নীলফামারীর ডিমলায় চৈত্রের বৈপরীত্য: রাতে কুয়াশা, দিনে প্রচণ্ড গরম

ডিমলা (নীলফামারী): চৈত্র মাসের শেষ প্রান্তে এসে নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় প্রকৃতির বৈপরীত্য স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে। একদিকে রাতভর কুয়াশায় ঢাকা থাকছে এলাকা, অন্যদিকে দিনের বেলা প্রখর রোদের তাপে অতিষ্ঠ হচ্ছেন মানুষ।

গত কয়েকদিন ধরে ভোরের দিকে তাপমাত্রা তুলনামূলকভাবে কম থাকলেও সকাল গড়াতেই তাপদাহ শুরু হচ্ছে। দুপুরে তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি পৌঁছে যাচ্ছে, যা স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, এমন বৈচিত্র্যময় আবহাওয়া ফসলের উপরও প্রভাব ফেলছে।

ডিমলার কৃষকরা জানান, সকালে ঘন কুয়াশার কারণে বোরো ধানের ক্ষেতে শিশির জমছে, যা কিছু ক্ষেত্রে উপকারী হলেও, দুপুরের প্রচণ্ড গরমের কারণে গাছের বৃদ্ধিতে বিরূপ প্রভাব ফেলছে। তাছাড়া, টমেটো, মরিচ, ও সবজির জমিতেও অতিরিক্ত গরমের কারণে ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।

এদিকে, এই আবহাওয়ায় সবচেয়ে বেশি ভুগছেন দিনমজুর ও শ্রমজীবী মানুষ। প্রচণ্ড গরমে মাঠে কাজ করা কষ্টকর হয়ে উঠছে। স্থানীয়রা বলছেন, এই অনিশ্চিত আবহাওয়া চলতে থাকলে রোগবালাইও বাড়তে পারে, বিশেষ করে ডায়রিয়া, জ্বর ও ত্বকের সমস্যার আশঙ্কা রয়েছে।

ডিমলা আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের এক কর্মকর্তা জানান, “এটি মৌসুমি পরিবর্তনের প্রভাব। রাতের দিকে বাতাসের আর্দ্রতা বেশি থাকায় কুয়াশা দেখা দিচ্ছে, তবে দিনের তাপমাত্রা ক্রমাগত বাড়ছে, যা গ্রীষ্মের আগমনের সংকেত দিচ্ছে।”

স্থানীয় চিকিৎসকেরা পরামর্শ দিচ্ছেন, এ সময়ে বেশি করে পানি পান করা, খোলা জায়গায় বেশি সময় না থাকা এবং প্রচণ্ড গরমে হিটস্ট্রোক এড়াতে সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন।

ডিমলার এই চৈত্রের বৈপরীত্য কেমন প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে উদ্বিগ্ন কৃষক ও শ্রমজীবী মানুষ। তবে আবহাওয়া পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার চেষ্টাই এখন একমাত্র উপায় বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

ডেপুটি এ্যাটর্নি জেনারেল এডভোকেট বাকির নবীনগর নিউ মডেল প্রেসক্লাবের সদস্যদের সাথে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময়

নীলফামারীর ডিমলায় চৈত্রের বৈপরীত্য: রাতে কুয়াশা, দিনে প্রচণ্ড গরম

Update Time : 12:17:08 pm, Wednesday, 2 April 2025

ডিমলা (নীলফামারী): চৈত্র মাসের শেষ প্রান্তে এসে নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় প্রকৃতির বৈপরীত্য স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে। একদিকে রাতভর কুয়াশায় ঢাকা থাকছে এলাকা, অন্যদিকে দিনের বেলা প্রখর রোদের তাপে অতিষ্ঠ হচ্ছেন মানুষ।

গত কয়েকদিন ধরে ভোরের দিকে তাপমাত্রা তুলনামূলকভাবে কম থাকলেও সকাল গড়াতেই তাপদাহ শুরু হচ্ছে। দুপুরে তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি পৌঁছে যাচ্ছে, যা স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, এমন বৈচিত্র্যময় আবহাওয়া ফসলের উপরও প্রভাব ফেলছে।

ডিমলার কৃষকরা জানান, সকালে ঘন কুয়াশার কারণে বোরো ধানের ক্ষেতে শিশির জমছে, যা কিছু ক্ষেত্রে উপকারী হলেও, দুপুরের প্রচণ্ড গরমের কারণে গাছের বৃদ্ধিতে বিরূপ প্রভাব ফেলছে। তাছাড়া, টমেটো, মরিচ, ও সবজির জমিতেও অতিরিক্ত গরমের কারণে ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।

এদিকে, এই আবহাওয়ায় সবচেয়ে বেশি ভুগছেন দিনমজুর ও শ্রমজীবী মানুষ। প্রচণ্ড গরমে মাঠে কাজ করা কষ্টকর হয়ে উঠছে। স্থানীয়রা বলছেন, এই অনিশ্চিত আবহাওয়া চলতে থাকলে রোগবালাইও বাড়তে পারে, বিশেষ করে ডায়রিয়া, জ্বর ও ত্বকের সমস্যার আশঙ্কা রয়েছে।

ডিমলা আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের এক কর্মকর্তা জানান, “এটি মৌসুমি পরিবর্তনের প্রভাব। রাতের দিকে বাতাসের আর্দ্রতা বেশি থাকায় কুয়াশা দেখা দিচ্ছে, তবে দিনের তাপমাত্রা ক্রমাগত বাড়ছে, যা গ্রীষ্মের আগমনের সংকেত দিচ্ছে।”

স্থানীয় চিকিৎসকেরা পরামর্শ দিচ্ছেন, এ সময়ে বেশি করে পানি পান করা, খোলা জায়গায় বেশি সময় না থাকা এবং প্রচণ্ড গরমে হিটস্ট্রোক এড়াতে সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন।

ডিমলার এই চৈত্রের বৈপরীত্য কেমন প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে উদ্বিগ্ন কৃষক ও শ্রমজীবী মানুষ। তবে আবহাওয়া পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার চেষ্টাই এখন একমাত্র উপায় বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।