
মৌলভীবাজারে বহুল আলোচিত ‘অপহরণ নাটক’ মামলার অন্যতম আসামি নাজমা বেগম (৪২) জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর পুনরায় বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
পুলিশ ও মামলার সূত্রে জানা যায়, গত ২৯ মার্চ ২০২৬ তারিখে নাজমা বেগম ব্যাংকে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন। পরদিন ৩০ মার্চ তার জামাতা জুবায়ের মিয়া (২৬) মৌলভীবাজার সদর মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং-১৬৬১) করেন। পরে ঘটনাটি ‘অপহরণ’ হিসেবে প্রচার করে ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়।
তদন্তে বেরিয়ে আসে, নাজমা বেগম তার প্রেমিক মোঃ আবুল হোসেন (৩০)-এর সঙ্গে মিলে অপহরণের নাটক সাজিয়েছিলেন। কৌশলগতভাবে ২ হাজার টাকা বিকাশে পাঠানোর সময় পুলিশের অভিযান চালিয়ে চক্রটির অবস্থান শনাক্ত করা হয়। ৩ এপ্রিল সিলেট নগরীর হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে আবুল হোসেনকে আটক করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ইম্পেরিয়াল আবাসিক হোটেল থেকে নাজমা বেগমকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পরবর্তীতে যথাযথ আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয় এবং মামলাটি নিয়মিত মামলা (নং-০৪/৮৭) হিসেবে রুজু করা হয়।
এদিকে, জামিনে মুক্তির পর নাজমা বেগমের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসা, নারী পাচার, প্রবাসীদের টার্গেট করে প্রতারণা এবং এনজিও/সমিতির আড়ালে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানান, তিনি বিভিন্ন মোবাইল সিম ও ইমো অ্যাপ ব্যবহার করে প্রবাসীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রেমের ফাঁদে ফেলে অর্থ হাতিয়ে নেন। এমনকি কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট এলাকার এক প্রবাসীর কাছ থেকে কয়েক লক্ষ টাকা নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
এছাড়া স্থানীয়দের অভিযোগ, বিভিন্ন সমিতি ও এনজিওর সঙ্গে যুক্ত থেকে নারীদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করে তা আত্মসাৎ এবং চড়া সুদের ব্যবসার সঙ্গেও তার সম্পৃক্ততা রয়েছে।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে নাজমা বেগমের বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, উত্থাপিত অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত করা হলে একটি বড় ধরনের প্রতারণা চক্রের তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে। তারা দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
মোহাম্মদ আব্দুল ওয়াহিদ : 










