Dhaka ০৬:৩৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
রাজস্থলীতে জমি জমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে প্রাণনাশের উদ্দেশ্যে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে আহত শিবচরে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত ৮৫ শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা, সম্মাননা পেল ২১ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান টাঙ্গাইলে মরহুম ফরিদ সিকদার সৃতি ফুটবল ফুটবল টুর্নামেন্ট ২০২৬ আয়োজিত শিবচরে বিডি ক্লিনের পরিচ্ছন্নতা অভিযান নাগরপুর বাজারে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের পাশে জামায়াত নেতা ডা.  আব্দুল হামিদ নাগরপুরে ১২০’পিচ ইয়াবাসহ ২জন ব‍্যবসায়ী গ্রেফতার ১১’দলের লং মার্চ টাঙ্গাইলে সভাস্থল পরিদর্শন করলেন কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ বাহুবল থেকে সিএনজিসহ নিখোঁজের দুই দিন পর তুহিন মিয়ার লাশ নবীগঞ্জ থেকে উদ্ধার সেনবাগে পুলিশের ৭ চেকপোস্ট, কড়া নজরদারি বাজারে অগ্নিকাণ্ডে ৩’দোকানে সোয়া কোটি টাকার ক্ষতি

টাঙ্গাইলে কৃষকের হাতে ‘কৃষক কার্ড’-প্রধানমন্ত্রীর হাত ধরে নতুন দিগন্তের সূচনা

দেশের কৃষি ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক, স্বচ্ছ ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে কৃষকদের জন্য চালু করা হয়েছে বহুল প্রত্যাশিত ‘কৃষক কার্ড’। এর উদ্বোধনের মাধ্যমে কৃষি খাতে নতুন এক যুগের সূচনা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

আজ ১৪ এপ্রিল ২০২৬ রোজ মঙ্গলবার টাঙ্গাইলে আয়োজিত এক বৃহৎ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে কৃষকদের হাতে এই কার্ড তুলে দেন।

এ সময় তিনি বলেন- বাংলাদেশের প্রাণ হলো কৃষক। কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে। তাই কৃষকদের জীবনমান উন্নয়ন ও তাদের সকল সুবিধা নিশ্চিত করতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন- কৃষক কার্ডের মাধ্যমে দেশের কৃষকদের একটি নির্ভুল ডাটাবেজ তৈরি হবে, যা ভবিষ্যতে কৃষি পরিকল্পনা গ্রহণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এই কার্ড ব্যবহার করে কৃষকরা সহজেই সার, বীজ, ভর্তুকি, কৃষি ঋণসহ বিভিন্ন সরকারি সহায়তা পেতে পারবেন।

আরও পড়ুনঃ  রাজস্থলীতে জমি জমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে প্রাণনাশের উদ্দেশ্যে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে আহত

প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন- এতদিন অনেক কৃষক বিভিন্ন জটিলতার কারণে সরকারি সুবিধা থেকে বঞ্চিত হতেন। কিন্তু এখন এই কার্ডের মাধ্যমে সেই সমস্যা দূর হবে এবং প্রকৃত কৃষকরাই সরাসরি উপকৃত হবেন। এতে করে দুর্নীতি ও অনিয়ম কমে আসবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানে কৃষিমন্ত্রী আমিন উর রশিদ বলেন- এই কৃষক কার্ড চালুর মাধ্যমে দেশের কৃষকদের একটি একক পরিচয় নিশ্চিত হলো। এখন থেকে কোনো মধ্যস্বত্বভোগী ছাড়াই কৃষকরা সরাসরি সরকারি সহায়তা পাবেন।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী বলেন- খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কৃষকদের উৎপাদন বাড়ানো জরুরি। কৃষক কার্ডের মাধ্যমে কৃষকদের কাছে প্রয়োজনীয় সহায়তা দ্রুত পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে, যা খাদ্য উৎপাদনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এর আগে কোন সরকার এধরনের পদক্ষেপ নেয়নি।

