Dhaka ০৭:২৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ

বরগুনার আমতলীতে নবনির্মিত ৯ কোটি টাকার রাস্তায় ধ্বস ক্ষতিগ্রস্ত জনগন

  • মেজবাহ মাসুম :
  • আপডেটের সময়: ০২:৪৯:০৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬
  • ৭৪ সময় দেখুন

বরগুনার আমতলী এ কে সরকারি পাইলট হাইস্কুল থেকে তালুকদারহাট হয়ে কালীবাড়ী পর্যন্ত প্রায় পাঁচ কিলোমিটার সড়কের সংস্কার ও পুনর্নির্মাণ কাজ কিছুদিন আগে হয়েছে। শেষ হওয়ার কিছুদিনের মধ্যেই কালীবাড়ী এলাকায় প্রায় ২০০ ফুট অংশ খালে ধসে পড়ে। কোথাও সড়ক ৭ থেকে ৮ ফুট পর্যন্ত দেবে গেছে। সড়কের পাশে থাকা ১০ থেকে ১৫টি বড় রেইনট্রি ও মেহগনি গাছও শিকড়সহ খালে পড়ে যায়। ফলে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে দুই ইউনিয়নের মানুষের চলাচল।

গুরুত্বপূর্ণ একটি সড়ক সংস্কারে বিপুল সরকারি অর্থ ব্যয়ের পরও কাজ শেষ হওয়ার এক মাসের মধ্যেই বড় অংশ খালে ধসে পড়েছে। এতে শুধু সড়কের স্থায়িত্ব নিয়েই প্রশ্ন ওঠেনি, প্রশ্ন উঠেছে নির্মাণকাজের মান, কার্যাদেশ অনুযায়ী কাজ, তদারকি এবং ঠিকাদারি ব্যবস্থাপনা নিয়েও।

আরও পড়ুনঃ  গাজীপুরে চাঁদা না পেয়ে পাইকারি মার্কেটে আগুন দেওয়ার হুমকি, গ্রেপ্তার ১

এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে সড়কটির সংস্কার ও পুনর্নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। দরপত্রের মাধ্যমে রাজশাহীর ‘বরেন্দ্র কনস্ট্রাকশন’ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজটির কার্যাদেশ পায়।স্থানীয় পর্যায়ে অভিযোগ রয়েছে, মূল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে কাজটি সাব-কন্ট্রাক্টে নেন আমতলীর চাওড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও তৎকালীন উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আখতারুজ্জামান বাদল। সরকারি কাজ সাব-কন্ট্রাক্টে দেওয়া হয়ে থাকলে সেটি সংশ্লিষ্ট বিধি ও অনুমোদন অনুযায়ী হয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ধসে যাওয়া অংশের পাশে স্থানীয়রা বাঁশ ও লাল কাপড় দিয়ে সাময়িক নিরাপত্তাবেষ্টনী তৈরি করেছেন। তবে বিকল্প সড়ক না থাকায় মালবাহী ট্রাক, পিকআপ, অটোরিকশাসহ বিভিন্ন যানবাহন ঝুঁকি নিয়ে ওই সরু অংশ দিয়ে চলাচল করছে। এতে পথচারী ও যাত্রীদের মধ্যেও আতঙ্ক বিরাজ করছে।

আরও পড়ুনঃ  নগরকান্দায় সারের ডিলার নিয়োগের জেরে যুবদল নেতাকে হাতুড়িপেটা, আহত ৫

স্থানীয় লোকেরা বলেন, খালের তীব্র স্রোতে সড়কের নিচ থেকে মাটি সরে যাওয়ার কারণেই ধসের সৃষ্টি হয়েছে। সড়কের অবশিষ্ট অংশও যেকোনো সময় খালে বিলীন হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করেন তারা।

তালুকদারহাট বাজারের ইজারাদার সোহেল তালুকদার বলেন, ‘সড়কটি ধসে পড়ার অনেক দিন পার হলেও এখনো মেরামতের দৃশ্যমান উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে হলদিয়া ও চাওড়া ইউনিয়নের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়তে পারে।’

 

অটোরিকশাচালক আবুল কালাম বলেন, ‘সড়কের অংশটি খুবই সরু ও ঝুঁকিপূর্ণ। প্রতিদিন প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে গাড়ি চালাতে হচ্ছে। সামান্য অসাবধানতাতেই বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।’
একটি নতুন করে সংস্কার করা সড়কের বড় অংশ অল্প সময়ের মধ্যেই ধসে পড়ার ঘটনায় তাই শুধু পুনরায় মেরামত করাই যথেষ্ট নয়। সরকারি অর্থে বাস্তবায়িত প্রকল্পটির পুরো প্রক্রিয়া যাচাই করে প্রকৃত কারণ ও দায় নির্ধারণ করা জরুরি। একই সঙ্গে কার্যাদেশের সঙ্গে বাস্তব কাজের মিল, সাব-কন্ট্রাক্টের বৈধতা, নির্মাণসামগ্রীর মান, সড়কের ভিত্তি নির্মাণ এবং প্রকৌশলীদের তদারকি সবকিছু তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

আরও পড়ুনঃ  সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত এবং CARE Bangladesh এর প্রতিনিধির বরগুনার জাগোনারীর কার্যক্রম পরিদর্শন

এ ব্যপারে আমতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, বিষয়টি জানার পর সরেজমিনে পরিদর্শন করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উপজেলা প্রকৌশলীকে বলা হয়েছে।

