
নোয়াখালীর সেনবাগে এক বুক আশা আর ভালোবাসার সংসার নিমিষেই এক ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। বাড়ির পাশের খেত থেকে রান্নার জন্য একটু সবজি আনতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে চন্দ্রবানু (৪৮) নামের এক মায়ের। আর সেই বুকফাটা আর্তনাদের দৃশ্য সহ্য করতে না পেরে মাকে বাঁচাতে গিয়ে আজ মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে তাঁরই আদরের সন্তান (মেয়ে)।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার ৩ নম্বর ডুমুরিয়া ইউনিয়নের মতইন গ্রামের চীনা বাড়িতে এই হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত চন্দ্রবানু ওই গ্রামের আবদুল খালেক কালুর স্ত্রী।
স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, সোমবার দুপুরে রান্নার তাগিদে বাড়ির পাশের সবজি ক্ষেতে গিয়েছিলেন চন্দ্রবানু। কিন্তু কে জানত, অবুঝ সেই পথটুকুই তাঁর জীবনের শেষ পথ হবে!
অসাবধানতাবশত একটি সচল বৈদ্যুতিক তারের সংস্পর্শে এসে সেখানেই লুটিয়ে পড়েন তিনি। মায়ের সেই ছটফটানি আর আর্তচিৎকার চোখের সামনে সহ্য করতে পারেনি তাঁর তরুণী মেয়ে। মায়ের জীবন বাঁচাতে মুহূর্তের দ্বিধা না করে তিনি ছুটে যান মায়ের দিকে। কিন্তু হায়! নিয়তির কি নিষ্ঠুর পরিহাস—মাকেই জড়িয়ে ধরতে গিয়ে মেয়েটিও জড়িয়ে পড়েন সেই নির্মম বিদ্যুতের জালে। মুহূর্তের মধ্যে মা ও মেয়ে দুজনই নিথর হয়ে লুটিয়ে পড়েন মাটিতে।
বাড়ির লোকজনের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে চারপাশের বাতাস। দ্রুত তাঁদের উদ্ধার করে সেনবাগ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মা চন্দ্রবানুকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। আর জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে থাকা গুরুতর আহত মেয়েকে উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত নোয়াখালী জেলা সদর হাসপাতাল, মাইজদীতে রেফার্ড করা হয়। বর্তমানে সেখানে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছে মেয়েটি।
মায়ের নিথর দেহ আর হাসপাতালের বিছানায় মেয়ের জীবনের জন্য আকুতি—এই করুণ দৃশ্য এলাকার প্রতিটি মানুষের বুক ভেঙে চুরমার করে দিয়েছে। ছোট্ট এই গ্রামে এখন বইছে মাতমের সুর। চোখের জলে ভাসছেন স্বজন ও প্রতিবেশীরা।
সেনবাগ থানা পুলিশ জানিয়েছে, একটি তাজা প্রাণ ঝরে যাওয়ার এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

মোঃ মিজানুর রহমান সুমন, সেনবাগ (নোয়াখালী) প্রতিনিধি : 


















