১৯৮৬ সালে প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাসের মাধ্যমে ২১নং টুমচর ইউনিয়নসহ আশপাশের কয়েকটি ইউনিয়নকে জনগণের মতামত উপেক্ষা করে প্রায় ২০-২৫ কিলোমিটার দূরের রায়পুর-০২ আসনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। দীর্ঘ চার দশকেও এ এলাকাবাসী সেই অযৌক্তিক ও বৈষম্যমূলক সিদ্ধান্তের ফলে নানা ভোগান্তি ও উন্নয়ন বঞ্চনার শিকার হয়ে আসছে।
এই ইউনিয়নের আপামর জনগণ বারবার দাবি জানিয়ে আসছেন, যেন তাদের পুনরায় নিকটবর্তী লক্ষ্মীপুর সদর-০৩ আসনের সঙ্গে যুক্ত করা হয়। সম্প্রতি ইউনিয়নবাসীর পক্ষে বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও নাগরিক সংগঠন এ বিষয়ে নতুন করে সোচ্চার হয়ে উঠেছে।
কেন এই দাবি যুক্তিসঙ্গত?
উন্নয়নমূলক কার্যক্রমে অগ্রাধিকার:
সদরভুক্ত আসনগুলোতে উন্নয়নের জন্য বেশি বাজেট বরাদ্দ থাকে। ফলে টুমচরের রাস্তাঘাট, ড্রেনেজ, বিদ্যুৎ, খেলার মাঠসহ নানা অবকাঠামোগত উন্নয়ন বাস্তবায়ন সহজ হবে।
যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত হবে:
রায়পুরের দূরত্ব ও যাতায়াত জটিলতার কারণে জনগণ সংসদ সদস্য ও প্রশাসনের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করতে পারে না। সদরভুক্ত হলে বাস, সিএনজি, কৃষিপণ্য পরিবহন, ব্যবসা-বাণিজ্যসহ সর্বত্র গতিশীলতা আসবে।
রাজনৈতিক গুরুত্ব ও সেবা প্রাপ্তি বাড়বে:
সদরের এমপিরা সাধারণত মন্ত্রিসভায় প্রভাবশালী হওয়ায় তাদের মাধ্যমে এলাকার সমস্যাগুলো জাতীয় পর্যায়ে দ্রুত পৌঁছে যায়। প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক অগ্রাধিকার বাড়ে।
স্বাস্থ্য ও শিক্ষায় অগ্রগতি:
সদরের আধুনিক হাসপাতাল, নার্সিং ইনস্টিটিউট, কারিগরি ও উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো সহজলভ্য হবে টুমচরবাসীর জন্য।
ডিজিটাল ও প্রশাসনিক সেবা:
সদরের সঙ্গে সংযুক্ত থাকলে ভূমি অফিস, সমাজসেবা অফিস, জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে সহজেই সেবা পাওয়া যাবে। ই-সেবা, নাগরিক সনদ, জন্মনিবন্ধনসহ ডিজিটাল পরিষেবাও হবে সুলভ।
অর্থনৈতিক সম্ভাবনা বাড়বে:
ব্যাংক, এনজিও, মার্কেট, ট্রেনিং সেন্টার ও বিভিন্ন কর্মসংস্থান প্রকল্প সদর এলাকায় বেশি থাকে। ফলে তরুণদের জন্য আত্মকর্মসংস্থানের নতুন দরজা খুলবে।
জনগণের পক্ষ থেকে আহ্বান:
২১নং টুমচর ইউনিয়নসহ সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নবাসীর পক্ষে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, নির্বাচন কমিশন ও জনপ্রতিনিধিদের কাছে জোর দাবি জানানো হচ্ছে—
অবিলম্বে এই ইউনিয়নগুলোকে জনগণের দাবির ভিত্তিতে লক্ষ্মীপুর সদর-০৩ আসনের সঙ্গে পুনরায় সংযুক্ত করা হোক।
এই সংযুক্তি বাস্তবায়ন হলে উন্নয়ন, সেবা, প্রশাসন ও রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বে একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে — যা সরাসরি জনগণের জীবনমান উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে।