
নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার সবচেয়ে ব্যস্ততম বাণিজ্যিক কেন্দ্র ‘সেনবাগ বাজার’ এখন ফুটপাত দখল আর যানবাহনের অবৈধ স্ট্যান্ডে জিম্মি হয়ে পড়েছে। এর ফলে বাজারে আসা হাজারো সাধারণ পথচারী চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। মানুষের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন চলাচলের জন্য নির্মিত ফুটপাতগুলো এখন স্থানীয় ব্যবসায়ীদের পণ্য প্রদর্শনের শোরুম এবং সিএনজি-অটোরিকশার অস্থায়ী স্ট্যান্ডে পরিণত হয়েছে।
সরেজমিনে বাজার এলাকা ঘুরে দেখা যায়, সেনবাগ বাজারের প্রধান সড়কের পাশে পয়োনিষ্কাশনের ড্রেনের ওপর স্লাব বসিয়ে পথচারীদের হাঁটার জন্য ফুটপাত নির্মাণ করেছিল কর্তৃপক্ষ। কিন্তু সাধারণ মানুষের সেই ফুটপাত এখন চলে গেছে প্রভাবশালী দোকানদারদের দখলে। অধিকাংশ দোকানি তাদের দোকানের মালামাল, নির্মাণসামগ্রী ও বিবিধ পণ্য ফুটপাতের ওপর সাজিয়ে রেখেছেন। ফলে পথচারীদের স্বাভাবিকভাবে হাঁটার ন্যূনতম সুযোগটুকুও আর অবশিষ্ট নেই।
ফুটপাত বেদখল হওয়ার পাশাপাশি বাজারের গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও পয়েন্টগুলো দখল করে দাঁড়িয়ে থাকে সিএনজি অটোরিকশা এবং ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক। কোনো সুনির্দিষ্ট স্ট্যান্ড না থাকায় চালকরা সড়কের ওপরই গাড়ি পার্কিং করে যাত্রী ওঠানামা করাচ্ছেন।
ফুটপাতে জায়গা না থাকায় নিরুপায় হয়ে নারী, শিশু, বৃদ্ধ ও স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মূল সড়ক দিয়ে চলাচল করছেন। ব্যস্ততম এই সড়কে দ্রুতগতির যানবাহনের ধাক্কায় প্রতিনিয়ত ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব দুর্ঘটনায় অনেকেই গুরুতর আহত হয়ে দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক পঙ্গুত্ব বা ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
স্থানীয় এক ভুক্তভোগী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন:
“ফুটপাত মানুষের হাঁটার অধিকার। কিন্তু সেনবাগ বাজারে সেই অধিকার এখন ব্যবসায়ীদের কব্জায়। প্রশাসন মাঝে মাঝে এসে জরিমানা করে যায়, কিন্তু তারা চলে যাওয়ার কয়েক ঘণ্টা পরই পরিস্থিতি আবার আগের মতো হয়ে যায়। আমরা এর স্থায়ী সমাধান চাই।”
স্থানীয় বাসিন্দা ও সাধারণ ব্যবসায়ীদের একাংশের দাবি—উপজেলা প্রশাসন মাঝে মধ্যে এখানে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ঠিকই, কিন্তু ফুটপাত স্থায়ীভাবে দখলমুক্ত রাখার কোনো কার্যকর উদ্যোগ চোখে পড়ে না। নিয়মিত মনিটরিং ও কঠোর আইনি পদক্ষেপের অভাব থাকায় উচ্ছেদ অভিযানের দু-একদিনের মধ্যেই ফুটপাতগুলো আবারও পূর্বের অবস্থায় ফিরে যায়।
পৌর এলাকার সচেতন মহলের মতে, সেনবাগ বাজারে নিরাপদ ও যানজটমুক্ত পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে হলে কেবল উচ্ছেদ করলেই হবে না। এর জন্য প্রয়োজন:
নিয়মিত মনিটরিং: প্রশাসন ও পৌর কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে প্রতিদিন নজরদারির ব্যবস্থা করা।
কঠোর আইনি ব্যবস্থা: বারবার আইন অমান্যকারী দখলদারদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও লাইসেন্স বাতিল করা।
নির্দিষ্ট টার্মিনাল: সিএনজি ও অটোরিকশার জন্য বাজারের বাইরে নির্দিষ্ট স্ট্যান্ডের জায়গা নির্ধারণ করা।
সেনবাগ বাজারের এই তীব্র জনদুর্ভোগের অবসান ঘটাতে এবং সড়কে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন, পৌর কর্তৃপক্ষ, বাজার ব্যবসায়ী সমিতি ও পরিবহন সংশ্লিষ্টদের সমন্বিত উদ্যোগ এখন সময়ের দাবি। অতি দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে জনসাধারণের চলাচলের উপযোগী পরিবেশ ফিরিয়ে দেওয়া হবে—এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয় বাসিন্দাদের।
মো: মিজানুর রহমান সুমন, সেনবাগ (নোয়াখালী) প্রতিনিধি : 








