
শীতের মৃদু হাওয়া আর কুয়াশার চাদর জড়ানোর আগেই শিবচরের প্রকৃতি সেজেছে এক অন্যরকম রূপমাধুর্য নিয়ে। এখানকার বিভিন্ন বাগানের গাছে গাছে এখন থৈ থৈ করছে হালকা হলুদ আর সাদাটে রঙের ছোট ছোট বরই ফুল। বাতাসের দোলায় সেই ফুলগুলো যেমন নেচে বেড়াচ্ছে, ঠিক তেমনি দোল খাচ্ছে স্থানীয় চাষিদের বুকভরা রঙিন স্বপ্ন। শীতের সুস্বাদু ও আগাম ফল হিসেবে বাজারে নিজের অবস্থান পাকা করতে এখন দিনরাত বরই বাগানের পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। অনুকূল আবহাওয়া ও যথাযথ ব্যবস্থাপনার কারণে চলতি মৌসুমে বরইয়ের বাম্পার ফলনের জোরালো সম্ভাবনা দেখছেন তারা।
সরেজমিনে মাদারীপুর জেলার শিবচর উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বাউকুল, আপেল কুল, ভারত সুন্দরী ও বলসুন্দরীসহ আধুনিক নানা জাতের বরই গাছে থোকা থোকা ফুলের সমারোহ। চারপাশের পরিবেশ মুখরিত হয়ে উঠেছে মৌমাছির গুঞ্জন আর বরই ফুলের মিষ্টি সুবাসে। সাধারণত সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসজুড়ে বরই গাছে ফুল আসার এই প্রক্রিয়া শুরু হয় এবং শীতের মাঝামাঝি সময়ে ফল পরিপক্ব হয়ে বাজারে বিক্রির উপযোগী হয়। বর্তমান এই ফুল আসা ও কুঁড়ি ধরার পর্যায়টিই বরই চাষের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়।
”বিগত বছরগুলোর তুলনায় এবার গাছে ফুলের পরিমাণ অনেক ভালো এবং রোগবালাইয়ের প্রকোপও বেশ কম। যদি আবহাওয়া এভাবেই অনুকূলে থাকে, তবে আশা করছি এবার কয়েক লাখ টাকার বরই বিক্রি করতে পারব।” বলছিলেন সূর্য মাদবর, স্থানীয় সফল চাষি।
উপজেলার ঠাকুর বাজার এলাকার আরেক উদ্যমী কুল চাষি শাহিন মিয়া জানান, তাঁর প্রায় ৪ বিঘা জমির একটি বড় কুল বাগান রয়েছে। বর্তমানে গাছের প্রতিটি ডালে প্রচুর পরিমাণে ফুল এসেছে। আবহাওয়া যদি শেষ পর্যন্ত অনুকূলে থাকে, তবে গতবারের চেয়ে অনেক বেশি ফলন পাওয়া যাবে বলে তিনি আশাবাদী।
শিবচর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আলিমুজ্জামান খান জানান, বরই চাষে অন্যান্য ফসলের তুলনায় উৎপাদন খরচ তুলনামূলক কম এবং লাভ বেশি। আর এ কারণেই দিন দিন এলাকার বেকার যুবকেরা বরই চাষের দিকে ঝুঁকছেন, যা গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে। কৃষকদের এই প্রচেষ্টাকে সফল করতে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে নিয়মিত পরামর্শ, পরিচর্যা ও প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে, যাতে তারা সর্বোচ্চ ফলন ঘরে তুলতে পারেন।
প্রকৃতির এই রূপালী আবহ যদি শেষ পর্যন্ত বজায় থাকে এবং বাজারে যদি বরইয়ের সন্তোষজনক দাম পাওয়া যায়, তবে শিবচরের এই পরিশ্রমী চাষিদের রঙিন স্বপ্ন আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই বাস্তবে রূপ নেবে—এমনটাই প্রত্যাশা সংশ্লিষ্ট সকলের।

মাসুম হাওলাদার,মাদারীপুর প্রতিনিধি : 


















