Dhaka ০৪:৩৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সালথায় প্রস্তুতি সভা ​সেনবাগে অটোরিকশা চালকের রহস্যজনক মৃত্যু শিবচরে আধুনিক ৪তলা ডাকবাংলো ভবনের শুভ উদ্বোধন ও মহিলাদের মাঝে সনদ-আর্থিক সহায়তা প্রদান প্লাস্টিক ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি পদে প্রার্থী ফায়সাল হোসেন রবিউল দেবীগঞ্জে মসজিদে সিজদায় থাকা অবস্থায় জামায়াত কর্মীর মৃত্যু সালথা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন: যুবলীগের পদ অস্বীকার ইসলামী আন্দোলন নেতার কাপাসিয়ায়  এমপি’র প্রচেষ্টায় ৫০ জন অসহায় প্রতিবন্ধীর মাঝে হুইলচেয়ার বিতরণ সালথায় পূজামণ্ডপের ১৫০ ফুট রাস্তা নির্মাণ, প্রশংসায় যুবদল নেতা এনায়েত হোসেন নাগরপুরে হত্যা মামলার পলাতক আসামি গ্রেফতার করেছে এসআরবি সরকারিভাবে নিবন্ধিত হলো “বাংলাদেশ ডিজিটাল সার্ভেয়ার ও আমিন সমিতি”

বরগুনা জেলা রেজিস্ট্রারের কার্যালয়ে ছুটির দিনে বালাম নিয়ে কাজ, তথ্য সংগ্রহের সাংবাদিকগন হেনস্থা

  • মেজবাহ মাসুম :
  • আপডেটের সময়: ০৫:০৬:৩৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৬
  • ১১৮ সময় দেখুন

শনিবার (৮ আগস্ট) বেলা পৌনে ১২টার দিকে বরগুনা পৌর শহরের পুরান থানা এলাকার বরগুনা জেলা রেজিস্ট্রারের কার্যালয়ে ছুটির দিনে বালাম নিয়ে কাজ চলছিলো। তথ্য সংগ্রহের জন্য সাংবাদিকগন সেখানে হেনস্থার স্বীকার হন।

জানা যায় দৈনিক কালবেলার বরগুনা জেলা প্রতিনিধি আসাদ সবুজের ভাষ্য, গোপন সূত্রে তিনি জানতে পারেন, সরকারি ছুটির দিনে জেলা সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে কিছু কার্যক্রম চলছে। বিষয়টি জানতে তিনি বৈশাখী টেলিভিশনের বরগুনা প্রতিনিধি রাসেল শিকদার, বাংলা ট্রিবিউনের প্রতিনিধি ইব্রাহিম সোহেল, দৈনিক আমার সংবাদের প্রতিনিধি কাশেম হাওলাদার এবং দৈনিক ঢাকা নিউজের প্রতিনিধি জুলহাস মিয়াকে সঙ্গে নিয়ে কার্যালয়ে যান।

আরও পড়ুনঃ  নাতনীকে বিয়ের চার বছর পর হত্যা, জনতার হাতে আটক স্বামী

সাংবাদিকেরা সেখানে গিয়ে কার্যালয়ের কেচি গেট খোলা দেখতে পান। পরে তাঁরা ভবনের তৃতীয় তলায় নকলখানায় যান। তাঁদের দাবি, সেখানে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পাওয়া প্রায় ২৫ থেকে ৩০ জনকে বালাম ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র নিয়ে কাজ করতে দেখা যায়।

এ সময় সাংবাদিকেরা জেলা রেজিস্ট্রার স্বদেশ চন্দ চন্দ্রের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বলেন। সাংবাদিকদের কাছে তিনি জানান, ছুটির দিনে কার্যালয়ে বালাম নিয়ে কাজ হওয়ার বিষয়ে তিনি অবগত নন।

পরে সাংবাদিকেরা ঘটনাটি ভিডিও ধারণ শুরু করলে সদর উপজেলার এজলাসে মাস্টাররোলে কর্মরত বাশার খান সেখানে গিয়ে ভিডিও ধারণে বাধা দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। তিনি নিজেকে জেলা ছাত্রদলের সহসম্পাদক হিসেবে পরিচয় দেন বলেও সাংবাদিকেরা জানান।

আরও পড়ুনঃ  বাহুবলে দুর্ধর্ষ কাভার্ডভ্যান ছিনতাই, ৪ জন গ্রেপ্তার

সাংবাদিকদের অভিযোগ, বাশার খান তাঁদের একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের অনুসারী ও চাঁদাবাজ হিসেবে আখ্যায়িত করার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে তিনি হুমকি-ধমকি দেন এবং মারধরের চেষ্টা করেন। পরে কার্যালয়ে কর্মরত কয়েকজন ব্যক্তি তাঁকে আচরণ সংযত করতে বলেন।

এদিকে নকলখানার রেকর্ড কিপারের কাছে সাংবাদিকেরা জানতে চান, সরকারি ছুটির দিনে বালাম নিয়ে এভাবে কাজ করা নিয়ম অনুযায়ী হচ্ছে কি না। সাংবাদিকদের দাবি, রেকর্ড কিপার বিষয়টি অনিয়ম হিসেবে স্বীকার করেন।

আরও পড়ুনঃ  নাগরপুরে সহবতপুর ইউনিয়নে জামায়াতের চেয়ারম্যান প্রার্থী মো.রফিকুল ইসলাম

