
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার সিঙ্গারবিল ইউনিয়নের কাশিনগর এলাকার এক ছোট্ট শিশুর জীবনে নেমে এসেছে কঠিন এক অন্ধকার। চোখে টিউমার থেকে শুরু হওয়া জটিল রোগ ধীরে ধীরে রূপ নিয়েছে ক্যান্সারে, যা এখন ছড়িয়ে পড়েছে তার মস্তিষ্কেও। অর্থাভাবে চিকিৎসা বন্ধ হওয়ার উপক্রম—জীবনের শুরুতেই মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছে শিশু মোহাম্মদ সাইফ ইসলাম।
যে বয়সে একটি শিশুর দৌড়ঝাঁপ, হাসি আর স্বপ্নে ভরপুর থাকার কথা, সেই বয়সেই সাইফ লড়ছে এক নির্মম বাস্তবতার বিরুদ্ধে। তার অসহায় বাবা মোঃ সুমন মিয়া ইতোমধ্যে সন্তানের চিকিৎসার জন্য নিজের সামর্থ্যের সবটুকু ব্যয় করেছেন। কিন্তু বর্তমানে প্রায় ১৫ লক্ষ টাকার প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ব্যয় বহন করা তার পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
অসুস্থ শিশু সাইফ ইসলামের বাবা মোঃ সুমন মিয়া জানান আমি কখনো ভাবতেও পারিনি আমার সন্তানের জন্য বিভিন্ন মানুষের কাছে হাত বাড়িয়ে সাহায্য চাইতে হবে ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস আজ আমি নিরুপায় হয়ে আপনাদের মাঝে সাহায্য চাইতে হচ্ছে,তাই তিনি বাবা হয়ে দেশবাসীর কাছে সন্তানের জীবন বাঁচাতে আকুল আবেদন জানিয়েছেন।
এমন মর্মান্তিক সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে মানবিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করে এগিয়ে আসে স্থানীয় সামাজিক সংগঠন আল-আমানাহ যুব সংগঠন নলগড়িয়া। মানবিক দায়বদ্ধতা থেকে সংগঠনটির সদস্যরা ছুটে যান অসহায় শিশুটির বাড়িতে, পাশে দাঁড়ান তার পরিবারের।
শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) বিকেল ৫টায় কাশিনগর গ্রামে সংগঠনটির পক্ষ থেকে শিশু সাইফ ইসলামের চিকিৎসার জন্য নগদ ৭২ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়।
সংগঠনের সদস্যরা জানান, “এটি আমাদের সামান্য প্রয়াস। কিন্তু একটি শিশুর জীবনের এই কঠিন মুহূর্তে পাশে দাঁড়ানো আমাদের মানবিক দায়িত্ব। আমরা বিশ্বাস করি—মানুষ মানুষের জন্য। সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বড় বিপদও মোকাবিলা করা সম্ভব।”
এই মানবিক উদ্যোগে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরাও উপস্থিত থেকে সংগঠনটির কার্যক্রমে সমর্থন ও উৎসাহ প্রদান করেন, যা স্বেচ্ছাসেবীদের আরও অনুপ্রাণিত করেছে।
নলগড়িয়া আল-আমানাহ সংগঠনের পক্ষ থেকে মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করা হয়, যেন তিনি নিষ্পাপ শিশুটিকে দ্রুত সুস্থতা দান করেন এবং তার পরিবারকে এই কঠিন সময় মোকাবিলার শক্তি দেন।
সমাজের বিত্তবান ও সহানুভূতিশীল মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তারা বলেন, “আপনাদের সামান্য সহযোগিতাই একটি শিশুর জীবন বাঁচাতে পারে। আসুন, আমরা সবাই মিলে এই অসহায় শিশুটির পাশে দাঁড়াই।”
অন্যদিকে, শিশুটির বাবা মোঃ সুমন মিয়া কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমি আমার সন্তানকে বাঁচাতে আপনাদের কাছে প্রাণ ভিক্ষা চাই। আপনারা চাইলে আমার সন্তান বাঁচতে পারে। দয়া করে আপনারা আমার সন্তানকে বাঁচান।”
একটি শিশুর বেঁচে থাকার আকুতি—এ শুধু একটি পরিবারের নয়, এটি আমাদের সকলের মানবিকতার পরীক্ষাও। এখন দেখার বিষয়, সমাজের সামষ্টিক সহমর্মিতা কতটা শক্তভাবে এগিয়ে আসে এই ছোট্ট প্রাণটিকে বাঁচাতে।
মোঃ শামীম উসমান গনী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রতিনিধি: 



