আরও পড়ুনঃ  টাঙ্গাইলে মরহুম ফরিদ সিকদার সৃতি ফুটবল ফুটবল টুর্নামেন্ট ২০২৬ আয়োজিত

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু  বলেন- এই উদ্যোগ শুধু ফসল উৎপাদন নয়, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতেও ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে। ভবিষ্যতে এই কার্ডের আওতায় সকল খাতের কৃষকদের অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

অনুষ্ঠানে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি,ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম, মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রী আহমেদ আজম খান সহ স্থানীয় সকল সংসদ সদস্য, প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

পুরো অনুষ্ঠানস্থল ছিল উৎসবমুখর, যেখানে বিপুল সংখ্যক কৃষকের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।

বক্তারা বলেন- কৃষক কার্ড চালুর মাধ্যমে কৃষি খাতে ডিজিটাল রূপান্তরের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ সম্পন্ন হলো।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত কৃষকরা সরকারের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানান।

তারা বলেন-আগে সরকারি সহায়তা পেতে নানা ধরনের ভোগান্তির শিকার হতে হতো। এখন এই কার্ডের মাধ্যমে সহজেই সুবিধা পাওয়া যাবে, যা তাদের কৃষিকাজে নতুন উদ্দীপনা যোগাবে।

আরও পড়ুনঃ  বিজয়নগরে ৪০ কেজি ভারতীয় গাঁজা আটক, পালিয়ে গেল পাচারকারীরা

কৃষক কার্ড পাওয়া কৃষক কায়সার বলেন- আমরা অনেক সময় সরকারি সহায়তা পেতে দৌড়ঝাঁপ করতে হতো। এখন এই কৃষক কার্ডের মাধ্যমে সহজেই সব সুবিধা পাবো বলে আশা করছি। এতে আমাদের কাজ আরও সহজ হবে।

আরেকজন কৃষানী জুলেখা বেগম বলেন- এই উদ্যোগ আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আগে অনেক ক্ষেত্রে আমরা বঞ্চিত হতাম, কিন্তু এখন সরাসরি সরকারের সহায়তা পাওয়া যাবে। এতে কৃষিকাজে আগ্রহ আরও বাড়বে।

কৃষক কার্ড উদ্বোধন অনুষ্ঠান শেষে টাঙ্গাইল শহরের শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে কৃষক মেলা পরিদর্শন করে উদ্বোধন শেষে মজলুম জননেতা মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর মাজার জিয়ারত করে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হোন।

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

রাজস্থলীতে জমি জমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে প্রাণনাশের উদ্দেশ্যে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে আহত

টাঙ্গাইলে কৃষকের হাতে ‘কৃষক কার্ড’-প্রধানমন্ত্রীর হাত ধরে নতুন দিগন্তের সূচনা

আপডেটের সময়: ০১:১৭:৩২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬

দেশের কৃষি ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক, স্বচ্ছ ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে কৃষকদের জন্য চালু করা হয়েছে বহুল প্রত্যাশিত ‘কৃষক কার্ড’। এর উদ্বোধনের মাধ্যমে কৃষি খাতে নতুন এক যুগের সূচনা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

আজ ১৪ এপ্রিল ২০২৬ রোজ মঙ্গলবার টাঙ্গাইলে আয়োজিত এক বৃহৎ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে কৃষকদের হাতে এই কার্ড তুলে দেন।

এ সময় তিনি বলেন- বাংলাদেশের প্রাণ হলো কৃষক। কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে। তাই কৃষকদের জীবনমান উন্নয়ন ও তাদের সকল সুবিধা নিশ্চিত করতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন- কৃষক কার্ডের মাধ্যমে দেশের কৃষকদের একটি নির্ভুল ডাটাবেজ তৈরি হবে, যা ভবিষ্যতে কৃষি পরিকল্পনা গ্রহণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এই কার্ড ব্যবহার করে কৃষকরা সহজেই সার, বীজ, ভর্তুকি, কৃষি ঋণসহ বিভিন্ন সরকারি সহায়তা পেতে পারবেন।