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

নাগরপুরে ফ্যামিলি কার্ড তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করেন এমপি লাভলু

বরগুনার আমতলীতে নবনির্মিত ৯ কোটি টাকার রাস্তায় ধ্বস ক্ষতিগ্রস্ত জনগন

আপডেটের সময়: ০২:৪৯:০৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬

বরগুনার আমতলী এ কে সরকারি পাইলট হাইস্কুল থেকে তালুকদারহাট হয়ে কালীবাড়ী পর্যন্ত প্রায় পাঁচ কিলোমিটার সড়কের সংস্কার ও পুনর্নির্মাণ কাজ কিছুদিন আগে হয়েছে। শেষ হওয়ার কিছুদিনের মধ্যেই কালীবাড়ী এলাকায় প্রায় ২০০ ফুট অংশ খালে ধসে পড়ে। কোথাও সড়ক ৭ থেকে ৮ ফুট পর্যন্ত দেবে গেছে। সড়কের পাশে থাকা ১০ থেকে ১৫টি বড় রেইনট্রি ও মেহগনি গাছও শিকড়সহ খালে পড়ে যায়। ফলে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে দুই ইউনিয়নের মানুষের চলাচল।

গুরুত্বপূর্ণ একটি সড়ক সংস্কারে বিপুল সরকারি অর্থ ব্যয়ের পরও কাজ শেষ হওয়ার এক মাসের মধ্যেই বড় অংশ খালে ধসে পড়েছে। এতে শুধু সড়কের স্থায়িত্ব নিয়েই প্রশ্ন ওঠেনি, প্রশ্ন উঠেছে নির্মাণকাজের মান, কার্যাদেশ অনুযায়ী কাজ, তদারকি এবং ঠিকাদারি ব্যবস্থাপনা নিয়েও।

আরও পড়ুনঃ  নগরকান্দায় সারের ডিলার নিয়োগের জেরে যুবদল নেতাকে হাতুড়িপেটা, আহত ৫

এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে সড়কটির সংস্কার ও পুনর্নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। দরপত্রের মাধ্যমে রাজশাহীর ‘বরেন্দ্র কনস্ট্রাকশন’ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজটির কার্যাদেশ পায়।স্থানীয় পর্যায়ে অভিযোগ রয়েছে, মূল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে কাজটি সাব-কন্ট্রাক্টে নেন আমতলীর চাওড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও তৎকালীন উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আখতারুজ্জামান বাদল। সরকারি কাজ সাব-কন্ট্রাক্টে দেওয়া হয়ে থাকলে সেটি সংশ্লিষ্ট বিধি ও অনুমোদন অনুযায়ী হয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ধসে যাওয়া অংশের পাশে স্থানীয়রা বাঁশ ও লাল কাপড় দিয়ে সাময়িক নিরাপত্তাবেষ্টনী তৈরি করেছেন। তবে বিকল্প সড়ক না থাকায় মালবাহী ট্রাক, পিকআপ, অটোরিকশাসহ বিভিন্ন যানবাহন ঝুঁকি নিয়ে ওই সরু অংশ দিয়ে চলাচল করছে। এতে পথচারী ও যাত্রীদের মধ্যেও আতঙ্ক বিরাজ করছে।

আরও পড়ুনঃ  সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত এবং CARE Bangladesh এর প্রতিনিধির বরগুনার জাগোনারীর কার্যক্রম পরিদর্শন

স্থানীয় লোকেরা বলেন, খালের তীব্র স্রোতে সড়কের নিচ থেকে মাটি সরে যাওয়ার কারণেই ধসের সৃষ্টি হয়েছে। সড়কের অবশিষ্ট অংশও যেকোনো সময় খালে বিলীন হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করেন তারা।

তালুকদারহাট বাজারের ইজারাদার সোহেল তালুকদার বলেন, ‘সড়কটি ধসে পড়ার অনেক দিন পার হলেও এখনো মেরামতের দৃশ্যমান উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে হলদিয়া ও চাওড়া ইউনিয়নের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়তে পারে।’

 

অটোরিকশাচালক আবুল কালাম বলেন, ‘সড়কের অংশটি খুবই সরু ও ঝুঁকিপূর্ণ। প্রতিদিন প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে গাড়ি চালাতে হচ্ছে। সামান্য অসাবধানতাতেই বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।’
একটি নতুন করে সংস্কার করা সড়কের বড় অংশ অল্প সময়ের মধ্যেই ধসে পড়ার ঘটনায় তাই শুধু পুনরায় মেরামত করাই যথেষ্ট নয়। সরকারি অর্থে বাস্তবায়িত প্রকল্পটির পুরো প্রক্রিয়া যাচাই করে প্রকৃত কারণ ও দায় নির্ধারণ করা জরুরি। একই সঙ্গে কার্যাদেশের সঙ্গে বাস্তব কাজের মিল, সাব-কন্ট্রাক্টের বৈধতা, নির্মাণসামগ্রীর মান, সড়কের ভিত্তি নির্মাণ এবং প্রকৌশলীদের তদারকি সবকিছু তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

আরও পড়ুনঃ  টাঙ্গাইলের নাগরপুরে ৬'বছরের শিশু ধর্ষণ মামলার আসামী গ্রেফতার করেছে এসআরবি

এ ব্যপারে আমতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, বিষয়টি জানার পর সরেজমিনে পরিদর্শন করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উপজেলা প্রকৌশলীকে বলা হয়েছে।