
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার ৪ নং উত্তর ইউনিয়নের রামধনগর গ্রামের সৌদি প্রবাসী মোহাম্মদ শরীফ উদ্দিনের ছোট্ট ছেলে মোহাম্মদ আরাবি আজ জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। যে শিশুর হাসিতে একসময় মুখর ছিল পুরো পরিবার, সেই শিশুর অসহায় কান্না আজ ভারী করে তুলেছে বাবা-মায়ের বুক, আর তাদের প্রতিটি দিন কাটছে অনিশ্চয়তা ও উৎকণ্ঠায়।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, সৌদি প্রবাসী মোহাম্মদ শরীফ উদ্দিনের ঘরে জন্ম নেয় যমজ দুই পুত্রসন্তান। বড় ছেলের নাম রাখা হয় মোহাম্মদ আলভী, আর ছোট ছেলের নাম মোহাম্মদ আরাবি। দুই সন্তানের আগমনে আনন্দে ভরে উঠেছিল পরিবার। কিন্তু সেই সুখ বেশিদিন স্থায়ী হয়নি।
কিছুদিন পর ছোট্ট আরাবি অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরিবারের দাবি, চিকিৎসকরা পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর জানান, শিশুটির হৃদয়ে চারটি ছিদ্র ধরা পড়েছে এবং তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত ভারতে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। সেই থেকে দীর্ঘদিন ধরে ধার-দেনা, জমিজমা বিক্রি এবং আত্মীয়-স্বজনের সহযোগিতায় চিকিৎসা চালিয়ে আসছে পরিবার।
এর মধ্যেই নেমে আসে আরেকটি দুর্ভাগ্য। জীবিকার আশায় চার বছর আগে সৌদি আরবে পাড়ি জমান বাবা মোহাম্মদ শরীফ উদ্দিন। কিন্তু পরিবারের অভিযোগ, বিদেশে গিয়ে তিনি দালাল চক্রের প্রতারণার শিকার হন। নিজের স্বপ্ন ভেঙে যাওয়ার পাশাপাশি অসুস্থ সন্তানের চিকিৎসার ব্যয় বহন করাও তার পক্ষে প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
অসুস্থ ছোট্ট অবুঝ শিশু মোঃ আরাবির মা মোছাম্মদ তাসলিমা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন,
“আমার সন্তানকে বাঁচাতে আমাদের যা কিছু ছিল সব বিক্রি করেছি। জমিজমা পর্যন্ত বিক্রি করে চিকিৎসা চালিয়েছি। এখন আর আমাদের কোনো সামর্থ্য নেই। আমি শুধু চাই আমার সন্তান সুস্থ হয়ে আবার আমার কোলে ফিরে আসুক।
অসুস্থ ছোট্র শিশু মোহাম্মদ আরবির পরিবারের পক্ষ থেকে তাই দেশ এবং প্রবাসী ভাই-বোনদের কাছে হাতজোড় করে অনুরোধ করছি—আপনাদের সামান্য সহযোগিতাও আমার সন্তানের জীবন বাঁচাতে পারে।”
তিনি আরও বলেন,
“আমি কখনো ভাবিনি নিজের সন্তানের জীবন বাঁচানোর জন্য মানুষের দ্বারে দ্বারে সাহায্য চাইতে হবে অত্যন্ত দুঃখের বিষয় ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস আজ আমি আমার সন্তানের জন্য আপনাদের কাছে ভিক্ষা চাচ্ছি আপনারা আমার সন্তানকে আপনাদের কিছু অর্থ দিয়ে আমার সন্তানকে বাঁচান,আমি আমার সন্তানকে হারিয়ে বাঁচতে পারব না তাই আপনাদের কাছে অনুরোধ, আজ বাধ্য হয়ে আপনাদের কাছে হাত বাড়াতে হয়েছে, আপনারা চাইলে আমার সন্তানকে বাঁচাতে পারেন,
একজন প্রবাসীর স্ত্রী হিসেবে আমি জানি প্রবাসীদের কষ্ট কতটা কঠিন। তাই দেশ-বিদেশে থাকা সকলের কাছে আমার আকুল আবেদন, আপনারা যার যতটুকু সামর্থ্য আছে, দয়া করে আমার সন্তানের পাশে দাঁড়ান।”
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন ও এলাকাবাসীর সহযোগিতায় কিছু অর্থ সংগ্রহ করে এখন পর্যন্ত চিকিৎসা চালানো হয়েছে। তবে সামনে আরও বড় অঙ্কের অর্থের প্রয়োজন। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, উন্নত চিকিৎসার জন্য আনুমানিক ৪ থেকে ৫ লাখ টাকা প্রয়োজন হতে পারে।
একটি শিশুর হাসি ফিরিয়ে দিতে হয়তো অনেক বড় কিছু লাগে না—লাগে শুধু একটু মানবিকতা, একটু সহমর্মিতা। যে শিশুটি এখনও পৃথিবীটাকে ভালোভাবে চিনেই উঠতে পারেনি, সে আজ মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে। সমাজের বিত্তবান, হৃদয়বান মানুষ এবং দেশ-বিদেশে অবস্থানরত সকলের আন্তরিক সহযোগিতা পেলে হয়তো ছোট্ট আরাবি আবারও সুস্থ হয়ে ফিরে পাবে তার শৈশব।
সহায়তা করতে যোগাযোগ (পরিবারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী):
বিকাশ ও যোগাযোগ নম্বর: ০১৩৩১-৫২৫৮৩৫
মানুষ মানুষের জন্য। আপনার সামান্য সহযোগিতাই হয়তো একটি নিষ্পাপ শিশুর জীবন বাঁচানোর শেষ আশার আলো হয়ে উঠতে পারে।
মোঃ শামীম উসমান গণী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধিঃ 


