আরও পড়ুনঃ  সেনবাগে পুলিশের ৭ চেকপোস্ট, কড়া নজরদারি

প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন- এতদিন অনেক কৃষক বিভিন্ন জটিলতার কারণে সরকারি সুবিধা থেকে বঞ্চিত হতেন। কিন্তু এখন এই কার্ডের মাধ্যমে সেই সমস্যা দূর হবে এবং প্রকৃত কৃষকরাই সরাসরি উপকৃত হবেন। এতে করে দুর্নীতি ও অনিয়ম কমে আসবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানে কৃষিমন্ত্রী আমিন উর রশিদ বলেন- এই কৃষক কার্ড চালুর মাধ্যমে দেশের কৃষকদের একটি একক পরিচয় নিশ্চিত হলো। এখন থেকে কোনো মধ্যস্বত্বভোগী ছাড়াই কৃষকরা সরাসরি সরকারি সহায়তা পাবেন।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী বলেন- খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কৃষকদের উৎপাদন বাড়ানো জরুরি। কৃষক কার্ডের মাধ্যমে কৃষকদের কাছে প্রয়োজনীয় সহায়তা দ্রুত পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে, যা খাদ্য উৎপাদনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এর আগে কোন সরকার এধরনের পদক্ষেপ নেয়নি।

আরও পড়ুনঃ  বাহুবলে মাদক সেবন করে এলাকায় হট্টগোল, যুবকের ৭ মাসের কারাদণ্ড

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু  বলেন- এই উদ্যোগ শুধু ফসল উৎপাদন নয়, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতেও ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে। ভবিষ্যতে এই কার্ডের আওতায় সকল খাতের কৃষকদের অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

অনুষ্ঠানে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি,ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম, মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রী আহমেদ আজম খান সহ স্থানীয় সকল সংসদ সদস্য, প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

পুরো অনুষ্ঠানস্থল ছিল উৎসবমুখর, যেখানে বিপুল সংখ্যক কৃষকের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।

বক্তারা বলেন- কৃষক কার্ড চালুর মাধ্যমে কৃষি খাতে ডিজিটাল রূপান্তরের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ সম্পন্ন হলো।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত কৃষকরা সরকারের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানান।

তারা বলেন-আগে সরকারি সহায়তা পেতে নানা ধরনের ভোগান্তির শিকার হতে হতো। এখন এই কার্ডের মাধ্যমে সহজেই সুবিধা পাওয়া যাবে, যা তাদের কৃষিকাজে নতুন উদ্দীপনা যোগাবে।

আরও পড়ুনঃ  বাহুবল থেকে সিএনজিসহ নিখোঁজের দুই দিন পর তুহিন মিয়ার লাশ নবীগঞ্জ থেকে উদ্ধার

কৃষক কার্ড পাওয়া কৃষক কায়সার বলেন- আমরা অনেক সময় সরকারি সহায়তা পেতে দৌড়ঝাঁপ করতে হতো। এখন এই কৃষক কার্ডের মাধ্যমে সহজেই সব সুবিধা পাবো বলে আশা করছি। এতে আমাদের কাজ আরও সহজ হবে।

আরেকজন কৃষানী জুলেখা বেগম বলেন- এই উদ্যোগ আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আগে অনেক ক্ষেত্রে আমরা বঞ্চিত হতাম, কিন্তু এখন সরাসরি সরকারের সহায়তা পাওয়া যাবে। এতে কৃষিকাজে আগ্রহ আরও বাড়বে।

কৃষক কার্ড উদ্বোধন অনুষ্ঠান শেষে টাঙ্গাইল শহরের শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে কৃষক মেলা পরিদর্শন করে উদ্বোধন শেষে মজলুম জননেতা মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর মাজার জিয়ারত করে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হোন।