI বিষয়ে সক্ষমতা বৃদ্ধি করল বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি

​পরিবারের পক্ষ থেকে বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর মঙ্গলবার রাতে ভুক্তভোগীর বাড়িতে স্থানীয়ভাবে এক সালিশ বৈঠক বসে। স্থানীয় প্রভাবশালী ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে গঠিত জুরি বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অভিযুক্ত পিতাকে প্রকাশ্যে ৩৩টি বেত্রাঘাত করা হয়। একই সঙ্গে তার গলায় পরানো হয় জুতার মালা এবং নাকে খত দেওয়ানো হয়।

​ডুমুরুয়া ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক যুগ্ম-আহ্বায়ক মজিবুল হক টিটু জানান, মেয়ের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে পিতাকে ডেকে এনে জুরি বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এই শাস্তি কার্যকর করা হয়েছে।

​পিতার এমন বিকৃত মানসিকতা এবং সমাজের অবক্ষয় নিয়ে এখন চারদিকে কেবলই ধিক্কার আর ধিক্কার। যে সমাজ ও পরিবারে অভিভাবকই নরপশু হয়ে ওঠে, সে সমাজ কতটা বিপন্ন—এই ঘটনাই তার জ্বলন্ত প্রমাণ।

আরও পড়ুনঃ  নাগরপুরে ফ্যামিলি কার্ড তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করেন এমপি লাভলু

​অন্যদিকে, বিচারবহির্ভূতভাবে এভাবে সালিশ বসিয়ে শারীরিক শাস্তি দেওয়ার বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন সচেতন নাগরিক সমাজ। তারা বলছেন, লম্পট পিতার যেমন দৃষ্টান্তমূলক বিচার হওয়া উচিত, তেমনি আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতাও কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

​এ বিষয়ে সেনবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রহিম সরকার বলেন, “ঘটনাটি আমরা গুরুত্বের সাথে শুনেছি। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং সুনির্দিষ্ট আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

মাদক ছেড়ে স্কাউটিং করি: ডিমলায় ১৩তম উপজেলা স্কাউট সমাবেশ সম্পন্ন

পবিত্রতার ঠিকানায় যখন নরপিশাচ: সেনবাগে নিজ মেয়েকে দুই বছর ধরে কুপ্রস্তাবের লজ্জিত ইতিহাস

আপডেটের সময়: ০৭:০৭:০৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬

পবিত্র রক্তের সম্পর্ক যেখানে নিরাপদ আশ্রয়ের প্রতীক হওয়ার কথা, সেখানে এক জন্মদাতা পিতাই যখন নরপিশাচের রূপ ধারণ করেন, তখন সমাজ ও সভ্যতার মুখে চুনকালি ছাড়া আর কী বা অবশিষ্ট থাকে! নোয়াখালীর সেনবাগে নিজের ১৮ বছর বয়সী তরুণী কন্যাকে দীর্ঘ দুই বছর ধরে কুপ্রস্তাব ও উত্ত্যক্ত করার এক ন্যক্কারজনক ও কলঙ্কজনক ঘটনা ঘটেছে। যে ঘটনা কেবল সেনবাগকেই নয়, পুরো বিবেকবান সমাজকে লজ্জা ও ধিক্কারে স্তব্ধ করে দিয়েছে।

​মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) রাতে উপজেলার ডুমুরুয়া ইউনিয়নের জিরুয়া গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত দিনমজুর আব্দুল লতিফের (৪২) এমন বিকৃত ও জঘন্য আচরণে চারদিকে এখন তীব্র ঘৃণা ও ধিক্কারের ঝড় বইছে।

আরও পড়ুনঃ  নাগরপুরে ফ্যামিলি কার্ড তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করেন এমপি লাভলু

​পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্র জানায়, একজন পিতা হয়ে নিজের ঘরের তরুণী মেয়ের প্রতি কুদৃষ্টি দেন দিনমজুর আব্দুল লতিফ। দীর্ঘ দুই বছর ধরে নিজের সন্তানের সম্ভ্রমহানির এমন ঘৃণ্য অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি। নিরুপায় হয়ে এবং সহ্যসীমা ছাড়িয়ে যাওয়ায় অবশেষে মেয়েটি তার চাচা ও জ্যাঠাদের কাছে এই অমানবিক নির্যাতনের কথা খুলে বলেন। একটি পরিবারের এমন অবক্ষয় ও পাপাচার শুনলে যে কারও মাথা লজ্জায় অবনত হয়ে আসে।

আরও পড়ুনঃ  গাজীপুরে চাঁদা না পেয়ে পাইকারি মার্কেটে আগুন দেওয়ার হুমকি, গ্রেপ্তার ১

​পরিবারের পক্ষ থেকে বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর মঙ্গলবার রাতে ভুক্তভোগীর বাড়িতে স্থানীয়ভাবে এক সালিশ বৈঠক বসে। স্থানীয় প্রভাবশালী ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে গঠিত জুরি বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অভিযুক্ত পিতাকে প্রকাশ্যে ৩৩টি বেত্রাঘাত করা হয়। একই সঙ্গে তার গলায় পরানো হয় জুতার মালা এবং নাকে খত দেওয়ানো হয়।

​ডুমুরুয়া ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক যুগ্ম-আহ্বায়ক মজিবুল হক টিটু জানান, মেয়ের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে পিতাকে ডেকে এনে জুরি বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এই শাস্তি কার্যকর করা হয়েছে।

​পিতার এমন বিকৃত মানসিকতা এবং সমাজের অবক্ষয় নিয়ে এখন চারদিকে কেবলই ধিক্কার আর ধিক্কার। যে সমাজ ও পরিবারে অভিভাবকই নরপশু হয়ে ওঠে, সে সমাজ কতটা বিপন্ন—এই ঘটনাই তার জ্বলন্ত প্রমাণ।

আরও পড়ুনঃ  বরগুনায় ডিবির অভিযানে মাদকসহ গ্রেপ্তার ৫, হানিট্র্যাপ চক্রের ২ সদস্য আটক

​অন্যদিকে, বিচারবহির্ভূতভাবে এভাবে সালিশ বসিয়ে শারীরিক শাস্তি দেওয়ার বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন সচেতন নাগরিক সমাজ। তারা বলছেন, লম্পট পিতার যেমন দৃষ্টান্তমূলক বিচার হওয়া উচিত, তেমনি আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতাও কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

​এ বিষয়ে সেনবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রহিম সরকার বলেন, “ঘটনাটি আমরা গুরুত্বের সাথে শুনেছি। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং সুনির্দিষ্ট আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”