
যাকাতের মতো ইসলামের একটি মৌলিক ও ফরজ ইবাদতকে হেয় প্রতিপন্ন করে চাঁদাবাজিকে তুলনামূলক উত্তম হিসেবে উপস্থাপন করে দেওয়া বিএনপি নেত্রী নিলোফার চৌধুরী মনির ধৃষ্টতাপূর্ণ বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির।
শনিবার (২’মে ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ) এক যৌথ বিবৃতিতে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম ও সেক্রেটারি জেনারেল সিবাগাতুল্লাহ এই প্রতিবাদ জানান।
বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, “সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশনের টকশোতে বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি নিলোফার চৌধুরী মনি যাকাতের মতো একটি পবিত্র ফরজ ইবাদতকে অত্যন্ত তুচ্ছতাচ্ছিল্যের সঙ্গে উপস্থাপন করে বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি সমাজ থেকে চাঁদাবাজি নির্মূলের কথা না বলে, উল্টো একে যাকাতের চেয়ে উত্তম হিসেবে উল্লেখ করেছেন; যা কেবল অগ্রহণযোগ্যই নয়, বরং কোটি কোটি মুসলমানের ধর্মীয় অনুভূতিতে চরম আঘাতের শামিল। যাকাত ইসলামের পঞ্চস্তম্ভের একটি, এবং এটি অভাবীদের প্রাপ্য অধিকার ও সামাজিক বৈষম্য দূর করার একটি ঐশ্বরিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা। অন্যদিকে, চাঁদাবাজি একটি জঘন্য অপরাধ, যা জুলুম ও অন্যায়ের নামান্তর। ইসলামের পবিত্র বিধানকে এমন একটি অপরাধের সঙ্গে তুলনা করা চরম মূর্খতা ও ধৃষ্টতা ছাড়া আর কিছুই নয়।”
নেতৃবৃন্দ আরও উল্লেখ করেন, “৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের পর জনগণের প্রত্যাশা ছিল, দেশ সকল প্রকার জুলুম ও চাঁদাবাজি থেকে মুক্ত হবে। কিন্তু আমরা উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছি যে, পূর্ববর্তী ফ্যাসিস্ট সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত চাঁদাবাজির বিভিন্ন ক্ষেত্র এখন কেবল বিএনপির মাধ্যমে হাতবদল হয়েছে। যখন রাজনৈতিক দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে প্রকাশ্যে চাঁদাবাজি-লুটপাটের পক্ষে বৈধতা উৎপাদন করা হয় এবং একে ধর্মীয় বিধানের ঊর্ধ্বে স্থান দেওয়া হয়, তখন তা দেশপ্রেমিক জনতাকে গভীরভাবে শঙ্কিত করে। এই বক্তব্য স্পষ্ট করে দেয় যে, জনআকাঙ্ক্ষা পূরণের পরিবর্তে একটি গোষ্ঠী চাঁদাবাজিকে রাজনৈতিক সংস্কৃতি হিসেবে জায়েজ করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।”
পরিশেষে নেতৃবৃন্দ বলেন, “বাংলাদেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেওয়া একটি দণ্ডনীয় ফৌজদারি অপরাধ। আমরা নিলোফার চৌধুরী মনিকে তাঁর এই চরম দায়িত্বজ্ঞানহীন ও ইসলামবিদ্বেষী বক্তব্য অনতিবিলম্বে প্রত্যাহার করে জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। একইসাথে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলকে এই ধৃষ্টতাপূর্ণ বক্তব্যের বিষয়ে তাদের অবস্থান পরিষ্কার করতে হবে। জনগণের ধর্মীয় ও নৈতিক মূল্যবোধ রক্ষায় আমরা প্রশাসনের নিকট এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি।
মোঃ হালিম মিয়া, বিশেষ প্রতিনিধি : 