জেলা রেজিস্ট্রার স্বদেশ চন্দ চন্দ্র বলেন, সরকারি ছুটির দিনে বালাম নিয়ে কাজ করার অনুমতি দেওয়ার এখতিয়ার তাঁর নেই। তিনি বলেন, বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখছেন। তাঁর ভাষ্য, অনুমোদন ছাড়া কোনোভাবেই সরকারি ছুটির দিনে বালাম নিয়ে কাজ করার সুযোগ নেই।

ঘটনার বিষয়ে সাংবাদিকেরা পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা ও তাঁদের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগ করেছেন। সরকারি ছুটির দিনে কার্যালয়ে বালাম নিয়ে কাজ করার বিষয়টি নিয়েও তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার হবে বলে জানান।

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সালথায় প্রস্তুতি সভা

বরগুনা জেলা রেজিস্ট্রারের কার্যালয়ে ছুটির দিনে বালাম নিয়ে কাজ, তথ্য সংগ্রহের সাংবাদিকগন হেনস্থা

আপডেটের সময়: ০৫:০৬:৩৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৬

শনিবার (৮ আগস্ট) বেলা পৌনে ১২টার দিকে বরগুনা পৌর শহরের পুরান থানা এলাকার বরগুনা জেলা রেজিস্ট্রারের কার্যালয়ে ছুটির দিনে বালাম নিয়ে কাজ চলছিলো। তথ্য সংগ্রহের জন্য সাংবাদিকগন সেখানে হেনস্থার স্বীকার হন।

জানা যায় দৈনিক কালবেলার বরগুনা জেলা প্রতিনিধি আসাদ সবুজের ভাষ্য, গোপন সূত্রে তিনি জানতে পারেন, সরকারি ছুটির দিনে জেলা সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে কিছু কার্যক্রম চলছে। বিষয়টি জানতে তিনি বৈশাখী টেলিভিশনের বরগুনা প্রতিনিধি রাসেল শিকদার, বাংলা ট্রিবিউনের প্রতিনিধি ইব্রাহিম সোহেল, দৈনিক আমার সংবাদের প্রতিনিধি কাশেম হাওলাদার এবং দৈনিক ঢাকা নিউজের প্রতিনিধি জুলহাস মিয়াকে সঙ্গে নিয়ে কার্যালয়ে যান।

আরও পড়ুনঃ  বাহুবলে দুর্ধর্ষ কাভার্ডভ্যান ছিনতাই, ৪ জন গ্রেপ্তার

সাংবাদিকেরা সেখানে গিয়ে কার্যালয়ের কেচি গেট খোলা দেখতে পান। পরে তাঁরা ভবনের তৃতীয় তলায় নকলখানায় যান। তাঁদের দাবি, সেখানে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পাওয়া প্রায় ২৫ থেকে ৩০ জনকে বালাম ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র নিয়ে কাজ করতে দেখা যায়।

এ সময় সাংবাদিকেরা জেলা রেজিস্ট্রার স্বদেশ চন্দ চন্দ্রের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বলেন। সাংবাদিকদের কাছে তিনি জানান, ছুটির দিনে কার্যালয়ে বালাম নিয়ে কাজ হওয়ার বিষয়ে তিনি অবগত নন।

পরে সাংবাদিকেরা ঘটনাটি ভিডিও ধারণ শুরু করলে সদর উপজেলার এজলাসে মাস্টাররোলে কর্মরত বাশার খান সেখানে গিয়ে ভিডিও ধারণে বাধা দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। তিনি নিজেকে জেলা ছাত্রদলের সহসম্পাদক হিসেবে পরিচয় দেন বলেও সাংবাদিকেরা জানান।

আরও পড়ুনঃ  সরকারিভাবে নিবন্ধিত হলো “বাংলাদেশ ডিজিটাল সার্ভেয়ার ও আমিন সমিতি”

সাংবাদিকদের অভিযোগ, বাশার খান তাঁদের একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের অনুসারী ও চাঁদাবাজ হিসেবে আখ্যায়িত করার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে তিনি হুমকি-ধমকি দেন এবং মারধরের চেষ্টা করেন। পরে কার্যালয়ে কর্মরত কয়েকজন ব্যক্তি তাঁকে আচরণ সংযত করতে বলেন।

এদিকে নকলখানার রেকর্ড কিপারের কাছে সাংবাদিকেরা জানতে চান, সরকারি ছুটির দিনে বালাম নিয়ে এভাবে কাজ করা নিয়ম অনুযায়ী হচ্ছে কি না। সাংবাদিকদের দাবি, রেকর্ড কিপার বিষয়টি অনিয়ম হিসেবে স্বীকার করেন।

আরও পড়ুনঃ  সরকারী নিষেধাজ্ঞা কে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে শিবচরের পদ্মায় চলছে মা ইলিশ শিকার, পাড়ে বসছে অস্থায়ী হাট

জেলা রেজিস্ট্রার স্বদেশ চন্দ চন্দ্র বলেন, সরকারি ছুটির দিনে বালাম নিয়ে কাজ করার অনুমতি দেওয়ার এখতিয়ার তাঁর নেই। তিনি বলেন, বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখছেন। তাঁর ভাষ্য, অনুমোদন ছাড়া কোনোভাবেই সরকারি ছুটির দিনে বালাম নিয়ে কাজ করার সুযোগ নেই।

ঘটনার বিষয়ে সাংবাদিকেরা পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা ও তাঁদের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগ করেছেন। সরকারি ছুটির দিনে কার্যালয়ে বালাম নিয়ে কাজ করার বিষয়টি নিয়েও তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার হবে বলে জানান।